মানুষই আজ মানুষের বড় শত্রু। মানুষকে দেখে মানুষ
যতোটা ভয় ও অনিষ্টের আশংকা করে, কোন হিংস্র
প্রাণীকে দেখেও ততোটা নয়। মানুষ যতোটা খুন ও
ক্ষতি করে স্বজাতির, ততোটা কোন প্রাণীরাও
করে না। যেকোন প্রাণী দেখে বুঝা যায়, তার
অনিষ্ট কেমন হতে পারে,
সুতরাং তা থেকে আত্মরক্ষাও সহজ। কিন্তু মানুষের
রূপ দেখে স্বভাব বোঝা দায় যে, তার ভেতরের
হিংস্রতার ধরণ কীরূপ হবে! সৃষ্টির সেরা মানুষই
স্বীয় দু:স্বভাবের দরুন কোন কোন ক্ষেত্রে চতুষ্পদ
জন্তুর কাতারে নেমে যায় বা তারচে অধম হয়ে পড়ে।
নিন্মে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কর্তৃক
কুরআনে বর্ণিত নানা ধরণের মনুষ্য স্বভাবের
কথা উদ্ধৃত করলাম।
১-নিশ্চই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থির
চিত্তরূপে। যখন তাকে বপিদ স্পর্শ করে তখন সে হয়
হা-হুতাশকারী। আর যখন কল্যান তাকে স্পর্শ
করে তখন সে হয়ে যায় অতি কৃপণ। -
সুরা মা'আরিজ১৯-২১
২- নিশ্চই মানুষ অতিমাত্রায় জুলুমকারী ও অকৃতজ্ঞ। -
সুরা ইব্রাহীম ৩৪
৩- আর মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়
এবং ঝগড়াটে। -কাহাফ ৫৪
৪- মানুষ সৃষ্টিগতভাবে শীঘ্রপরায়ন,
তাড়াহুড়ো স্বভাবের। -আম্বিয়া ৩৭, মানুষ (স্বভাবগত
ভাবে) অত্যন্ত তাড়াহুড়োকারী। -ইসরা ১১
৫- মানুষ (মাত্রই) সীমালঙ্ঘন করে এবং অবাধ্য হয়। -আলাক ৬
৬- মানুষ অবশ্যই তার প্রতিপালকের প্রতি বড়
অকৃতজ্ঞ। -আ-দিয়াত ৬
৭--নিশ্চই মানুষ (সার্বিক সমীকরণে) ক্ষতির
মধ্যে রয়েছে। (অবশ্য বিশেষ কিছু গুনের লোক এর
ব্যতিক্রম) -সুরা আসর ২
৮- মানুষ নিজে নিজের সম্বন্ধে ভাল করে জানে। -
ক্বিয়ামাহ ১৪
৯- আমি মানুষকে কষ্ট সহিষ্ণু/কঠিন স্তর সমূহ
অতিক্রমকারী/ করে সৃষ্টি করেছি। -বালাদ৪
১০-মানুষ অতিশয় কৃপণ (স্বভাবের)। -ইসরা ১০০
১১- আর মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। - নিসা ২৮
১২-মানুষ অতিশয় জালিম (নিজের
পায়ে নিজে কুঠারাঘাতকারী) এবং অজ্ঞ। -আহযাব ৭২
মানুষ হিসেবে এসব মানবীয় দুর্বলতা ও স্বভাক কম
হোক আর বেশি, সকলের মধ্যেই আছে। যারা সৎসঙ্গ
এবং অন্যান্য উপায় অবলম্বন করে নিজেদেরকে এসব
দু:স্বভাব থেকে পবিত্র করতে পেরেছে, তারাই
হলো সফল মানুষ। আল্লাহ যেন আমাদেরকে সেসব
সৌভাগ্যবানদের কাতারে শামিল করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


