somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজশাহীতে বিনোদন

০৩ রা মে, ২০১১ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
টি-গ্রোয়েন ও পদ্মার তীর ‍ঃ

Rajshahiটি (T) আকৃতিক গ্রোয়েন ও নদীর তীর মহানগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত ‍অসংখ্য মানুষ বিশাল নীলাকাশের নিচে সূর্যের সোনালী কিরণ মাখা পদ্মার ওপারের বেলে ভূমি, সবুজ প্রকৃতি দেখা ও পদ্মার হিমেল বাতাস গায়ে মেখে সারা দিনের অবসাদ দুর করার জন্য ভিড় জমায়। অনেকে ভাড়া নৌকায় পদ্মার ওপারে ঘুরে আসে। বাদাম ভাজা, মুড়ি, ফুচকা, চটপটি বিক্রেতার মত ছোট ব্যবসায়ীরা ভাল ব্যবসা করে এই বিনোদন প্রিয় মানুষের সঙ্গে।

ভদ্রা পার্ক ‍ঃ
রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ভদ্রা পার্ক। পার্কটি সরকারি অনুদানে রাজশাহী উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ নির্মাণ করে। পার্কটির ভূমির পরিমাণ ৭.৬ একর। ব্যয় হয় ২৪ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। এর নির্মাণ আরম্ভ হয় ১৯৭৮ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯৫ সালে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ‍ঃ

