somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার ভ্রূণ এবং তার ক্রমবিকাশ

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসার জন্মের আগে তৈরি হয় তার ভ্রূণ আর এই ভ্রূণ তৈরি হয় প্রাকৃতিকভাবে (প্রকৃ্তিগতভাবে)! তারপর এই ভ্রূণের বৃ্দ্ধি অতঃপর তার পরিপূর্ণ জন্মলাভ হবে কি হবে না তা কোনকিছুর উপরই নির্ভর করেনা। সোজা বাংলায় বলতে গেলে ভ্রূণটি জন্মাবে নাকি জন্মের পূর্বেই মৃত্যুবরন করবে তা আপনি-আমি নির্ধারন করবার কেউ নই। ভালোবাসা স্রেফ হয়ে যায়- সেই সাথে এর জন্ম অথবা মৃত্যুও! ভালোবাসা হচ্ছে বহমান নদী কিংবা প্রবাহমান সমীরন! জোর করে এটা তৈরি করাও যেমন দুঃসাধ্য তেমনি ভেঙ্গে ফেলাও। এটি তো কোন দালান-কোঠা কিংবা হাতঘড়ি/রোদচশমা নয় যে চাইলাম আর অমনি ভেঙ্গে ফেললাম। ভালোবাসায় কোন ভন্ডমি থাকেনা। ভালোবাসার কোন রকমফের নেইও! ওই যে বলে- প্রকৃ্ত ভালোবাসা, পরকিয়া, বিবাহ-বহির্ভূত ভালোবাসা, ঠুনকো ভালোবাসা, ভাইয়ের মত ভালোবাসা, বোনের মত, সন্মানের ভালোবাসা ইত্যাদি ইত্যদি! এগুলো আমরা বানাই! আমি বানাই, আপনি বানান, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা বানিয়েছে। ওরা কেন বানিয়েছে? আমরা কেন বানাই এই সব নাম? কেন বানাই? কেন দিই এইসব নাম? ভয়ে? কার ভয়ে? আপনার নিজের ভয়ে?আমার ভয়ে? দেখুন, সোজা-সাপ্টা কথা, ভালোবাসা আপনার মানব-জনমের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, এটা মহার্ঘ্য! এটা তৈরি হয়-ধীরে অথবা দ্রুত। প্রভাবক হয়ত থাকে যেমনঃ যৌনতা, সৌন্দর্য, একাকিত্ব, শুন্যতা, ব্যক্তিত্ব, অর্থ-বিত্ত, জ্ঞান, প্রজ্ঞা। আবার নাও থাকতে পারে এটি- হতে পারে অকারণ ভালোবাসা অথবা শুধুই ভালোবাসার ঘাটতি-পূরনে ভালোবাসা।কোনটাই নষ্ট নয়, দোষের নয়। ‘ভালোবাসা-অবদমনে’ অথবা একে ‘শুদ্ধ-করবার জন্যে আচ্ছাদিত’ করবার আমাদের প্রচেষ্টা অনেক পুরোনো। মানব-সমাজ হয়ত ভালোবাসার নানা রকম নামকরন ‘নমেনক্লেচার’ অথবা ধরন বের করে এটিকে শুদ্ধ-করবার জন্যে আচ্ছাদন করবার পদ্ধতি বের করেছে কিন্তু এটিকে অবদমন করতে পারেনি বোধ করি। কারন ‘ভালোবাসা’ ব্যপারটিই অবশম্ভাবি এবং সবচেয়ে দরকারি উপাদান এই মানব-সম্প্রদায়টিকে টিকিয়ে রাখবার জন্যে।ঠিক একইভাবে এটির অনাবশ্যক আবহ কিংবা তৈরি করতে চাওয়াও দুঃসাধ্য। এটা শৈবাল জন্মানোর মত করে জন্মায়- জলাশয়ে, পুকুরপাড়ে কিংবা কুয়োর ধারে! (আর এটা বলা বাতুলতা যে জলাশয় অত্যন্ত দ্রুতভাবে কমে যাচ্ছে আমাদের এই ঢাকায় কিংবা ম্যানহাটনে)! যাকগে আমার মূল কথায় ফিরে আসি, রূপোর পাত্রে জল রেখে শৈবাল তৈরির প্রচেষ্টা শুধু হাস্যকর নয় কষ্টকরও বটে। দেখুন, মাটি যেমন প্রাকৃ্তিকভাবেই স্তরীভূত থাকতে থাকতে একসময় কঠিন শিলায় পরিনত হয় ভালোবাসাও তেমনি প্রাকৃ্তিকভাবেই ঘটে। আপনি চাইলেও জোর করে মাটিকে পাথরে/ কঠিন শিলায় রূপান্তর করতে পারবেন না তেমনি ভালোবাসা যদি না জন্মে কারো প্রতি তাহলে জোর করে সেটা জন্মাতেও পারবেননা। তবে হ্যাঁ, মাটিকে পুড়ে শক্ত ইট বানাতে পারবেন নিশ্চয়ই। তবে সত্যি বলতে কি প্রকৃ্তির সেই মহান সৌন্দর্যমন্ডিত দৃষ্টিনন্দন সুগঠিত শিলা- পারবেন কি সৃষ্টি করতে? আসলে ভালোবাসা শুধুমাত্র মানব-অস্তিত্বের প্রধানতম কারনই নয় এটা মনবসভ্যতা, সংস্কৃতি, নন্দনতত্ত্ব, ধর্ম, মতবাদ এমনকি এই আজকের আধুনিক অথবা উত্তর-আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং এর ক্রমবিকাশের পথেও একটি মহান চালিকাশক্তি।

Reference:
May be this writing has a partial shadow of Sigmund Freud 's Civilization and Its Discontents and Herbert Marcuse's Eros and Civilization. But the narration and analogy is undoubtedly mine without any plagiarism. The lines were being synchronized in my mind and I just wrote down
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৪৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×