somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভালোবাসার গল্প

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটির নাম আনন্দ। এই নামটি তার মা রেখেছিল। হয়ত এই ভেবে যে, মেয়েটির জীবন আনন্দময় হবে, কিন্তু মেয়েটির জীবনে কেন জানি কোনো আনন্দ ই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবুও মেয়েটির জীবন চলছিলো, স্রোত বিহীন নদীর মত। হঠাৎ সেই নদী তে জোয়ার এল, ভালোবাসার জোয়ার, কিন্তু আবার তা হারিয়েও গেল, কোন সুদূরে।

ধরা যাক, মেয়েটি যে স্কুলে পড়ে, তার নাম "ম" হাই স্কুল। আন্ত: স্কুল কুইজ প্রতিযোগিতায় মেয়েটি স্কুল থেকে কুইজ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ৩ জনের টিম। টিম লীডার, দশম শ্রেণীর সবচেয়ে ভালো ছাত্র নেহাল। ও, বলা হ্য়নি, মেয়েটি নবম শ্রেণীর ছাত্রী। টীমের থার্ড মেম্বার মেয়েটির সহপাঠিনী, মিতুল। ভালো ভাবেই প্রস্তুতি চলছিলো। অথচ, কুইজের আগের দিন, হঠাৎ করেই নেহাল অসুস্থ হয়ে পড়ল। মিতুল আর আনন্দ কুইজ ভেন্যুতে এসে সে এই কথা ভেবে অবাক হচ্ছিল, কে তাহলে নতুন মেম্বার হিসেবে আসবে। এই প্রতিযোগিতায় জেতা ওদের জন্য খুব গুরূত্বপূর্ণ। কেননা ওরা ই হোস্ট স্কুল। অথচ ওরা এখনো জানে না, নতুন সহপ্রতিযোগী কে। অনুস্ঠানের ঠিক দশ মিনিট আগে লম্বামত এক ছেলে এসে বললো, আমি কি খুব দেরি করে ফেলেছি? আমি অন্তর।

আনন্দ খুব অবাক হয়ে গেলো। কেননা, ছেলেটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুস্ঠানে অনেক দেরি করেছে। কিছুটা বিরক্ত বোধ করল ও। যাহোক ছেলেটি সিনিয়র হতে পারে ভেবে, আনন্দ কিছু বললো না। অনুস্ঠান শুরু হয়ে গেল। ওরা ভালোই করছিলো। কিন্তু শেষের দিকে, কেন জানি Buzzer Round এ সমন্বয়হীনতার অভাবে ওরা ভালো স্কোর করতে পারছিল না। এখন লাস্ট Round এ ভালো না করতে পারলে, টীম ফাইনালে কোয়ালিফাই করবে না। কিন্তু শেষ Round মাইথোলজি Round। এ রাউন্ডে আনন্দ আর নেহাল ভাই ভরসা। অথচ নেহাল ভাই নাই। তাই আনন্দ খুব প্রেশার ফিল করছিলো। অথচ, নতুন ছেলেটির কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই!

অবশেষে মাইথোলজি Round শেষ হল। খুব ভালোভাবেই ওরা ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে। প্রথমে আনন্দ ভালোভাবেই উত্তর দিচ্ছিল। কিন্তু শেষে, যখন ও আটকে গেলো, ঠিক তখনই অন্তর নামের ছেলেটি সব উত্তর ঠিকঠিক ভাবে দিয়ে দিল।

Lunch Break. ছেলেটি এসে আনন্দের পাশে বসল। বললো:
আপনি খুব ভালো করেছেন, আপু।
ধন্যবাদ।
আনন্দ একটু অবাক হল, ছেলেটি তাকে আপনি করে বলছে বলে। আনন্দ বললো, আপনি কি ক্লাশ টেন "এ" সেকশনের?
ছেলেটি বললো, আমি তো নাইনে পড়ি!
আনন্দ হকচকিয়ে বললো, আমিও তো!
আসলে ছেলে আর মেয়েদের শিফট আলাদা তো, তাই বুঝতে পারি নি, ছেলেটি বললো।
এরপর ছেলেটি গড়গড় করে অনেক কথা বলে গেলো, আনন্দ অবাক হয়ে শুনছিলো। ফাইনাল পরদিন হওয়ায়, Lunch Break এর পর আর কোনো কাজ ছিল না। কখন যে অনুস্ঠানের সময় শেষ হয়ে এল বুঝতেই পারে নি। হঠাৎ ছেলেটি বললো, কাল কিন্তু আমি আসব না। নেহাল ভাই আসবে। আনন্দর কেনো জানি একটু মন খারাপ হল। সে বললো, আমি কি তোমার ফোন নম্বর পেতে পারি? ছেলেটি বললো, হ্যা; কিন্তু আমার কাছে যে কোন কাগজ নেই। আনন্দ ও খেয়াল করল, ও নিজেও আজ কোনো কাগজ বা খাতা আনেনি। ছেলেটি হঠাৎ বললো, তোমার হাত দাও। হাতে লিখে দেই।

আনন্দ খানিকটা অজান্তেই হাত বাড়িয়ে দিল...।


(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:২২
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×