রাজশাহী মহানগরীর কেন্দ্রস্থলে হেতমখাঁ সদর হাসপাতালের সামনে প্রাচীন সংগ্রহশালা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা এবং বাংলদেশের প্রথম জাদুঘর । নাটোরের গিঘাপতিয়ার রাজপরিবারের বিদ্যোৎসাহী জমিদার কুমার শরৎকুমার রায়, খ্যাতনামা আইনজীবী ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দের প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে তৎকালীন সচেতন মহল ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহত্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য উৎসাহী হয়ে ওঠেন । যার ফলে বিস্মৃত প্রায় সাহিত্যিক নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংগ্রহ ও অনুশীলনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে ১৯০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজার পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর পরিষদের দ্বিতীয় width=300অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভাগলপুরে। শরৎকুমার রায়, অক্ষয় কুমার ও রমা প্রসাদ উভয় অধিবেশনে যোগাদান করে বরেন্দ্রভূমির পুরাকীর্তি সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং তারা রাজশাহী ফিরে এসে বরেন্দ্র পুরাকীর্তি সম্পর্কে অতি উংসাহী হয়ে উঠেন। ১০১০ সালে তারা বগুড়া জেলার খঞ্জনপুরে পুরাতাত্ত্বিক অভিযানে যান এবং এর ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য একটি সমিতি গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়ে গঠন করেন বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি। সমিতি অনুসন্ধান চালিয়ে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কালো পাথরের বিখ্যাত গঙ্গা মূর্তিসহ পুরাতত্ত্বের ৩২ টি দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন সংগ্রহ করে। সমিতির সম্পাদক রামপ্রসাদ চন্দ সমুদয় নিদর্শন প্রধানত পুরাতন স্থাপত্যের নিদর্শন, পুরাতন ভাস্কর্যের নিদর্শন ও পুরাতন জ্ঞান ধর্ম সভ্যতার নিদর্শন (যেমন পুঁথি) এই তিন ভাগে বিভক্ত করেন। কুমার শরৎকুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় ও রমাপ্রসাদ সমিতির ব্যয় নিবার্হের জন্য ব্যক্তিগত যে অর্থ প্রদান করেন তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম। তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার সমিতিকে একশ টাকা করে অনুদান দিত । এই আথিক অনটনের মধ্যে সংগৃহীত নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণের জন্য একটি মিজিয়াম ভবন নিমার্ণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং তা ব্যয়বহুল জানা সত্ত্বেও শরৎকুমার বন্ধুদের অনুরোধে নিমার্ণ কাজ শুরু কনের । সমিতির কর্মকর্তাদের অনুরোধে তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর ভিত্তিপ্রস্তার স্থাপন করেন । নিমার্ণ শেষে ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর দ্বার উম্মোচন করেন লর্ড রোনাল্ডসে। ১৯৪৭ এর পর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর মারাত্মক দুদশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে । যার ফলে এটি রক্ষা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনে ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর হস্তান্তর করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষের কারছ। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধীন। ১৯১১ সালে কোলকাতা জাদুঘর বরেন্দ্র জাদুঘরের যাবতীয় সংগ্রহ দাবি করেছিল। ফলে এর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার এফ.জে মনোমোহনের প্রচেষ্টায় বাংলার গভর্ণর লর্ড কারমাইকেল বরেন্দ্র জাদুঘর পরিদর্শনে এসে সংগহ দেখে মুগ্ধ হন। এরপর ১৯১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারী সার্কুলারের মাধ্যমে স্থানীয় জাদুঘরগুলোকে সংগ্রহের বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হলে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অস্তিত্ব রক্ষা হয়। ২০০০ সালের ১৫ জুলাই প্রকাশিত যুগান্তর প্রত্রিকার তথ্যানুসারে জাদুঘরের এ পযর্ন্ত সংগ্রহ সংখ্যা সাড়ে আট হাজারেরও বেশি । এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার প্রস্তর ও ধাতব মূর্তি, ৬১ টি লেখ চিত্র ২ হাজারেরও বেশি প্রাচীন মুদ্রা, ৯শ'র বেশি পোড়ামাটির ভাস্কর্য-পত্র-ফলক, প্রয় ৬০টি অস্ত্রশস্ত্র, প্রায় ৩০টি আরবি-ফার্সি দলিল, মোগল আমল থেকে ব্রিটিশ আমল পযর্ন্ত বিভিন্ন প্রকারের রৌপ্য-ব্যোঞ্জ-মিশ্র ধাতুর প্রায় ৪০০টি মুদ্রা। এছাড়াও প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি পাগুলিপি আছে। এসব সংগ্রহ মোট ৮টি গ্যালারিতে দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত করা আছে।
১নং বিবিধ গ্যালারি ‍ঃ এখানে আছে প্রচীন আমলের ঢাল-তলোয়ার, ধাতব পাত্র, মহেঞ্জোদারো ও মহাস্থানের বিভিন্ন নিদর্শন।
২নং মূর্তি গ্যালারি ‍ঃ সম্রাট অশোক থেকে ব্রিটিশ আমল পযর্ন্ত কাঠ, পাথর ও অন্যান্য বস্তু দ্বারা নির্মিত মূর্তিসমূহ।
৩নং দেব গ্যালারি ‍ঃ সূর্য, বিষ্ণ, শিব, কার্তিক ও অন্যান্য দেবতার মূর্তি।
৪নং দেবী গ্যালারি ‍ঃ পাবর্তী, সরস্বতী, মনসা দুর্গা ও অন্যান্য দেবীর মূর্তি।
৫নং বুদ্ধ গ্যালারি ‍ঃ এ গ্যালারি আছে সব বুদ্ধ দেব-দেবী ও জৈন মূর্তি, বোধিসত্ত্ব, ঋসভনাথ, পর্শ্বনাথ ইত্যাদি।
৬নং গ্যালরি ‍ঃ এ গ্যালরিতে উম্মুক্ত আছে প্রচীন আমলের আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত, বাংলা লেখচিত্র এবং পাল যুগ, সুলতানী যুগ, মোগল যুগের শিলালিপি ছাড়াও শের শাহর ২টি কামান, মেহরাব ইত্যাদি।
৭নং ইসলামী গ্যালারি ‍ঃ হাতে লেখা কোরআন শরীফ, মোগল আমলের ফার্সি দলিল, পোশাক মুদ্রা ইত্যাদি দিয়ে এই গ্যালারি প্রাচীন ঐতিহ্য প্রদর্শন করেছে।
৮নং আবহমান বাংলা গ্যালারি ‍ঃ এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে বাঙালি জাতির ব্যবহার্য জিনিসপত্র, প্রাচীন গহনা, দেশী বাদ্যযন্ত্র, আনুষ্ঠানিক মৃৎপাত্র, উপজাতিদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র । কিশলয় বেষ্টিত নদীমাতৃক বাংলার নৌকার মডেল গ্যালারিকে সমৃদ্ধ করেছে। অস্তের সূর্য নরম সোনালি রোদ ছড়িয়ে জম্মভূমিকে করেছে অপরূপ।

