somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ানমারের বাড়াবাড়ি এবং বিজিবি

২৫ শে মে, ২০১৬ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনেক ইতিহাস। এই দেশ এবং জাতীর জন্যে তাদের অহরহ ত্যাগের ইতিহাস। স্বাধিনতার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সুশৃঙ্খল এবং সফল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেল তথা বিডিআর। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একদল বিপদগামী সৈনিক বিদ্রোহ করে বসে। সেইদিন পিলখানায় রক্ত বন্যা বয়ে গেছে। অর্ধশতাধিক সামরিক কর্মকর্তাকে খুন করা হয় নির্মমভাবে। অনেকে মনে করেন এই ষড়যন্ত্র ভারতের মদদে হয়েছে। যাইহোক, এটি আমার আলোচনার বিষয় নয়। মুলত, এই বিদ্রোহের মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসের পতনের ঘন্টা বাজতে শুরু করে। এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে ভেঙ্গে দেয়া হয় বিডিআর। নতুন করে গঠন করা হয় বিজিবি নামক নতুন একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। কিন্তু, বিডিআর যে ইতিহাস গড়ে গেছে, বিজিবি সেই ইতিহাস ধ্বংশ করে গেছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যখন বিডিআর ছিলো, তখন মায়ানমার কখনো বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহসও করতো না। আর যখন বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর চেষ্টা করেছিলো। তখন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিডিআর মায়ানমারকে পরাস্ত করে। সেই যুদ্ধে সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করেনি। শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর একাই এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলো। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোন সদস্য নিহত হয়নি। অন্যদিকে এই যুদ্ধে মায়ানমারের সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করেছিলো। মায়ানমারের একাধিক সামরিক কর্মকর্তা হতাহত হয়েছে। এই যুদ্ধের পর থেকে মায়ানমার নিশ্চুপ ছিলো। এইছাড়াও, বিডিআর থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ভারতের সাথে সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বহু যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু, বিডিআর ভেঙ্গে বিজিবি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার থেকে আজ পর্যন্ত সেরকম অর্থে বিজিবির কোন প্রকার সাফল্য নেই। সীমান্তে বিজিবি নিজেদের নিরাপত্তা পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারছে। কতটা ব্যার্থ বাহিনী হলে একটা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যার্থ হয়। ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যদের ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। এটা এখন অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অথচ, বিডিআর থাকাকালীন সময়ে এমন ঘটনা আকাশ কুসুম ব্যাপার ছিলো। আর ২০১৫ সালে এসে মায়ানমারও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাড়ায়। যে মায়ানমার বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর চেষ্টা করতেই মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছিলো বিডিআর। সে মায়ানমার বিডিআর ধ্বংশের কয়েকবছর পর বাংলাদেশের দিকে মাথা তুলে তাকিয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির এক কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। এর পরেও একাধিকবার বাংলাদেশের সীমান্তে আক্রমণ করে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যদের পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, মায়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের এমন বাড়াবাড়ির পরেও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার একশনে যাচ্ছে না। সর্বশেষ মায়ানমার বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্গন করে বিজিবি ক্যাম্পগুলোর উপর টহল দিয়ে গেছে। যেটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগেও মায়ানমারের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার আকাশ সীমা লঙ্গন করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। মায়ানমারের এমন বাড়াবাড়ির পরেও বাংলাদেশ থেকে সেই রকম কড়াকড়ি করে কোন প্রকার প্রতিবাদ করা হচ্ছে না। যে ধরনের প্রতিবাদ করা হচ্ছে, সেটা নামমাত্র প্রতিবাদ শুধু। যে কারনে মায়ানমারের মত একটা তৃতীয় শ্রেণীর দেশ বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায়। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি যদি বিডিআর এর মত গর্জে উঠে। তাহলে মায়ানমার আবার আগের মত মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে যাবে।
পরিচালক
এনাইলাইসিস এণ্ড রিসার্চ সেন্টার
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৬ রাত ১০:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×