somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনক (ছোট গল্প)

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"শিরোনামখানি ধার করলাম প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কাছ থেকে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্যস্বরূপ"

আলম সাহেবের মেজাজ এখন সপ্তমে। রশীদা মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গেছে, এখনো ফিরেনি। স্কুল ছুটি হয়েছে অনেক আগেই। নিশ্চই আসরে বসে গেছে। ঘরে তিনি আর তার দুই ছেলে। আবীর-সাব্বির আড়াই বছরের বড় ছোট। আবীর ক্লাস ফাইভ আর সাব্বির থ্রীতে। এরা পড়ালেখায় মন্দ না। কিন্তু অসম্ভব ডানপিঠে। একদণ্ড শান্তিতে বসবেনা কোথাও। রুমা, আলম সাহেবের বড় মেয়ে। আবীরের একবছরের বড়। ভাইদের ঠিক উলটো। আলম সাহেবের মনে হয় মেয়েটা হয়েছে বোকার হদ্দ। ঠিক মায়ের মতো। ছেলে দু’টো আজ তাড়াতাড়ি ফিরেছে। কোন শিক্ষক নাকি মারা গেছে তাই স্কুল ছুটি। আরে মানুষ হয়ে জন্মেছে তো মরবেই। তাতে কি স্কুল ছুটি দিতে হবে নাকি। রশীদা এদের খাইয়ে বের হয়েছে। আর বজ্জাত গুলো খেয়ে মাত্র বারান্দায় গিয়ে দাপাদাপি শুরু করেছে।

সকাল থেকে দাতেঁর ব্যথায় অস্থির। তাই আজ দোকানেও যাওয়া হয়নি। বারোয়ারি দোকান একদিন বন্ধ থাকলেও অনেক ক্ষতি। খিদেও পেয়েছে খুব। রশীদা যাওয়ার আগে হাতের কাছে পাতলা সুজি দিয়ে গেছে। একচামচ মুখে দিয়েছিলেন, চিনি হয়নি। এই মহিলার চুলে পাক ধরলো তাও আন্দাজ ঠিক হলোনা। বিরক্তি কাটানোর জন্য পত্রিকাটা হাতে নিলেন। পত্রিকা পড়াও আরেক জ্বালা। দু’লাইন লিখে বাকি অংশ অমুক পাতায় তমুক কলামে। আজকের মূল খবর বিরোধী দলগুলোর হুমকি – সরকার নাকি উপড়ে ফেলা হবে। সরকার কি আম-কাঠাঁলের গাছ যে উপড়াতে হবে।

পত্রিকায় মন বসাতে পারছেন না। আজ মনে হয় গরম একটু বেশি পড়েছে। ফ্যানের বাতাসেও কাজ হচ্ছেনা। ছেলে দু’টোর চেঁচামেচি কানে লাগছে খুব। একবার ভাবলেন ধমক দিয়ে আসবেন নাকি। আবার ভাবলেন, না থাক। ছেলেগুলো চার দেয়ালের বাইরে কোথাও তো যেতে পারেনা। এই বয়সে তাকে তো ঘরেই পাওয়া যেতোনা। বিরোধী দলের হুমকির বাকি অংশ সাত নম্বর পাতায়। তিনি সাত নম্বর পাতাটাই খুঁজে পাচ্ছেন না। কি অদ্ভুত ব্যাপার।

এই সময় সাব্বিরের গগনবিদারী চিতকার শোনা গেল। চট করে রক্ত চড়ে গেল আলম সাহেবের মাথায়। এদিক-ওদিক তাকিয়ে যুতসই একটা লাঠি পেয়ে গেলেন। ছুটে বারান্দায় বের হয়ে আসলেন। আবীর দেয়ালের সাথে ঠেঁসে ধরেছে সাব্বিরকে। আর সাব্বির ষাঁড়ের মত চেচাঁচ্ছে। দিশেহারার মতো পেটানো শুরু করলেন আবীরকে। আবীর দু’হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করছে আর কি যেনো বলছে। আলম সাহেব পাগলের মত লাঠি চালাচ্ছেন। তার কানে কিছু ঢুকছেনা। সাব্বির দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে চোখ বড় বড় করে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। আলম সাহেব একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছেন। হঠাত ঘোর কেটে গেলো। আবীর মাটিতে বসে পড়েছে। হাত-পা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। আলম সাহেবের চোখ গেল হাতের লাঠির দিকে। লাঠির একপাশে ছোট ছোট অনেকগুলো পেরেক।

কি আজব দৃশ্য! ভরদুপুরে মধ্যবয়স্ক এক লোক রাস্তায় পাগলের মত দৌড়াচ্ছেন। তার কোলে দশ-এগারো বছরের এক বালক। পেছন পেছন ছুটছে সাত-আট বছরের আরেক বালক। আলম সাহেব ছুটছেন। তিনি জানেন না কোথায় যাচ্ছেন। একজন ডাক্তার খুব দরকার তার। তার চোখ জলে ঝাপসা হয়ে আসছে। কিছু দেখতে পাচ্ছেন না তিনি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৫১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায়, বিদায় প্রিয় যুক্তিবাদী

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

বিদায়, বিদায় প্রিয় যুক্তিবাদী

পীরজাদা আলহাজ্ব মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে কিছু কণ্ঠ থাকে, যেগুলো শুধু শব্দ নয়; হৃদয়ের ভেতরে ঢুকে আলো জ্বালিয়ে দেয়। বাংলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব নারী দিবস- তাসনীম আফরোজ ইমি শ্রদ্ধা

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫১


আজ ছিল বিশ্ব নারী দিবস....পড়ছিলাম Chromosomal Determination of Sex.....খুবই ইন্টারএস্টিং বিষয় যেখানে বর্ণনা দেওয়া আছে কিভাবে সন্তান বাবা-মায়ের ডিএনএ ৫০%-৫০% পায়। কিন্তু এক জায়গায় বাবা কিছুই দিতে পারে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে

লিখেছেন অর্ক, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩



আমার একটি অভিজ্ঞতা বলছি। বেশ ক'বছর আগে ইরানি ফুটবল দল বাংলাদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছিলো। খেলেছিলো বাংলাদেশের সাথেও। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হয়েছিলো খেলা। সরাসরি দেখেছিলাম। সে এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা। ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির জোয়ার: টাকা আসবে কোথা থেকে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০২


ক্ষমতায় বসার এক মাস পেরোতে না পেরোতেই নতুন সরকার একের পর এক ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার কালপুরুষ আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:০১

সেই ২০০৬ সাল থেকে বাংলা ব্লগের শুরুর সময়টা থেকে তিনি ছিলেন আমাদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। প্রথম অফলাইন আড্ডাগুলি হত তারই সাথে। সময়ের চাপে আমাদের দেখা হত না হয়ত কিন্তু মনে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×