১৫২৬ সালে পানিপথে পতন হয়েছিল অত্যাচারী পাঠান বাদ্শা লোদির। মসনদ চলে যায় মোঘলদের হাতে। সে এক রক্তের ইতিহাস। শের-শাহ, সংগ্রাম সিং, নাদির শাহ এরা ভারতবর্ষে রক্তের স্রোতধারা বইয়ে দিয়েছিল। বাবরের পূর্বপুরুষ চেঙ্গিস খান, হালাকু খান এদের নাম তো ইতিহাসের পাতায় রক্তের ছোপ দিয়ে লেখা। তারও আগে সুলতান মাহমুদ আমাদেরকে রক্ত উপহার দিয়েছিল। মোঘলের আগমনে মানুষ ভেবেছিল এবার মুক্তি। কিন্তু কোথায় মুক্তি? আমরা সেই পরাধীনই থেকে গেলাম। আরও ২৩১ বছর পর বঙ্গদেশে মীরজাফরদের কল্যাণে এক বিদেশী নবাব সিরাজ এর কাছ থেকে প্রকৃত ক্ষমতা চলে গেল আরেক ভিনদেশী ইংরেজ বেনিয়াদের হাতে। তারা কি করল সে তো সবার জানা। ১৯৪৭ সালে আবার আমাদের ভাগ্য নিয়ে খেললেন মাউন্ট ব্যাটেন ও জিন্নাহ। এক শকুনের থাবা সরে যাওয়ার পরে আরেক শকুনের থাবা পড়ল আমাদের ইতিহাসে। পরবর্তী ২৩ বছর আমাদের কেটেছে হায়েনাদের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পরবর্তী সময় কেটেছে দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক ও গুপ্ত হত্যার মধ্য দিয়ে। তার পর এলো সামরিক শাসন। টিপে ধরা হয়েছিল মানুষের গলা। একদিন তারও অবসান হল। এলো মুক্তির সনদ গণতন্ত্র। আসলেই কি তাই? এবার আমরা গিয়ে পড়লাম দুই নেত্রীর হাতে। সাধারণ মানুষের আজো মুক্তি মেলেনি। ঘরে থাকলে বেডরুমে ঘাতক এসে হত্যা করে যায় আর ঘর থেকে বের হলে থাকে গুম হওয়ার ভয়। রাস্তায় আছে মাসুদ রানার মত প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরা লোক। শান্তি??? সে থাকে সুদূরে। মুক্তি???? তা নিয়ে কাউকে ভাবতে হবেনা। র্যাবের ক্রস-ফায়ার, গুম বাহিনী কিংবা বেপরোয়া পিকেটারেরা বর্তমানে মুক্তি দেয়ার সে মহান দায়িত্ব পালন করতেছে।
এটি আমার ব্লগে প্রথম লেখা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