এছাড়াও রাশজাহী সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অনুদানে আরও তিনটি সিটি গ্যালারি নির্মিত হয়ে উদ্ভোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে । এখানে প্রদর্শন করা হবে রাজশাহী শহরের আদি নিদর্শন, খানদানী বংশের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন, কৃতী সন্তানদের ছবি, ঐতিব্যবাহী টমটম, রেশম শিল্পর নিদর্শন, প্রচীন প্রেস, শহরের লেখকদের উল্লেখযোগ্য বই ইত্যাদি। জাদুঘর নির্মিত নতুন ভবনে উপজাতীয় সংস্কৃতি ও মৃদ্রা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করছেন। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে একটি গ্রস্থাগার উন্মুক্ত রেখে শিক্ষা নগরী রাজশাহীর এমফিল, পিইচডি ও সাধারণ ছাত্র- ছাত্রী এবং লেখক, গবেষকদের গবেষণা কর্মে সহায়তা করছে । এপ্রিল থেকে অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পযর্ন্ত, নভেম্বর থেকে মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পযর্ন্ত এবং শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পযর্ন্ত দর্শন মূল্য ছাড়াই জাদুঘর সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে। বৃহস্পতিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ষোষিত ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ‍ঃ
ব্রিটিশ আমলে ইংরেজরা আমাদের দেশে ঘোড়দৌড় বা রেস খেলার প্রচলন করে। খেলা দেখা ও বাজি ধরায় প্রচন্ড উত্তেজানা সৃষ্টি হত। শহরাঞ্চলেই ঘোড়দৌড় মাঠ বা রেসকোর্স ছিল। রেসের নেশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন। অনেকে এ খেলায় সর্বস্বান্ত হয়েছে। কার্যত আয়োজকরাই লাভবান হয়েছে। রাজশাহী শহরের রেসকোর্স ছিল পদ্মার পাড়ে। এখন এই রেসকোর্স ময়দান রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার এক পুরনো তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, রেসের পর এখানে টমটম বা ঘোড়াগাড়ী দৌড়ও হতো। রেস ও টমটম বন্ধ হওয়ার পর রাজশাহীর রেসকোস ময়দান দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। উদ্যান প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন width=300মন্ত্রী শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক আহম্মদ আব্দুর রউফ এর প্রচুর ভূমিকা ছিল। তাদের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে রাজস্ব বিভাগ হতে অনুমতি প্রাপ্ত ৩২.৭৬ একর এই জমিতেই কেন্দ্রীয় উদ্যান স্থাপিত হয় ও ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫শ টাকার ১টি প্রকল্প তৈরী করে টেস্ট রিলিফের টাকায় লেক খনন, সাইট উন্নয়ন ও কিছু বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থাকরা হয়। মূল্যবান গাছের চারা রোপণ, ফুল গাছের কোয়ারি ও কুঞ্জ তৈরি, লেক ও পুকুর খনন, কৃত্রিম পাহাড় তৈরি অর্থাৎ সামগ্রিক কাজ শুরু হয় ১৯৭৪-৭৫ ও ১৯৭৫-৭৬ সালে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শফিউর রহমান ও নজরুল ইসলামের সময়ে কিছু দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালানো হয়। তখন বাগানে ২টি বানর ছিল। ১৯৭৫ সালের শেষ ভাগে আব্দুর রহিম খানের প্রচেষ্টায় পটুয়াখালির জেলা প্রশাসক আব্দুস সাত্তারের নিকট থেকে ১ জোড়া হরিণ এনে রাখা হয়েছিল। তবে তখন চিড়িয়াখানা স্থাপনের চিন্তা- ভাবনা ছিল না। হরিণ দুটির বংশ বিস্তার হয়ে ১৮টিতে দাঁড়ালে রক্ষণা-বেক্ষণের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। যার কারণে ১২টি হরিণ ঢাকা চিড়িয়াখানায় দান করা হয়। সে সময় সুষ্ঠু পরিচর্যার অভাবে বাগানের মূল্যবান বৃক্ষের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল।

