somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মো:হাবিবুর রহমান(হাবিব)
এই যাদুর ঢাকার শহরে মাঝে মাঝেখুব একাকিত্ব গ্রাস করে আমায়।।একঘেয়ে পৃথিবীর প্রান্তরে বেদনার নীল জলে নিজেকে ডুবিয়ে-ভাবি, কোনদিন আমিও কি #মহেশ গল্পের #গফুর হবো।

সময়! এক অমিমাংসিত রহস্য।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়!
জগতের সবচেয়ে বড় অমিমাংসিত একটা রহস্য সৃষ্টিকারি অথবা নিজেই একটা বিরাট রহস্য। সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পের জন্মদাতা অথবা নিজেই অনেকগুলো গল্পের সমষ্টি। ভালো সময়; খারাপ সময়। উত্তেজনার সময়; নিরস সময়; যৌবনের সময়; বার্ধকের সময়। সময়ের আগে-পরে মানুষ আরো কতশত বিশেষণ যে বসায় তা স্বয়ং মানুষও ঠিক জানে না।

৬০ বছরের বৃদ্ধা একবুকের সবটুকু কষ্টযুক্ত বাতাস যাকে আমরা দীর্ঘশ্বাস বলি-বাইরে ঠেলে দিয়ে বলে, আমাদের সময় তো শেষই! এখন হচ্ছে তুমাদের সময়, তুমাদের দাপিয়ে বেড়ানোর সময় শুরু.. আচ্ছা সময়ের আবার শুরু শেষ আছে নাকি? একটা পারফেক্ট বৃত্ত অথবা নিখুঁত একটি গোলকের শুরু শেষ কিভাবে নির্ণয় করা যায়? পারফেক্ট বৃত্ত আর আর নিখুঁত গোলকের প্রত্যেকটা বিন্দুই তো শুরু অথবা শেষ সীমা হবার সামর্থ রাখে!! বিষয়টা ভাবতে ভাবতে মাথার ভেতর একটা ঘুন পোকা জন্মনিছে, ঘুনপোকাটা আমার ভাবনার জগৎ থেকে সমস্ত আপাতত সত্য বিষয়গুলো কেটেকুটে মস্তিস্ক শূন্য করে দিয়েছে।

সময় নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময়ের সাথে একটা সন্ধি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এই যে সময় বছরের পর বছর আমার থেকে কতকিছু নিয়েছে! শৈশবটা চুরি করে কাঁদা জলে ঝাঁপিয়ে খেলার অধিকারটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কৈশোরটা ছিনিয়ে নিয়ে দাপটে বেড়ানোর সুখগুলো চুরি করেছে। তারপর দিয়েছে সময়- চিন্তার বোঝা, দায় আর দায়িত্বের এক অসামাঞ্জসতা, বিদ্যা না থাকলেও বিদ্বানের তকমা, ভালো না থাকলেও বিন্দাস বলার একটা মিথ্যে অভ্যাস। এই তো সময়, সময় বড়ই রঙচং হীন অথবা রঙচঙে ভরপুর। ডিপেন্ড করে আমি আর আপনার উপর।

আমি আমার অতীত সময় নিয়ে অনেক বেশি ভাবি। শুনেছি বুদ্ধিমানেরা অতীত নিয়ে বেশি ভাবে না, আমি ভাবি।সে ক্ষেত্রে নিজেরে নির্বোধ ছাড়া কিছু মনে করতে পারি না। বলতে গেলে একা থাকলেই অতীত ভাবনাগুলো চলে আসে। আবার অতীতে যে খুব কিছু করে ফেলেছি বা অস্থির কেটেছে তাও না.. আযথাই কেটেছে অতিত। কৈশোর কেটেছে একটা তারের সাথে আরেকটা তারের জোড়া দিয়ে! একটা ব্যটারির দুই মেরু কোন দুই দিগন্তে গিয়ে মেশলে বাল্বটা জ্বলে উঠে এই সব করেই কেটেছে আমার সময়। তখন বিষয়গুলো ছিলো কেবলই শখ, টান অথবা নেশা। নাহ নেশা বলতে কোন নেশা দ্রব্যের নেশা না.. একটা কোমল মনের নতুন নতুন কিছু করার নেশা। অবশ্য কিছু পয়সা কড়িও আসতো তাতে- এখন বুঝি সেটি ছিলো নেশার একটি মটিভেশনাল ফ্যাক্টর।

এখন অবশ্য জিবনের ফ্যাক্টরের অভাব নাই, সময় যতবাড়ে জীবনের সাথে নাকি ততবেশি ফ্যাক্টর যোগ হয়। এই এক একটি ফ্যাক্টরের কতশক্তি! এখন মনে হয়- জিবনের এই ফ্যাক্টরের চেয়ে আমার সেই তারজোড়াই ভালো ছিলো। ভালো ছিলো ব্যাটারির দুই মেরুর আলোজ্বালানোর শক্তি। তার দুইটির ক্ষমতা কেবলই সংযোগ জুড়ে দেয়া। আমাদেরও কি কম ক্ষমতা? অচেনা, অজানা, কত অদ্ভুদ রকমের মানুষদের সাথে কত মজবুদ সংযোগটাই করে ফেলি। আর আলো জ্বালানোর যা অসম্ভব শক্ষি আমাদের আছে, সময়ের মতো তা স্বয়ং আমরাও জানি না। আমাদের কলমের অক্ষরে আলো জ্বলে, পেন্সিলের রেখায় আলোজ্বলে, কন্ঠনালির সুরে আলো জ্বলে। এই আলোর কত শক্তি! হৃদয়, মস্তিস্ক, মনোজগৎ সব কিছুই কত উজ্জ্বল ভাবে আলোকিত করে দেয়!
ভাবতেই ভালো লাগে। মানুষের কত ক্ষমতা, কত শক্তি!
আমিও কি দুনিয়া আলোকিত করার একটু শক্তি হবে?
কি যেন, কে জানে!
হয়তো সময় জানে, অদৃষ্যকে জানবার ক্ষমতা একমাত্র সময়েরই আছে..

লেখাঃ হাবিব রহমান।
ঢাকা। 1.4.18

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×