somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ্যডমিরাল জেনারেল আলাদিনের গণতন্ত্র!

২৩ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপক্রমনিকা:
বরিশালের জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৩ তে গো হারা সাবেক মেয়র, দশম জাতীয় সংসদের ১২৩ আসনের খয়রাতি এম.পি. জনাব শওকত হোসেন হীরনের মহাপ্রয়ানের পর বরিশাল-১২৩ আসনটি শূন্য হলে সেখানে উপ নির্বাচনে প্রার্থী হন হীরন জায়া জনাবা জেবুন্নেছা হীরন। খয়রাতি এমপির লজ্জা নিয়ে জনাব হীরন পারাপারে গেছেন বলেই কিনা তাঁকে নির্বাচনের মাধ্যমে জেনুইন এমপি বানানোর জন্য জনাব সাইফুল ইসলাম লিটন উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে গেলেও নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে তাঁর কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

প্রধান অঙ্ক:
সময়: ১৫ জুন ২০১৪
স্থান: বরিশাল সদর

উপ-নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রিজাইডিং অফিসার বললেন খেয়াল রাখতে যাতে করে কাষ্টিং ভোটের পরিমান ৩০-৩৫% এর মাঝে থাকে। যাই হোক সকাল ০৭:৫৫ মিনিটে বুথে প্রয়োজনীয় সামগ্রী যথা: ব্যলট পেপার, ভোট বাক্স, অমোছনীয় কালি, ওয়ান টাইম লক ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে আসলাম। বুথে উপস্থিত ছিল শুধুমাত্র সরকার দলীয় এজেন্ট। প্রথমেই একজন এজেন্ট এসে বলল স্যার আজকে সারাদিন কোন ভোটার আসবেনা। সারাদিন আমরা কয়েকজন মিলে ভোট দিব। কি সুন্দর আবদার! আমি না শুনার ভান করলাম। অপরদিকে আমাদের প্রতি নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা ছিল জাল ভোট কিংবা ব্যলটে গণহারে সীল মারার সময় আমরা যেন নিজ হাতে কিছু না করি। মাঝে মাঝে কিছু চ্যানেলে দেখা যায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা পোলিং অফিসারগণ সীল মারে। এমনটি যেন না হয়। যা করার এজেন্ট, নেতা কর্মীরা করবে।
যাই হোক আমার বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫৫ জন। সারাদিন আমার নিকট থেকে বৈধ ভাবে ব্যলট নিয়েছেন দুইজন। দুজনার কেউই গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন নাই। প্রথমজনের কথা বলছি। এসে পোলিং অফিসারের নিকট নাম ভোটার ক্রমিক নং বলেই আমার নিকট ব্যলট চাইল। আরেকজন পোলিং অফিসারকে আমি বললাম উনার আঙ্গুলে অমোছনীয় কালি লাগাতে। তিনি বললেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমার আঙ্গুলে কালি লাগানোর প্রয়োজন নাই বলিয়া প্রকাশ্যে ভোট দিয়ে চলে গেলেন। যাক ভোট নেয়ার নতুন নিয়ম শিখলাম। অবশ্য তিনি পরবর্তীতে অন্তঃত আরো দু’টি ভোট অন্যদের পক্ষে দিয়েছেন। দ্বিতীয় জনের কথা এবার বলা যাক। উষ্কু-খুষ্কু চেহারার একজন লোক এসে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানপূর্বক ভোট দিতে চাইলেন। তথ্যাদি যাচাই শেষে তাকে ব্যলট দেয়ার পর তাকে অনুরোধ করলাম গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে। তিনি তা না করে বললেন দলের জন্য অনেক করেছি কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাই নাই। তাই প্রকাশ্যে দলের এন্টি প্রার্থীকে ভোট দিব বলিয়া ভোট দিলেন।
