somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মো:হাবিবুর রহমান(হাবিব)
এই যাদুর ঢাকার শহরে মাঝে মাঝেখুব একাকিত্ব গ্রাস করে আমায়।।একঘেয়ে পৃথিবীর প্রান্তরে বেদনার নীল জলে নিজেকে ডুবিয়ে-ভাবি, কোনদিন আমিও কি #মহেশ গল্পের #গফুর হবো।

নিজের ভেতর নিজেই অচেনা, তবে দুনিয়া চিনবে কেমনে??

২২ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি বই পড়েছি, বইয়ের কথাগুলো আমাকে দারূণ ভাবে প্রভাবিত করেছে।
এই প্রথম ৫২৭ পৃষ্ঠার একটি বই, প্রথম লাইন থেকে শেষ লাইন অবধি পড়ে শেষ করেছি! নিজের কাছে নিজেরে কেমন জানি ধৈর্যশীলদের তালিকাভুক্ত করতে ইচ্ছে করছে ।কিন্তু আমি জানি আমি সেটা না। বইটির কথাগুলো যে আমাকে আমাকে শুধু প্রভাবিত করেছে তা না, এর কথাগুলো আমাকে টেনে নিয়ে গেছে। এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে। এক গল্প থেকে আরেক গল্পে। একজন লেখক জীবনকে অক্ষর দিয়ে এতো জীবন্ত করে তুলে কিভাবে!

মাথার ভেতর ঘুড়পাক খাচ্ছিলো, হাটতে হাটতে রাস্তায় বের হলাম। উদ্যেশহীণ ভাবে হাটছি, একে বারে যে উদ্দেশ্যহীণ হাটছি তেমন না, মাঝে মাঝে এমন হয় না? কেউ জিজ্ঞাস করলো কোথায় যাচ্ছ? উত্তর হলো ‘না কোথাও যাচ্ছি না’, অথচ আমি যাচ্ছি!

হাটতে হাটতে ফজলুল হক হলের ভেতর দিয়ে দোয়েল চত্তর চক্কর দিয়ে এসে দাঁড়ালাম পুকুর পাড়ে। হাটতে হাটতে খেয়াল করছি কার্জন হলের বাড়ান্দায়, সিড়িতে, সবুজ গাসে জোড়ায় জোড়ায় জনগন বসে আছে। গুরুত্বপূর্ণ কোন আলোচনা তারা করছে কিনা জানি না, তবে একে অপরের কথায় তাদের গভির মনোযোগ দেখে খুব বেশিই গুরুত্বপূর্ণই মনে হয়েছে। আসলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মনোযোগ টা খুব বেশি দরকার।

রাতের অন্ধকার আর ড্রিম লাইটের আলো একটা ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে পুকুর পাড়ে। ড্রিম লাইটের আলো না হয়ে, চাঁদের আলো হলে এই পরিবেশটা আরো বেশি কাছে টানতো পুকুড় পাড়ে স্টার্ন্ডাড ডেভিয়েশন বজায় রাখা জনগনদের। সূর্যের থাকে তেজ, তাই একে মেল ধরা হয়। আর চাঁদকে ধরা হয় ফিমেল, এর জোসনা কেমন মায়া লাগানো, নরম কোয়াশার মতো, তুলতুলে। বইটা আমাকে পেয়ে বসেছে, একটা নস্টালজিয়ায় পেয়ে বসেছে।

ঢাকার শহরে আমার পছন্দের একটি জায়গা এই ফজলুল হক হলের পুকুড় টা! এই পুকুড় সম্পর্কে অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য আছে, অনেক গুলো মানুষ নাকি এখানে ডুবে মারা গেছে। তার পরেও এই পুকুরটা আমার খুব ভালো লাগে, কেন লাগে তা খতিয়ে দেখি নাই। তবে লাগে, পচন্ড রকম একটা মায়া আছে এখানটায়। যারা এখানে ডুবে মারা গেছে তারাও হয়তো এই মায়াকে অগ্রাহ্য করতে পারে নাই, মায়া কে অগ্রাহ্য করা খুব কঠিন।

আমি দাঁড়িয়ে আছি একা। একা অর্থে একা না, আশে পাশে অনেক মানুষ আছে আমি তাদের কাউকে চিনি না, সেই অর্থে একা । কারো খুব আপনজন কেউ মারা গেলে সে কান্নাকাটি করে, আমারে এই পৃথিবীতে একা রেখে তুমি চলে গেলা! অথচ এই পৃথবীতে সাতশো কোটি প্লাস মানুষ আছে, সেই অর্থে একা।
একা একা দাঁড়িয়ে আমার গল্প করতে ইচ্ছে হচ্ছে, নিজের সাথে গল্প। আচ্ছা নিজের সাথে গল্প করা যায়? আমি কেমন যেন ইংরেজী ভাষায় নিজের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি, অনেক সময়ই আমার এমন হয় নিজের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হয়। তবে ইংরেজীতে! কারণটা আমি কয়েকদিন আগে ধরতে পেরেছি, ইউনিভারসিটিতে সব কোর্স পড়তে হয় ইংরেজীতে, পরিক্ষা, ভাইবা সব দিতে হয় ইংরেজীতে। তাই ইংরেজী ভালো বলতে না পারলে উপায় নাই। এই নিরুপায় জিনিসটা আমাকে খুব তাড়া করে, এই নিরুপায়ের তারণায় অবচেতন মনেই নিজের সাথে নিজে ইংরেজীতে কথা বলি।

