গ্রামের নাম শশীভূষণ এটা চরফ্যাশন ভোলায়। চর এলাকায় বললে ভুল হবে কারণ ইতিমধ্যেই নগর কেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে।বন্যা কবলিত ভোলা জেলা হলেও মাঝামাঝি আমাদের গ্রাম হওয়ায় বন্যার প্রকোপ নেই বললেই চলে।
সাধারণ জোয়ারে তলিয়ে যায় নিম্ন ভূমি আর সমতল ভূমি ভোলা জেলার স্থান। দিনে দিনে শিক্ষার হার বেড়েছে। আমাদের এলাকায় তবে ১০০% শিক্ষায় শিক্ষিত নয়! সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ এখনও কুসংস্কার বিশ্বাসী।
একটা সত্য বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করলামঃ ঘটনা নাম্বার ( ১)সালাম সাহেব দীর্ঘ দিন সৌদি আরব ছিলেন এমনকি তিনি সন্তান জন্ম দিয়ে বিদেশে গেছেন, এসে দেখেন বিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত হয়ে গেছে। সালাম সাহেব সারা জীবন এইভাবে বিদেশে কাটিয়ে দিলেন, সালাম সাহেব হঠাৎ একদিন বিদেশে অসুস্থ হলেন বিদেশ থেকে বাসায় আসলেন। স্ত্রী ছিলেন কুসংস্কার তাবিজ, খনকার,আর জীন পরী সাধুবাবা বিশ্বাসী তার তদবির করা শুরু করলেন।
ভোলা জেলার যত খনকার আছেন সবাইকে তিনি দেখালেন, কোন উন্নতি নেই পরে কোন কাজ হয়না। তারপর তারে ঢাকা মেডিকেল ভর্তি করে সর্বশেষ তখন তার অবস্থা খুবই করুণ। অতঃপর পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে জানতে পারে তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে তারপর তার এত খারাপ অবস্থা আর কোন উপায় নেই।
ডাক্তার জিজ্ঞেস করল এত দেরী করে আনছেন কেন? উত্তর দিতে পারেন নাই । সালাম সাহেব পরিবার তাকে খনকার, তাবিজ কাছে থেরাপি দিতে দিতে শেষ সময়ে পৌঁছে গেছেন। এই কুসংস্কারের জন্য লোকটার সঠিক চিকিৎসা পথে গেলো না
ঘটনা নং( ২) বাড়ির পাশের সিরাজ মিয়ার অভাব পড়েছে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন ঢাকা।
তার বাড়িতে রেখে গেছেন তার ভায়রা নাম মাজেদ।
সে আসছে মনপুরা থেকে! বেশ কিছুদিন গেলো তার কোন কাজকর্ম না থাকায় ভাত খেতে কষ্ট হয়ে যায়।
নিজের নাম বদলে রাখে মুন্না ভাই! তার বয়স ৪৫ হবে তখন।
মাজেদ কোন একটি নতুন বুদ্ধি বের করে সে কিছু তাবিজের বই কিনে রাতে পরী আনে বলে গুজব ছড়িয়ে দেয়। অতঃপর অনেক মানুষ আসে আমিও যাই কিছু বুঝতে পারছি না। মাজেদ তারপর পরীর আদেশ মোতাবেক তাবিজ তুমার পানি পড়া দেয় মানুষ ভালো হয়। দিনে শত মানুষ আসে চিকিৎসা সেবা নিতে তাবিজ তুমার পানি পড়া আর রাতে পরীর কাছে। এলাকার মানুষ সবাই তাকে বিশ্বাস করে এবং তার কাছে যায়।মাজেদ এর এখন ভালোই ইনকাম চলছে! নানা মহিলা আসে আমি একদিন তার কাছে বসছি আসলেই কি ঘটেছিল!! ঘটনা পরী আসলে মাথা নাড়ায় তারপর ঝিমিয়ে যায় বাতি নিভিয়ে মানুষ প্রশ্ন উত্তর দেয়। দিনে চিকিৎসা দেয় মাজেদ আর রাতে পরী আনে।
এইভাবে দূর থেকে মানুষ আসে একদিন আমি তাবিজ দেওয়ার সময় কাছে বসি। এছাড়াও আমি দেখেছি বহু মহিলা আসছে তার জামাইকে বধ করতে আসছে মাজেদের কাছে মনে মনে ভাবি এদের নিয়ে সংসার করে মানুষ। মাজেদ সাহেব আজব কাণ্ড দেখেছি সুন্দরী মেয়ে বা মহিলা হলে একটু হাতে দিয়ে শরীর মুছে দেয় চাপ টাপ ও দেওয়া শুরু করলো।
আমাকে আবার মাজেদ ভালো জানতো তাই সে আমার সামনে কাজ করছে । তখন এই ঘটনা পরে আমার সন্দেহ হয়। একদিন এক মেয়ে নিয়ে ভাগছে নিজের দেশ মনপুরা মাজেদ তার সংসারে ছেলে মেয়ে ছিল, এক অবিবাহিত মেয়ে নিয়ে মনপুরা ভাগছে।
মেয়েকে উদ্ধার করে ফেমিলি তারপর আর এই আমাদের এলাকায় (চরফ্যাশন) আসতে পারে নাই মাজেদ।
ঘটনা (৩) বাড়ির পাশের মাজেদ ভক্ত মাজেদ চলে যাওয়ার পর, ফজিলত আপা কাছে এখন নিয়মিত পরী আনে দুই বছর ধরে ভক্ত হিসেবে তাকে নাকি পরী দিয়ে গেছে।
এলাকার লোক সকাল সন্ধ্যা তার বাড়ি আসল ব্যাপার হলো তিনি ও এখন আলোড়ন সৃষ্টি কারী খনকার।
ফজিলত আপার পরে আরো কিছু আছে যেমন হানুর বউ, আরো আশেপাশে সোহাগের মা খনকার কাজ করেন তবে সেটা বেশি সুপরিচিত নয় আলোড়ন নয়। ফজিলত আপার
মজার ব্যাপার হলো ফজিলত আপার আট সন্তানের মা সবাই বেঁচে আছে। এবং ফজিলত আপার ঘরে দশ সদস্যের একজন হলেই ফুটবল টিম তৈরি হয়ে যাবে।
ঘটনা (৪) মাজেদ যে বাড়ির ছিল সে বাড়িতে আরেক খনকার আসে নাম দিদার সাহেব।
বহুদিন তাবিজ,তুমার দিয়ে মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করে। মাঝেমধ্যে তার ভক্তদের রোগীর গালি গালাজ করতে ও দেখেছি। আসল কথা হলোঃ আমাদের এলাকায় ৯৯% লোক এই তাবিজ তুমার বিশ্বাস এবং জীন পরীদের বিশ্বাস আসলেই এটা আপনার কত্টুকু বিশ্বাস হয়??
আমি অনেকে বুঝাতে চেষ্টা করছি এসব ভণ্ডামি কিন্তু কাজ হয়না আমাকে উল্টা কটু কথা শোনতে হয়!!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


