
“ছোট্ট একটি মেয়ে।
ধরুন আপনার নিজের মেয়ে বা বোনই। পনেরো কিংবা ষোলো বছর বয়স। আপনার পরিবারের হাসি-আনন্দ সে। সুখের প্রজাপতি হয়ে সে সারাদিন সুখ বিলি করে এখানে ওখানে। সে আপনার খুব আদরের , অনেক ভালোবাসেন থাকে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাকৃতিক বা সামাজিক কারণেই হোক একদিন আপনার ঘরের সুখের প্রজাপতি টাকে অন্য কারো ঘরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতেই হবে। কষ্ট হলেও সামাজিক নিয়ম মেনে নিয়ে ছোট বোন বা মেয়েটিকে ঠিকই অন্য কারো ঘরে পাঠাবেন। আর আপনার একমাত্র চাওয়া হবে যেন- সর্বঅবস্থায় আপনার আদরের বোন বা মেয়েটি ভালো থাকে, সুখে থাকে।
এটা স্বাভাবিক।
এই স্বাভাবিক চাওয়াটা কারো কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই পূরণ হয় আবার কারো কারো জন্য অস্বাভাবিক চাপা কষ্টে জন্ম দেয়। আপনার ঘরের সুখের প্রজাপতি টার সাথে যদি তার নতুন শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তেলাপোকার মত আচারণ করে- নিশ্চয় আপনার অনেক খারাপ লাগবে। ফোনের অন্যপাশ থেকে আদরের ছোট বোনটির চাপা কান্না শুনে যখন বলবেন কী হয়েছেরে বোন? তখন আপনার খুব কষ্ট হবে না! খুবই কষ্ট হবে- যখন সে ক্লান্ত গলায় কেঁদে কেঁদে বলবে; নাহ কি হবে, কিছু হয় নাই বলে ফোনটা কেটে দিবে। কি হয়েছে আপনার বুঝার বাকি থাকবে না কিন্তু তারপরও কিছু বলতে বা করতে পারবেন না। কখনও কখনও এর চেয়ে বেশি কষ্টে থাকবে সে, নতুন মানুষগুলোর অদ্ভুত আচারণ, শ্বশুড় শাশুড়ীর দূর্ব্যবহার আর নির্যাতন তার কোমল হৃদয়টা ভেঙে দিবে। সে দুমরে মুচরে কাঁদবে সারাটা দিন। আপনারা শহ্য আর ধৈর্যের চরম পরিক্ষা দিবেন, কিছুই বলতে পারবেন না- পাছে তার নতুন সংসারে একটা ফাটল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি খুবই যন্ত্রণার। না যায় কিছু বলা, না যায় শহ্য করা। কিন্তু এর শেষ পরিনতি কেমন হবে??
বসে বসে শুধু আফসোসই করবো? নাকি কিছু করার জন্য উদ্যোগ নিবো, যাতে আপনার বা আমার বোনের মতো সমাজের আরো আট-দশটা মেয়েকে চাপা কষ্টে দুমরে দুমরে কাঁদতে না হয়? আজকে সংসারে নতুন সদস্য হিসেবে নানা কাজে তার সব সময় স্বাগতম, সাহায্য সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিলো। বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশের অধিকার থাকার কথা ছিলো। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি- সেই সব তরুণী মেয়ের নতুন সংসারে গিয়ে নিদারূন নির্যাতণ সহ্য করতে হচ্ছে..
আর নারীবাদি সংগঠন গুলোর তেলে মাথায় তেল দেওয়ার মতো আচারণ দেখে একটু কষ্ট হচ্চে। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সত্যি কিছু করার ইচ্ছে থাকলে গ্রাম অঞ্চলে আসেন।এটা আমার গ্রামের দৃশ্যপট, পারলে এনব নারীদের জন্য কিছু কাজ করেন
আজকে শহরাঞ্চলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা হলেও। প্রত্যান্ত গ্রমাঞ্চলের চিত্র তেমন একটা বদলায় নি। আজকে গ্রামের প্রায় মেয়েই শ্বশুড়বাড়িতে গিয়ে জীবনের স্বাদ, হাসি, আনন্দ ভুলে যায়। হারিয়ে ফেলে জীবন নিয়ে তার যত স্বপ্ন!প্রতিটি সময়ে ছোট্ট মেয়েটিকে মানসিক চাপে থাকতে হয়-না জানি কোন কথা, কোন কাজের ভুল ধরে তার গুষ্টিসহ উদ্ধার করে! তাই বলতেই হচ্ছে গ্রামে নারীদের শারীরিক নির্যাতনের ধরন বদলে মানসিক নির্যাতন হচ্ছে এই আরকি।এর শেষ কোথায়?
আমাদের বর্তমান সরকার নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় খুবই সচেতন। তাই গ্রামাঞ্চলেও তার সুনজর এবং কার্যকরী উদ্যোগের প্রত্যাশা করি।সেই সাথে.।
নারীর অধিকার রক্ষায় কাজকরা সংগঠন গুলোকে আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি গ্রামাঞ্চলের নারীদেরকে জন্য কাজ করার।
সেই সাথে সমাজ বদলে দেয়া উদ্যোমি তরুণদেরও কাজ করার আহ্বান করছি...
আমি কাজ করবো নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায়, আর আপনাদেরকেও সাধুবাদ জানাচ্ছি।
হাবিব রহমান
নবাবগঞ্জ, ঢাকা।
ফেসবুকে আমি>view this linkview this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

