গত ১৬ তারিখ বুধবার একটি কাজে ট্রাষ্ট ব্যাংকে গেলাম। হঠাৎ তাদের LED Display তে দেখলাম ত্রৈমাসিক FDR এর সুদের হার ৯.৫০%। অবাক হয়ে একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করতে তিনি বললেন বর্তমান সুদের হার আরো কমে গেছে। এটি গতকালের রেট। আজকের রেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, আজকের রিভাইজড রেট হল ৮.৭৫%। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাটা ডিস্প্লেতে আপডেট করা হবে। অথচ গত বছরও FDR এর সুদের হার ত্রৈমাসিক এর ক্ষেত্রে ১০% এর উপরে ছিল।
আমি অর্থনীতির ছাত্র নই। তবে এতটুকু সহজেই বুঝতে পারি যে, স্থায়ী আমানতে সুদের হার বেশী হওয়ার মানে হল দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বজায় থাকা। দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ থাকলে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার পরিমান বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যাংক তার একাউন্ট হোল্ডারদের নিকট থেকে উচ্চ সুদে স্থায়ী আমানত সংগ্রহ করে থাকে। বর্তমানে দেশে তেমন বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন ঝুঁকিতে টাকা ব্যাংকে রাখতে আগ্রহী। ফলে ব্যাংকে একদিকে তারল্য বেড়ে যাচ্ছে, অপরদিকে ব্যাংক লোনের মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগ করতে না পারার কারণে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছে। এ সবের ফলাফলই হচ্ছে স্থায়ী আমানতে নিম্ন সুদ হার।
এবারে আসা যাক আমাদের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রসঙ্গে। দক্ষিন এশিয়ায় একমাত্র ভারতেই আমাদের চাইতে বেশী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। অনেকে রিজার্ভের এই উচ্চ পরিমান প্রসঙ্গে খুবই উল্লাসিত। আসলে উচ্চমাত্রার রিজার্ভ ভালো কি খারাপ এ সম্পর্কে কোন মতামত দেয়া সম্ভব নয়। রিজার্ভের মূল উদ্দেশ্য হল যেন অন্ততঃ ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যায়। কিন্তু আক্ষেপের ব্যাপার হল শিল্পায়নের মেশানিরিজ আমদানি বন্ধ থাকার কারণে রিজার্ভ বেড়ে যাওয়া কোন ভালো কিছু নয় বলে আমার মনে হয়, যদিও তাতে কারো কিছু আসে যায় না। সরকার বলেছে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবে। হয়তোবা সে লক্ষ্যে ডলার জমিয়ে রাখছে! সরকারী হিসেবে যাই হোক না কেন আজকের বাজে খাদ্যদ্রব্যে মুদ্রাস্ফীতি ১২% উপরেই হবে। অখাদ্য পোয়া মাছের দাম ৭০০ টাকা কেজি। হায়রে সোনার বাংলা! দেশে চলছে কালো বাজারী। মানুষ এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রকে বেছে নিয়েছে। এতে সরকারের পোয়াবারো। সরকারের ব্যাংক ঋণ কমেছে। সবদিকেই জয়জয়কার। আর মাঝখানে আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা খারাপ। বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে যে ব্যাংকের সেভিংস একাউন্ট থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন চার্জ, ট্যাক্স, এক্সাইজ ডিউটি কাটার পর মূল টাকার পরিমান কমে যাচ্ছে।
পরিশেষে সবাইকে একটা আহ্বান করতে পারি, “আসুন আমরা সবাই রিজার্ভ ধুয়ে পানি খাই”।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




