somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর জারজ সন্তান ইসরাইল: একটি রক্তাক্ত ইতিহাস (spotnews24.com)

২৮ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি অটোমান
সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন
বা ফিলিস্তিন সহ বেশিরভাগ আরব
এলাকা চলে যায় ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের
ম্যান্ডেটে। ১৯১৭ সালের দোসরা নভেম্বর
বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস
বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক
পত্রে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার
মাধমে প্যালেস্টাইন এলাকায় ইহুদিদের
আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জল হয়
এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ
থেকে প্যালেস্টাইনে এসে বসতি স্থাপন
করতে থাকে।
ইসরাইল
১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত
ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র
কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম
বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ সাল
পর্যন্ত বৃটিশদের সহযোগিতায়
ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ২০
হাজারে উন্নীত হয়। এরপর
প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীদের
ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯১৯
থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ
ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫
হাজারে পৌঁছে যায়। ১৯৩১ সালে ইহুদীদের
এই সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ
৮০ হাজারে পৌঁছায়।
এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীর
সংখ্যা উল্লেখযোগ্য
হারে বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮
সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬
লাখে উন্নীত হয়।
১৯১৮সালে বৃটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত
ইহুদী বাহিনী “হাগানাহ” গঠিত হয়। এ
বাহিনী ইহুদীবাদীদের অবৈধ রাষ্ট্র
তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের
বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের
সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব
হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ
সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়।
ফিলিস্তিনী জনগণের বাড়িঘর ও
ক্ষেতখামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন
থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও
রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশ
স্থলে বোমা বিস্ফোরণ
ঘটিয়ে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে আতঙ্ক
সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়নের কাজ
ত্বরান্বিত করা ছিল হাগানাহ বাহিনীর
কাজ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭
সালে জাতিসংঘের সাধারণ
পরিষদে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত
করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত
হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত
করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের
মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের
এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের
হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল
স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
আর বর্তমানে সে আমেরিকার মদদে একের পর
এক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু
যায়নাবাদীরা তা দেখেও না দেখার ভান
করছে। ধিক বিশ্ব সম্প্রদায় ধিক।
ইসরাইলের পারমানবিক অবস্থা
ষাটের দশকে দেশটি পারমাণবিক বোমার
অধিকারী হয়। সে বছর মিসরসহ আরব
দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সর্বাত্মক যুদ্ধ
বেধে যায়। যুদ্ধের শুরুতেই ইসরাইলের
নেগেভ মরুভূমিতে পারমাণবিক প্রকল্প
গুঁড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল মিসরীয়
বাহিনীর। কিন্তু প্রেসিডেন্ট কর্নেল
জামাল আবদুন নাসের পরিকল্পনাটি বাতিল
করে দেন। ভেবেছিলেন, ইসরাইল
তখনো পারমাণবিক
বোমা বানাতে পারে নি। তাই নেগেভ
মরুভূমিতে দিমোনা প্রকল্প
গুঁড়িয়ে দেয়া হবে অর্থহীন। কিন্তু
তিনি জানতেন না যে, ইতোমধ্যেই ইসরাইল
দু’টি পারমাণবিক
বোমা বানিয়ে ফেলেছে এবং বোমা দু’টি
নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুতও করে রেখেছে।
১৯৭৩সালে তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম
দেশগুলো বিজয়ী হতে পারে নি। এ যুদ্ধেও
ইসরাইলের বিজয়ের মূলে ছিল দেশটির
পারমাণবিক অস্ত্র। যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য
ইসরাইল ১৩টি পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত
করে রেখেছিল। প্রতিটি বোমার
ক্ষমতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের
হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত আণবিক বোমার
সমান। যুদ্ধে মিসরীয় বাহিনী সিনাই
এবং সিরীয় বাহিনী গোলান
রণাঙ্গনে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বু্যহ
বারলেভ লাইন তছনছ করে দিয়ে বন্যার
মতো ধেয়ে আসতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী
মিসেস গোল্ডামায়ার পারমাণবিক
বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দেন।
জন্ম থেকেই পরমাণু খায়েস:
জন্মেরপর থেকেই ইসরাইলি নেতৃবৃন্দ
উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বৈরি আরব
শক্তি পরিবেষ্টিত অবস্থায় পারমাণবিক
অস্ত্রই হচ্ছে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলের
টিকে থাকার গ্যারান্টি।
১৯৪৮সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশটি পারমাণবিক
অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টায় জড়িত হয়ে পড়ে।
ত্রিশ ও চলিস্নশের দশকে বহু
মেধাবী ইহুদি বিজ্ঞানী ফিলিস্তিন
ভূখণ্ডে অভিবাসী হিসাবে বসতি স্থাপন
করেন। তাদের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলেন
আর্নেস্ট ডেভিড বার্গম্যান। তিনিই হলেন
ইসরাইলের পারমাণবিক বোমার জনক।
ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন
গুরিয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও
উপদেষ্টা বার্গম্যান পরামর্শ দেন যে,
পারমাণবিক
জ্বালানিহতে পারে ইসরাইলের অপ্রতুল
প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দুর্বল সামরিক শক্তির
একটি বিকল্প। পারমাণবিক
বোমা তৈরি করা ছিল এ পরিকল্পনার অংশ।
১৯৪৮ সালের গোড়ার
দিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশে ইহুদি বিজ্ঞানীরা ইউরেনিয়াম
মজুদের জন্য নেগেভ মরুভূমি খুঁজে বের করেন।
১৯৫০ সাল নাগাদ তারা বিরশেবার কাছে ও
সিডনে নিন্মমানের ইউরেনিয়াম মজুদ
খুঁজে পান। ১৯৪৯ সাল নাগাদ বিজ্ঞান
বিষয়ক ওয়াইজম্যান ইন্সটিটিউট
সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক
গবেষণাকে সমর্থন করে। ইসরাইল সরকারের
ব্যয়ে পারমাণবিক প্রকৌশল ও পদার্থ
বিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল
ইসরাইলি ছাত্ররা বিদেশে গমন করে।
১৯৫২ সালে ইসরাইল গোপনে আণবিক
শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। আণবিক
শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়েই
ইসরাইলের পারমাণব
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×