“তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকা’দির নাম..
জনপ্রিয় একটি বাংলাগানের চরণ, যেখানে বুঝানো হয়েছে খুব আলোচিত বিষয়ও সময়ের কারণে আমরা ভুলে যাই। যা কিছু হারিয়ে যায় তা কি কখনই আর ফিরিয়ে আনা যায়??
আমরাও তো হারিয়ে ফেলেছি কতশত মল্লিকা দের! তাদের ক’জনের নামই বা আমাদের মনে আছে? তনু, মিতা, ফেলানি আর দুএকজন ছাড়া। তাদের নামও মনে রাখার নেপথ্যে মিডিয়াদের বাড়াবাড়ি! অন্যায় কিছু বললাম? হয়তো অথবা না, একটি মেয়ে ধর্ষন হলে সংবাদকে আর্কষণীয় করতে কিছু মিডিয়া যেখাবে উঠেপরে লাগে! যারা মারা যায় তারা বেঁচে যায় নিজের মতন, আর যারা ভাগ্যের কারণে বেঁচে যায়, বাঁচবার শেষ উপায়টুকুও আর থাকে না। অথচ ধর্ষনকারী, অপরাধীর দিব্যি ঘুড়ে বেঁড়ায়। আর কিছু সস্তা নিউজ পোর্টলের অবদানে মল্লিকা দের নামটা আরও কিছুদিন আমাদের মনে থাকে কিন্তু বিচার টা ঠিক পায় ই না। ফাইলের নিচে চাপা পরে ধুলো জমতে থাকে ওসব মল্লিকাদের খুণের উপর। যতদিন যে দেশে অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে না, সেদেশে সে অপরাধ বেড়েই যাবে। বাংলাদেশেও কি তাই হচ্ছে না!
ঢাকার মতো একটা শহরে পাবলিক বাসে মেয়েরা নিরাপদ না, মেয়েরা কতটুকু নিরাপদ তাতের কর্মক্ষেত্রে? আজকের বাংলাদেশে পাঁচ বছর, আট বছর, এগারো বছরের মেয়েদের ধর্ষণের খবরে পত্রিকার পাতা ভরে যায়। ন্যায় বিচারের রায় শুনে কখনও ধর্ষিতার পরিবারের হৃদয় ভরে কি?!
মল্লিকাদের নামের তালিকা আর কত বড় হলে, এদেশের বিচার ব্যবস্থার বিবেক জেগে উঠবে! আর কত মল্লিকাদের নাম উচ্চরণের সময় তার আত্নীয় স্বজনদের গলায় কাছে কিছু একটা কাঁটার মতন আটকে যাবে? যাকে আমরা কষ্ট, যন্ত্রণা বা দীর্ঘশ্বাস বলি!?
আমারও একটি ছোট বোন আছে। হয়তো বা আপনারও আছে। প্রতিদিন হাজারো এলোমেলো দুচিন্তা মনটাকে বিষিয়ে তুলে। স্বাধিনতার সাতচল্লিশ বছর পরেও যখন এদেশে অন্যতম শক্তিশালি; সাহসী একজন নারী প্রধানমন্ত্রি! তখনও যদি এদেশে নারীরা নিরাপদ থাকতে না পারে, তাহলে আর কবে তারা নিরাপদ হবে?? বলতে পারেন!
নিজের বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, বাসে কিংবা উন্মুক্ত রাস্তায়?? কবে নিরাপদ হবে আমার আদরের বোনটি, আপনার কলিজার টুকরো মেয়েটা?
যদি আমি, আপনি তাদের জন্য নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলতে না পারি...
আমরা আর কোন মল্লিকা দি কে‘ হারাতে চাই না..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

