somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুরোধ, আবেদন... মাদককে না বলুন...

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
SSC, HSC-তে দুইবার Board Stand করার Brilliant Result নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ভার্সিটিতে। বেশ ভালই কাটছিল দিনগুলো। পড়াশুনাটা খুব ভালই চলছিল প্রথম দিকে। কিন্তু আজ? হায়, এ আমি কি করলাম!!!
২.
স্কুলজীবন থেকে চলে আসা আমার আর নিনতার প্রেমটা ততদিনে বিশালত্বের রূপ নিয়েছে। ইস, দুজনের কত স্বপ্ন! জীবনটাকে তখনো খুব রঙিন মনে হত। ভার্সিটির এক-একটা দিন মনে হত এক-একটা স্বপ্নের মত। কিন্তু হঠাৎই এক হরতালে, বোমাবাজিতে নিনতা নিহত হল। আমার স্বপ্নের পৃথিবীতে নেমে এল চিরদিনের সূর্যগ্রহণ। বন্ধুরা কেউ কেউ বলল, "ভুলে যা ওসব, ভার্সিটিতে অমন হাজারটা সুন্দরী মেয়ে পাবি, নে ধর... ..." বিষণ্ণতা ভুলতে হাতে তুলে নিলাম ্ওদের এগিয়ে দেয়া সিগারেট। বাবা-মায়ের সমস্ত আদেশ-উপদেশ, স্বপ্নকে চুরমার করে; হারিয়ে যাওয়া নিনতার রেখে যাওয়া সমস্ত ভালবাসা উপেক্ষা করে, আমার সিগারেট ফুলে ফেঁপে মদের বোতলে পরিণত সময় লাগল মাত্র ছ'মাস। সময়-সুযোগমত সমাজের একদল সাধু-সন্ন্যাসীর কালোথাবায় মায়ের দেয়া পবিত্র কলমের জায়গাটা লুফে নিল কিছু ভারী অস্ত্র। সময়ের অল্প ব্যবধানে আমি হয়ে উঠলাম বোর্ডস্ট্যান্ড করা সন্ত্রাসী "স্ট্যান্ড তারিক"... ...
নিনতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীটা আজও মনে আছে। সেদিনও হরতাল। অস্ত্র আর বোমা সহ আমি ধরা পড়লাম পুলিশের হাতে। কিন্তু টেলিফোন আর মোবাইলের কল্যাণে আমার জেলমুক্ত হতে সময় লাগল মাত্র তিনদিন। কিন্তু জেলের দুইটা রাতই আমার হৃদয়ে তুলে ধরল আমার ফেলে আসা দিনগুলি। বারবারই কেবল শুনতে পাচ্ছিলাম মা বলছে, "খোকা, এই কি তোর পড়াশুনা !" যেন নিনতার আত্মা আমায় ঘৃণায় ধিক্কার করছে, "ছি! এই কি আমার জন্যে তোমার ভালবাসা ?" আমি ভাল হবার পণ করলাম। সবকিছু ঝেড়ে ফেলে ছুটে চললাম বাড়ির দিকে। কিন্তু বাড়িতে আর ঢোকা হল না। কারণ, আমার সুকীর্তির চিত্রটা টেলিভিশনে দেখার পরমুহূর্তেই বাবা হার্টঅ্যাটাকে মারা যান। মা আমাকে দেখেই দূর থেকে চিৎকার শুরু করেন, 'এমন ছেলেই কি আমি গর্ভে ধারণ করেছিলাম !!' কিছুতেই স্পর্শ করতে দিলেন না বাবার কবরটা। ছোটবোন আশা একটু কাছে এসে বলল, "ভাইয়া, তুই চলে যা। তোকে বেশিক্ষণ চোখের সামনে দেখলে হয়ত মাও হার্টঅ্যাটাক করবে।" আর দাড়িয়ে থাকার সাহস হল না। কলঙ্কিত মুখটা কোনমতে গোপন করে বেড়িয়ে এলাম বাড়ি থেকে। কিন্তু সমাজ আমার ভাল হবার সব ক'টা পথ ততকদিনে বন্ধ করে দিয়েছে। অবশেষে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অর্ধউন্মাদ অবস্থায় ঘুরতে লাগলাম। আমার জীবন নদীর দু'কূলেই ভাঙন ধরল।
৩.
অনেক বছর পর, একুশে বইমেলার গেটে দাড়িয়ে ছিলাম অন্যমনস্কভাবে। হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে চমকে উঠলাম, পাশে দাড়িয়ে থাকা লোকটা বোধ হয় ওর Husband, আর সঙ্গের পিচ্চিটা মনে হয় ওর সন্তান। কাছে গিয়ে খুব জানতে ইচ্ছে করছিল, " আশা, মা কেমন আছে?" আমার ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে হাহাকার করে উঠল, কিন্তু পারলাম না। কারণ, পাশের ঐ লোকটা যখন জানতে চাইবে 'আমি কে'; তখন কী জবাব দেবে আশা??? তাই আজ সমাজের সকল ছদ্মবেশী সাধু-সন্ন্যাসীদের কাছে আমার অনুরোধ, "দয়া করে পবিত্র বিদ্যাপীঠগুলোকে কলুষিত করবেন না... ।" আর পৃথিবীর সমস্ত তারুণ্যের কাছে আমার আবেদন, "মাদককে না বলুন... ..."
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০২
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×