সেই ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি কাটিয়ে আবার ফিরে এলাম রাজধানীর কোলে। অনেক দিন ধরে বাড়ি যাওয়া হয়না বিধায় মমতাময়ী জননী বারংবার মোবাইল ফোন মাধ্যমে বাড়িতে আসার জন্য বলে যাচ্ছে। বলেছে শীতকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তোর জন্য এখনো শীত পিঠা বানানো হয়নি। যে কোন সপ্তাহের শেষ দিকে চলে আয়। মাতৃবাঞ্চা পূরণের নিমিত্তে গত সপ্তাহ দুয়েক আগে ঠিক করিলাম আগামীকল্য (৩১/০১/২০১৩) অর্ধ-বেলা অফিসের কাজ কর্ম করিয়া বসের নিকট থেকে অনুমতি লইয়া বাটীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইব। এই তথ্য খানা মোবাইল ফোন মারফত জননীকে জানানো মাত্র তিনি আনন্দে আটখানা হইলেন। পাশ থেকে ছোট বোনটি কইয়া উঠিল আসার সময় আমার জন্য ১ (একটি) টি ৫ (পাঁচ) টাকার নতুন প্যাকেট লইয়া আনবেন। সে নিমিত্তে আজিকে আনুমানিক সাড়ে দশ ঘটিকার সময় কো-অপারেটিভে গিয়ে খোজ নিলাম নতুন পাঁচ টাকার প্যাকেট আছে কিনা। নাসূচক জবাব পেয়ে ছোট্ট বোনটিকে জানিয়ে দিলাম যে সম্ভবত পাঁচ টাকার প্যাকেটের পরিবর্তে দশ টাকার প্যাকেট আনবো। কিন্তু যে তার চাহিদা পাঁচ টাকার প্যাকেট! অতঃপর কাজকর্মের মাঝে একটু সময় করে (আসলে ফাঁকি দিয়ে) ক্যাশ সেকশনে গিয়ে একটি কাঙ্ক্ষিত নোটের প্যাকেটটি সংগ্রহ করে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ডিপার্টমেন্টে ফিরে এসে অনলাইন নিউজ দেখে জানলাম আগামী কাল হরতাল ডাকা হয়েছে। হতাশ হয়ে গেলাম। এদিকে নতুন বছর উপলক্ষে সংগৃহীত পঞ্জিকাগুলো (Calendar) পাওয়ার জন্য পিচ্ছি Cousin গুলা মুখিয়ে আছে। অপরদিকে মায়ের হাতে বানানো পিঠা খাওয়ার লোভে জিভে যে জল এসে গেছে সে আর নাই বললাম। মনে মনে হরতাল ঘোষণাকারীদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়লাম। কিন্তু কি আছে আমার? আশাহত হয়ে অবশেষে ছোট্ট বোনটিকে জানানোয় সে যে কি হতাশ হল সে লেখার সাধ্য আমার নাই। শুধু অনুভব করছি। জননী কহিলেন কি আর করা। সম্ভব হলে আগামী সপ্তাহে আসার প্রস্তুতি নে। কি আর করা সে প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া? তবে একবার মতিকন্ঠের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করছে, “আগামীকল্য হর্তাল ঘোষণা করেছে বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর খানকির পোলায়ে আমীর... ... ... ... ...। অপর দিকে বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখার যুগ্ম মহাসচিব ... ... ... ... জোট শরিকদের কর্মসূচিতে নিজেদের সমর্থনের কথা জানান।”
পুনশ্চ: আগামীকল্য সকালে হরতালের মধ্যেই স্টাফ বাসে করে কর্মস্থলে যাইতে হবে, যদিও হরতালে পিকেটিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