প্রকৃত পক্ষে ১৬/২/১৯৮৩ তারিখে চিড়িয়াখানা আরম্ভ হয়। জেলা পরিষদের সীমিত অর্থে ও রাষ্ট্রপতির ১০ লক্ষ টাকার অনুদানে এবং পরবর্তীতে বিভাগ উন্নয়ন বোর্ড হতে প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকায় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন ব্যবস্থা নেয়া হয়। সম্ভবত ১৯৮৩ সালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুস সালাম একটি বড় ড্রামে এক জোড়া ঘড়িয়ালের বাচ্চা ছেড়ে দিয়ে চিড়িয়াখানার পত্তন করেন। ১৯৮৫ সালে জেলা প্রশাসক ও পরে বিভাগীয় কমিশনার ছৈয়দুর রহমান ও জেলা পরিষদের প্রকৌশলী (মরহুম) আবদুর রহিম এর প্রচেষ্টায় একটি পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানায় উন্নীত হয়। ১৯৮৬ সালের জুন পযর্ন্ত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা উন্নয়নে ব্যয় হয় ৩৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৪৯২ টাকা। ৩/৬/১৯৮৬ তারিখে বিএডিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান কর্ণেল (অবঃ) আনসার আলী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে ১টি গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। তার পূর্বে এখানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিলনা । ফলে উদ্যান, পশু-পাখি ও মাছ সংরক্ষণ বিঘ্নিত হতো। উন্নয়ন ও সুষ্ঠু রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য রাজশাহী সিটি কপোরেশন জেলা পরিষদের কাছ থেকে প্রকল্পটি কিনে নিয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান মিনুর কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করেন। ২৬ জুন ২০০৩ এর এক তথ্যানুসারে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় ২টি সিংহ, ১টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ১৯৪টি চিত্রল হরিণ, ২টি মায়া হরিণ, ২৬টি বানর, ৯টি বেবুন, ৪টি গাধা, ২টি ভাল্লুক, ১টি ঘোড়া, ২টি সাদা ময়ূর, ৩টি দেশী ময়ূর, ৮৫টি তিলা ঘুঘু, ৬৮টি দেশী কবুতর, ৪টি সজারু, ২৮টি বালিহাঁস, ২টি ওয়াকপাখি, ১টি পেলিকেন, ৬টি টিয়া, ৪টি ভুবন চিল, ৪টি বাজপাখি, ১টি হাড়গিল, ৩টি হুতুম পেঁচা, ৯টি শকুন, ২টি উদবিড়াল, ৩টি ঘড়িয়াল, ১টি অজগর আছে। দশনার্থীদের জন্য লেকে আছে প্যাডেল বোট, নাগর দোলা। প্রধান প্রবেশ পথে জিরাফের ভাস্কর্য ও মৎস্যকুমারী ফোয়ারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। কৃত্রিম পাহাড়ে উঠলে চোখে পড়ে বিস্তৃত পদ্মা। যার দখিনা বাতাসে প্রাণ জুড়ায়।

রাজশাহীর মানুষ ছাড়াও প্রতিদিন শিক্ষা সফরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথী ও পযর্টকদের এখানে আগমন ঘটে। শীতকালে বন ভোজনের দল আসে প্রচুর। বনভোজন স্পটের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। সাধারণ দর্শণার্থীদের প্রবেশ মূল্যও নিধারিত। ৯/৬/২০০৬ তারিখের এক তথ্য মোতাবেক কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার জনবল ৪৭ জন। মাসিক গড় আয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

জিয়া শিশু পার্কঃ
রাজশাহী নওদাপাড়া পোষ্টাল একাডেমীর বিপরীত দিকে এই পার্কটি অবস্থিত। এটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×