somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিশমিশ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিশমিশ আমরা সকলেই খুব ভালো করে চিনি। যে কোনো মিষ্টি খাবারের স্বাদ এবং সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজেই আমরা কিশমিশ ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও অনেকে পোলাও, কোরমা এবং অন্যান্য অনেক খাবারে কিশমিশ ব্যবহার করেন। রান্নার কাজে ব্যবহার করলেও আমরা কিশমিশ সাধারণ ভাবে খাই না। অনেকে তো ভাবেন এমনি কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এই কথাটি আসলে সত্যি নয়।
প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। আমরা সাধারনত উৎসব বা অনুষ্ঠানের রান্নায় কিশমিশ ব্যবহার করি। এছাড়া কেউ কিশমিশ খাই না। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনই কিশমিশ খাওয়া উচিৎ। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার কার্যকর কিছু কারন।
দেহে শক্তি সরবরাহ করে
যদি দুর্বলতা অনুভব করেন তাহলে দেরি না করে কিছু কিশমিশ খেয়ে নিন। কিশমিশে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ তা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার দেহে এনার্জি সরবরাহ করবে। (ডায়বেটিসের রোগীদের জন্য প্রযোজ্য নয়)।
দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায় কিশমিশ
বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু বাচ্চাদের ক্যান্ডি বা চকলেটের পরিবর্তে কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। অনেকে ভাবতে পারেন কিশমিশে তো চিনি রয়েছে। কিন্তু চিনি থাকার পাশাপাশি কিশমিশে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।
হাড়ের যত্নে কিশমিশ
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিশমিশে আরও রয়েছে বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে।
ইনফেকশন হতে বাঁধা প্রদান করে
কিশমিশের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা কাঁটা ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দূরে রাখে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের কোষগুলোকে ফ্রি র্যা ডিক্যাল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাঁধা প্রদান করে। কিশমিশে আরও রয়েছে ক্যাটেচিন যা পলিফেনলিক অ্যাসিড, এটি আমাদের ক্যান্সার মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
হ্যালোটুডে ডেস্কঃ বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে খাওয়া দাওয়ার সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। রোজকার ভুরিভোজ ওজন বাড়ায়। অন্যদিকে সঠিক ডায়েট অনুসরণ না করলে বা ওজন কমানোর তাগিদে না খেয়ে থাকলে সন্তান ধারণের সমস্যা দেখা দেয়। আজকাল পুরুষের মাঝে বন্ধ্যাত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সুস্থ সবল প্রজনন ক্ষমতা ধরে রাখতে পুরুষের জন্য রইলো কিছু জরুরী টিপস।
সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে গেলে স্বাভাবিক ওজন এবং নীরোগ শরীর চাই। অতিরিক্ত বেশি বা কম সন্তান ধারণের পক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী ওজন ঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাবার খান।
ভাজা ও জাঙ্ক ফুড কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম রং ও গন্ধ যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
পুরুষের ইনফার্টিলিটি প্রতিরোধে আমন্ড বাদাম খুব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। চেষ্টা করুন সকালে নাস্তায় গোটা চারেক আমন্ড খাওয়ার।
ভিটামিন-ই নারী পুরুষ উভয়েরই ইনফার্টিলিটি প্রতিরোধে কিছুটা সাহায্য করে। দই, ইস্ট ইত্যাদি খাবারে রয়েছে এই ভিটামিন। অন্যান্য খাবারে ভিটামিন ই সামান্য পরিমানে থাকে তাই ভিটামিন-ই ক্যাপসুল খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভিটামিন-ই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে অনুঘটকের কাজ করে। প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে ভিটামিন-ডি। আর ভিটামিন-ডি মেটাবলিজমে সাহায্য করে ভিটামিন-ই।
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। যে কোনও অয়েল সিড যেমন বাদাম, তিল, তিসি এবং মাছের তেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। সপ্তাহে টিং থেকে চার দিন মাছ খান। এছাড়া রান্নায় তিল ব্যবহার করতে পারেন।
মৌসুমি ফল ও সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আম, পেয়ারা, তরমুজ, আপেল, আঙুর ইত্যাদি ফল ও ঢ্যাঁড়স, বাঁধাকপি, কুমড়ো ইত্যাদি সবজিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমানে।
পেট ভরে পুষ্টিকর খাবার খান, আর সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পৃথিবীতে নিয়ে আসুন, ভাল থাকুন।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×