প্রাপকের সন্ধানে
ভাল অভিজ্ঞতা নিয়ে বাসায় ফিরিনি। অবশ্য, প্রতিদিনই এমনটি হয়। আদালতে চাকুরি করার সুবাধে পবিত্র দায়িত্ব পালনের স্বার্থে প্রতিদিনই জনসাধারণের বাসা-বাড়িতে নোটিশ, সমন ইত্যাদি নিয়ে যেতে হয়। খুব স্বাভাবিক যে, সমন জারী সফলতার সাথে শতভাগ নিশ্চিত করনার্থে এবং প্রাপকদের খুজে বের করা খুব সহজ কাজ নয়। তাই, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতার দ্বারস্থ হতে হয়। আদালতের কর্মচারী পরিচয় পেয়ে যখন মানুষ তাদের চেহারা ফ্যাকাশে করে ফেলেন, ইয়ে ইয়ে আমতা আমতা করে কথা বলেন কিংবা সমনের প্রাপকের বাসা বাড়ি চিনেও চিনেননা বলে মন্তব্য করেন তখন খুব খারাপ লাগে।সম্মানজনক স্থানে চাকুরি করি অথচ মানুষ আদালতের কথা শুনলে কেমন যেন করে উঠে, ভয় পায়। বুঝতে পারি না কেন এমন করে। সহযোগিতার হাত কেন গুটিয়ে নিতে চায়। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়ে তৃষ্ণার্ত একজন প্রসেস সার্ভার যখন বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত ঠিকানায় পৌছে সমনের প্রাপককে না পান তার চেয়ে আফসোসের আর কিছু থাকতে পারে না। ঠিকানা সঠিক হওয়া সত্ত্বেও জমিদার বা ভাড়াটিয়ারা কেউই প্রাপককে চিনেন না, পূর্বে এ ঠিকানায় ছিল কিনা বা বর্তমানে কোথায় আছে তা জানেন না বলে মন্তব্য করেন তখন সারাদিনের কষ্টটা ভাল পরিণতি পায় না। আবার আশ্চার্য় হই, যখন প্রাপকের মা-বাবা সংসারের সদস্যরা প্রাপককে চিনেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন কিন্তু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ সনাক্ত করেন উনি প্রাপকের বাবা, উনি ভাই। কেয়ামতের ময়দানে রক্তের সম্পর্ককে অস্বিকার করা হবে কিন্তু আমিতো কখনো কখনো এই বাস্তব উদাহরণ দুনীয়াতেই প্রত্যক্ষ করি। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। অন্যকে সময় দেবার বা অন্য কারো কথা শুনার সময় আমাদের কই। তাই হয়তো কেউ কেউ কর্কশ ভাষায় কথা বললেও বা অগ্নিশর্ম্ম হয়ে উত্তর দিলেও কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তুলি চেহারায় আর প্রাপকের সন্ধানে অন্য কারো সাহায্য নিই, অন্য কারো সাথে কথা বলি। আমরা ছুটি, আমাদের ছুটতে হয়। কেননা- আমরা যে প্রসেস সার্ভার।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