কিন্তু ৮:০৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা না বললেই নয়। একজন এজেন্টের সাথে কয়েকজন নেতাকর্মী এসে বলল ব্যলট দেন, ভোট দেই। এ কথা বলে আমার কাছ থেকে ব্যলট বইটি কেড়ে নিয়ে তাতে সীল মারা শুরু করল। অনেক অনুরোধ করার পর দশটি পাতা রেখে অর্থাৎ ৯০ টি ব্যলটে সীল মেরে সেগুলো স্বচ্ছ (!) ব্যলট বাক্সে রেখে চলে গেল। ঘন্টাখানেক পর আবার এসে নতুন ব্যলট বইটি নিয়ে গেল। তাদেরকে বললাম আরে তোমরা তো এমনিতেই জিতবে। আর মারার দরকার কি? তারা বলল উপর থেকে নির্দেশ আছে অন্তঃত ৫১% ভোট যে করে হোক কাষ্ট করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমার বুথে ২৫০ টি ভোট কাষ্ট হয়েছে, যার মধ্যে ২টি লিগ্যাল।
আরেকটি ছোট্ট ঘটনা। আনুমানিক ২৫ বছরের এক তরুণ আসল ভোট দিতে। ভোটার ক্রমিক নং জানেনা। জীবনের প্রথম ভোট দিতে আসল। সাথে নিয়ে এসেছে জাতীয় পরিচয়পত্র। আমার নিকট থাকা তালিকার কোথাও তার নাম পাওয়া গেলনা। জীবনের প্রথম ভোট দিতে না পারার তার মুখে আমি হতাশার ছাপ দেখলাম। তাকে বললাম এই তালিকায় আপনার নাম না থাকলে আমি আপনার ভোট নিতে পারবোনা। আপনি ভোট কেন্দ্রে এসেছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ছেলেটি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবার কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে নিয়ে আসলো এবং অন্য একজনের নাম বলে তার ভোট ছেলেটিকে দিয়ে দেয়াল। আমি ছেলেটিকে বললাম একটু আগে আপনাকে যে ধন্যবাদ দিলাম সেটি আমি প্রত্যাহার করে নিলাম। অবশ্য ধন্যবাদ প্রত্যাহারে তার কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলনা। ব্যলট লুট করে গণহারে ভোট দেয়ার সময় একজন বলল কিছু ভোট টেলিভিশনে দে। ব্যাপারটা খারাফ দেখা যায়।
জাল ভোট এবং ব্যলট লুটের ঘটনা একটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা ম্যানের সামনে পড়ে। পরে তাকে (সাংঘাতিক) ২০০০ টাকা সম্মানি দিলে তিনি কোন ফুটেজ গ্রহণ না করে চলে যান।
তারপর বিকাল ৪:০০ তে ভোট বাক্স লক করে দিলাম। সবগুলো বক্স একত্র করে ভোট গণনা শুরু হল। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষনা করা হল। একটি রেজাল্ট শীট তারা নিয়মানুযায়ী নিয়ে গেল। যাওয়ার পথে তারা জয়ধ্বনি করতে লাগল। আমি নিশ্চিত এ জয়ধ্বনি গণতন্ত্রের বুকে শেল হয়ে বিঁধবে। তবে যাই হোক দিনশেষে কিন্তু গণতন্ত্রের বিশাল জয় হল বটে!
পরিশেষ: সারাদিন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার পর ২০০০ টাকা পেলুম। তার মাঝে ১০ টাকা অবশ্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হল। এর সাথে পকেট থেকে আরো ২০০ টাকা যোগ করে ২১৯০ টাকা দিয়ে নিকটস্থ বাটার সো-রুম থেকে এক জোড়া জুতো কিনে নিলাম।
যবনিকা।।

আমার রুমমেট কলিগ গত কয়েকদিন আগে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এর উপর একটি স্পেশাল ট্রেনিং করে আসলো। তার সাথে অফিস শেষে হাসি-ঠাট্টা করার এক পর্যায়ে সে বলল আমি এখন এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট এক্সপার্ট। একদম এক্সপোর্ট করে দিব। আমি বললাম দে আমাকে এমন কোথাও এক্সপোর্ট করে দে যেখানে এ্যডমিরাল জেনারেল আলাদিনের গণতন্ত্র অনুপস্থিত।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×