হলের ডাইনিং এ লাইন ধরে বসে ছাত্ররা ভাত খাচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছে খুব এখানে খেতে, কিন্তু নিয়মকানুণ জানি না। এখানে বহিরাগতরা খেতে পারে কিনা, কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই পেয়ে যেতাম। কারণ আমি জানি যে পথিক প্রশ্ন করতে জানে সে পথ হারায় না। তবে আমার কেন যেন কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করলো না। চুপচাপ হেটে চলে চললাম, হঠাৎ মনে হলো আমার মনের ভেতর শব্দরা ভিড় করছে, গল্প তৈরি হচ্ছে এখন এই
শব্দগুলোরে ঠিকানা দিতে না পারলে আমাকে গুম করবে, হয়তো একই সাথে খুনও করবে।

ফিরতি হাটা শুরু করলাম রুমের দিকে।

আসার পথে হাজি বিরিয়ানির ঠিক একটু আগে দুনিয়ার সুন্দরতম একটি দৃশ্য দেখলাম। কিছুক্ষণ দেখতেই থাকলাম। চারজন টুকাই ছেলে, ময়লা জড়ানো মাথা, ছেড়া গেন্জি, এর একজনের তো গায়ে কাপড়ই নেই.. রাস্তার পাশের খালি জায়গায় মাটির ভেতর বসে রুটি খাচ্ছে। মাটির উপর একটি পলিথিনের ব্যাগে ডাল ভাজি, আর তাদের ময়লা হাতে দুইটি করে রুটি। তারা রুটি ছিড়ে যখন চারজন একই সাথে পলিথিন থেকে ভাজি নিতে যায় নিতে পারে না। একজন অন্যজনকে সেকরিফাইস করে ভাজি নিতে। আচ্ছা সেকরিফাইসের মানে কি ওরা বুঝে?? কিন্তু ওরা তো করে। আমরা তো সেকরিফাইসের মানে বুঝি, আমরা করি কি!!

বেশ কয়েক মিনিট ওদের এমন তৃপ্তি করে খাওয়া দেখলাম। সন্তুষ্টি দেখলাম, আসলে সন্তুষ্টির মানে কী? বহুদিন ধরে খুঁজতে ছিলাম পাই নাই। আজ না খুঁজেই পেয়ে গেলাম। আমারও মন চাচ্ছিলো, এই রাস্তার টুকাই ছেলেদের সাথে একটি রুটি ভাগ করে খেতে, ওই ভাজির পলিথিনে ওদের চারটি হাতের সাথে আমার হাতটিও যুক্ত করতে। পাচঁটি হাত হতো, আচ্ছা ওরা কি আমাকেও সেকরিফাইক করতো??
অামি তো ওদের পরিচিত না! আমরা তো কেবল যারা পরিচিত ফিরতি পাবার আসায় তাদের জন্য একটু সেকরিফাইস দেখাই! ওরাও কি তাই করতো? আমার কেন যেন মনে হলো, ওরা এটা করতো না, আমি ওদের সাথে খেতে চাইলে ওরা সানন্দে আকাকে রুটি ছিড়ে দিত। হয়তো তারা প্রতিযোগির মতই করতো, কার আগে কে ছিড়ে দেবে রুটি। একটি ভালো কাজ করার প্রতিযোগীতা।

তারপর ওদের এমন করে খাওয়া দেখতে দেখতে মনে হলো, সুখ জিনিসটা কাকে বলে? কোথাথেকে সুখ আসে? আমি কি সুখে আছি? আমার তো সব এবং সবাই আছে, ভালো থাকার কথা, তাহলে সুখে না থাকার তো কোন কারণ নাই। নিজেরে বুঝালাম ভালোই আছি কিন্তু বুকের কোথায় যেন একটা শূন্যতা অনুভব করলাম-

আমার আজকে খুব করে রাস্তার টুকাই এই ছেলে গুলোর দলে মিশে যেতে ইচ্ছে হলো।
সাধারণদের মাঝে এক অতি সাধারণ হয়ে মিশে যেতে। খুব করে মিশে গিয়ে ওদের মতো পথে পথে কুঁড়াতে ইচ্ছে হলো, ওরা খোঁজে বোতল, পেরেক, কৌটা!
আমি না হয়, সুখ খোঁজে বেড়াবো, কুঁড়িয়ে বেড়াবো!
তারপর মনে হলে, আমার অতখানি সাহস এখনও সঞ্চয় হয় নাই। ওই পরিমান সাহস জমাতে হলে আমার আরো এমন বই পড়তে হবে। যেই বই আমাকে টানে, টানতে টানতে পরিচয় করিয়ে দেয়, নিজের সাথে নিজেরে।
ধন্যবাদ লেখক।



হাবিব রহমান।
২১.০৩.২০১৮
ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১২:৫৫
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×