ঘটনা এক
নবী স. ও ইহুদি বুড়ির গল্প । ইহুদি বুড়ি নাকি কাঁটা বিছিয়ে রাখতো । একদিন কাঁটা দেখতে না পেয়ে নবী স. ওই ইহুদির মহিলাকে অসুস্থ অবস্থায় পেলেন ও সেবা করলেন !!!
এই গল্পের কোন প্রমাণ কোরআন হাদিস ও ইতিহাসে নাই । আপনি জেনে থাকলে কমেন্ট করুন ।
ঘটনা দুই
কাবা শরীফের উপরে পাখি উড়ে না বিমান যায় না ! অভিকর্ষ নাকি সব কিছুকে টেনে নিয়ে যায় !
সম্পূর্ন ভুল কথা । কাবার উপরে যে পাখি উড়ে ইভেন বসেও থাকে তার অনেক ভিডিও ইউটিউবে আছে। ওই জায়গায় ক্যামেরা নেয়ায় কিছুটা বিধিনিষেধ থাকায় মানুষ এসব সম্পর্কে অবগত নয় । আর বিমান উড়ে না কারণ কাবা হচ্ছে রেস্ট্রিক্টেড এয়ারস্পেস । এর উপরে দিয়ে বিমান উড়ালে সৌদি সেনাবাহিনীর এয়ারডিফেন্স আর্টিলারির মিসাইল দিয়ে বিমান শুট ডাউন করা হবে। যেমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর বাসভবনের অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের উপর দিয়েও বিমান চালানো নিষেধ । এরকম আইন না থাকলে বিমান ঠিকই ওড়ানো যেত । কোরআন হাদিসের কোথাও কাবার উপরে কিছু উড়তে পারবে না এমন কথা বলা নেই । আর অভিকর্ষের কারণেই যদি বিমান না উড়তো তবে তো হজ্জ্ব করতে যাওয়া মানুষদেরই আগে কাবা শরীফের গায়ে আটকে থাকার কথা !
ঘটনা তিন
বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর দেশে মরলে কোন হিসেব নিকেশ হবে না ।
একদম ফাও কথা । সাহাবীরা যেখানে মরার পরে নবীর দেশ আরবে থেকেও হিসেবে নিকেশের ভয় করতো ঐখানে আব্দুল কাদের জিলানীর রেফারেন্স দিয়ে শাস্তি মওকুফ একদম মিথ্যা কথা ।
ঘটনা তিন,
নবীর দেশ বলে সৌদি আরবের কোন অভাব হবে না । তারা স্বর্ণের উপরে ভাসমান !!!
বড়োই উদ্ভট কথা ! তেল আবিস্কার হওয়ার আগে আরব বিশেষত সৌদির লোকজন চরম দরিদ্র ছিলো । খিলাফত শেষ হওয়ার পর তাদের দুর্দশা নেমে আসে ! এখন যখন তেলের ভান্ডার ফুরিয়ে আসছে তখন সৌদি আরবের ক্ষমতাসীনরা মক্কা মদিনাকে আলাদা রেখে বাকি আরবকে পর্যটন কেন্দ্র বানাতে কাজ করছে যাতে আরব আমিরাতের মতো টাকা কমানো যায় । এরচেয়েও বড় কথা নবীর স. সময় আরব পুরোটা এক ছিল, কাজেই এখন সৌদি আলাদা বলে তারা সব পাবে আর বাকিরা কিছু পাবে না ওটা কেমনে হয় !
ঘটনা চার,
মক্কা পৃথিবীর কেন্দ্র !
যদি বলা হয় এই সেন্সে যে মানুষের ধর্মীয় মিলনস্থল তবে ঠিক থাকতে পারে কিন্তু যদি এটাকে জিওগ্রাফিক্যাল দৃষ্টিতে বলা হয় তবে এটা একদম মিথ্যা কথা।
পৃথিবীর কি সমতল নাকি যে এর ভূপৃষ্ঠস্থ কেন্দ্র থাকবে ?!!!
পৃথিবী হলো গোলাকার । এর কেন্দ্র হচ্ছে মাটির ৬৫০০ কিঃমিঃ গভীরে যেটা অতি উত্তপ্ত প্রায় ৬০০০℃ তাপমাত্রার(এই তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠেও !!! বুঝেন তাইলে কতো গরম পৃথিবীর কেন্দ্র । এনিওয়ে সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা হলো প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস !!!) লোহা দিয়ে গঠিত ! তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া যায় সমতল কেন্দ্র আছে তবে ওটা হবে অক্ষ রেখা ও দ্রাঘিমা রেখার মিলনস্থল যেটা আফ্রিকার দেশ ঘানার দক্ষিণ দিকে ৬১১ কিঃমিঃ দূরে আটলান্টিক মহাসাগর আরো স্পেসিফিকলি বললে গিনি উপসাগরে অবস্থিত ।
ঘটনা পাঁচ
ফেরাউনের লাশ পাওয়া গেছে সাগরের নিচ থেকে ।
ফেরাউনের বলতে একটি পদবীকে বুঝায়(ফারাও) । মুসা আ. এর সময়কার ফেরাউন ছিলো অলিদ। তো ফেসবুকে ও ইউটিউবে যে লাশটির ভিডিও দেখানো হয় এবং বলা হয় ওটা নাকি লোহিত সাগরের নিচ থেকে উঠানো হয়েছে সেটা একদম প্রমাণ ছাড়া কথা । আল্লাহ যে ফেরাউনকে শাস্তি দিয়েছিল তার লাশ বলে ওটাকে প্রচার করা হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করা যেত তখনই যখন এটা আসলেই পানির নিচ থেকে উঠানো হতো। যে ভিডিওটিকে বা ভিডিওর ফারাওকে অর্থাৎ রামসেস-২ কে ফেরাউন বলা হচ্ছে তার মমি উদ্ধার করা হয়েছিল ১৮৮১ সালে মিশরের "দেইর আল বাহারি" নামের এক গোপন রাজকীয় কুঠুরীর ভেতরের থেকে, সাগরের নিচ থেকে নয়। এছাড়া আসল ফেরাউনের লাশের ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন তিনিই সেটাকে নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করছেন কিন্তু রামসেস-২ এর লাশকে ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সে পাঠিয়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন এর ট্রিটমেন্ট করা হয় । কাজেই রামসেস-২ কোনমতেই কোরআনের বর্ণিত ফেরাউনের লাশ বা মমি নয় ।
আমার কথা যাচাই করে দেখতে পারেন ইন্টারনেটে বা আপনার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে । ভুল প্রমাণিত হলে ভ্যালিড এভিডেন্স সহকারে কমেন্ট করে জানান , আমিও শিখি সত্যটা ।
এই পোস্ট দেয়ার উদ্দেশ্য কি ???
উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে কোন মুসলিম ধর্ম নিয়ে তর্ক করতে যেয়ে বিপাকে না পড়ে । এই জিনিসগুলো আমি নিজেও আগে জানতাম না । এই কারণে ব্লগে নাস্তিকদের সাথে তর্ক করতে গেলে ঝামেলায় পড়তাম !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
