
আমাদের রাজনীতিবিদদের সব সময় দুটি চরিত্র থাকে। তারা মুখে যা বলেন কাজে তা পরিনত করেন না। মুখে প্রতিশ্র“তি দেন অনেক কাজে পরিনত করেন খুবই অল্প। তার মানে আমাদের রাজনীতিবিদদের দুটি চরিত্র আছে। একটি উপরদিকের অন্যটি ভিরদিকের। উপরদিকের চরিত্র সবাই দেখে কিন্তু ভিতরদিকের চরিত্র সবাই দেখে না। এসব কথার মারপ্যাঁচ কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই ধরতে পারেন। অধিকাংশ লোকই তা বুঝে না। তারা রাজনীতিবিদদের কথার ফুলঝুরিতে বুদ হয়ে যান। তন্ময় হয়ে তাদের বক্তব্য শুনেন। ভাবেন, লোকটি কত্ত ভালো লোক। এ রকম ভালো লোকেরই রাজনীতি করা উচিত। তাই বলে ভালো লোক যে, রাজনীতিতে আসে না তা নয়। ভালো লোক রাজনীতিতে আসে বটে তবে রাজনীতির মাঠে সে বেশিদিন টিকতে পারে না।
নির্বাচন আসলে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেড়ে যায়। অনেক আত্নগোপনে থাকা নেতা বেরিয়ে আসেন। সাপের মতো গর্ত থেকে বের হন। অনেক হাইব্রিড নেতা তৈরী হয়। ঈদ, নববর্ষকে সামনে রেখে এরা মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। ল্য একটাই নির্বাচনে জয়ী হওয়া। তখন এদের মুখে কথার ফুলঝুরি থাকে। প্রতিশ্র“তি দিতে এরা কার্পণ্য করে না। এদের গোমড়া মুখে তখন হাসি লেগে থাকে। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে রাতদিন নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তারা সবকিছু ভুলে যান। জনগণের জন্য আগের মত সে আন্তরিকতা আর দেখান না। দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচন আর পৌরসভা নির্বাচনে নবীণ প্রবীণ অনেক নেতা চেয়ারম্যান হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। কাকে মেরে কে জিতবে এই ফন্দি ফিকির করে তাদের দিন কাটছে। প্রয়োজনে প্রতিপকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতেও তারা প্রস্তুত। মতার নেশা এমন নেশা যে, এটা আফিমের মতই কাজ করে। এ নেশায় মানুষ যে বিবেক বর্জিত হয় এটা তার প্রমাণ।
হাতির দাঁত দেখে মানুষ ভয় পায়। রাজনীতিবিদদের কথার ফুলঝুরিতে মানুষ বুদ হয়ে যায়। হাতি উপরের দাঁত শুধু দেখানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে। রাজনীতিবিদরা বক্তৃতার মধ্য দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেয়। তাই হাতির দাঁতের মতই রাজনীতিবিদদের মিথ্যা প্রতিশ্র“তি থেকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার, নির্যাতন করার, শোষণ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই রাজনীতি। হাতির দাঁতের মতই রাজনীতিবিদদের থেকে সাবধানে থাকা ভালো।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




