somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আপনি মানুষ নাকি অন্ধ?

০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লোকাল বাস; এটা নিয়ে লিখতে হলে ডজনখানেক পর্ব ছাড়া শেষ হবে না, আর পর্ব বাড়বে তখন যখন বিষয়ের সাক্ষী চোখে আঙ্গুল দিয়ে লিখতে চাপ দিবে মনের কাগজে। আচ্ছা কঠিন কথার শুরু? নাহ, শেষ করলাম।

লোকাল বাসে বসবাস আমাদের কত্তদিনের! বসবাস কথাটা কেন বললাম?? প্রতিদিন উনি আসবেন তাই অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ঘন্টার পর ঘন্টা, হোম-টিচারের জন্যে এতটা সময় অপেক্ষা করলে ভালবাসা+দোয়া পাইকারি পেতাম। বাস আসার পর তাতে উঠে আবার দাঁড়িয়ে থাকা, আহা! ঝুলন্ত হাতগুলার ছড়াছড়ি। ব্যায়ামটা রেগুলার করবো কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি শরীরখানা টানা দেওয়াতো দূরে থাক, কিন্তু এইখানে জবরদস্ত হচ্ছে তা। আব্বুর সাথে ১/২টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হোক আর তার সাথে নাস্তার টেবিলেই হোক, ১০টা মিনিট কিছু না করে চেয়ারে বসে থাকা?? omg, never! অথচ এই মুড়ির টিনের ভেতরে বসার একটা সিট পেলেই কি যে শান্তি, এইবার ঘন্টাগুলো কাটবে কি যে মজায়! বসে থাকা ঘন্টার পর ঘন্টা, যা ছাত্র হিসেবে আমি পড়ার টেবিলেও এতটা সময় নিয়ে বসি না। আর ঘুম, ওহো! এখানকার চেয়ে দ্রুত আর গভীর ঘুম কি আর কোথাও হয়?!

আজকের ঘটে যাওয়া একটা দৃশ্যের কথা বলতে এই সুচনার উদয়। বসে ছিলাম সেই শান্তির সিটে; শক্ত, নোংরা আর ছোট্র লোহার সিট। (বাসার সোফার চেয়েও মাঝে মাঝে বেশি আরামের মনে হয় যদিও) জ্যামে বসে ঘেমে থাকাটা নিত্যদিনের, ক্লাশের জন্যে দেরী হচ্ছিল, তাই আজ ঝিমাচ্ছিলাম না। এমন সময় ব্যস্ত সে বাসের পেছন থেকে এক লোক উঠে আমার পাশে দাঁড়াল সিট ধরে, নামবেন তিনি নেক্সট স্টপেজে তাই। লোকটির দিকে চোখ পড়তেই বুঝলাম তার দু'চোখই অন্ধ। মধ্যবয়সী লোকটি একদিকে চেয়ে আছে, এমন কাউকে দেখলে সবার মনে যে চিন্তা আসে আমারও তা, আহারে লোকটা কিছুই দেখতে পায় না, আমরা কত ভাগ্যবান। বাস থেমে থেমে এগুচ্ছিল, লোকটি কিছুক্ষন দাড়িয়ে আমার ঠিক সামনের সিটে তার হাত রেখে। তার হাতটার দিকে তাকালাম, তাকিয়ে দেখতে চাইলাম কোন পার্থক্য করতে পারি কিনা সেই হাতের। কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম, কই না তো, একইতো আমার, আমাদের হাতের মতই! সবইতো ঠিক আছে, একই রকম মানুষ, সবইতো আমাদের মত, তাহলে কেন এমন হল? কেন বর্ননা করার মত তার জীবনে শুধু একটা রঙই থাকবে??

আমরা অন্ধদেরকে শুধু দেখেই গেলাম, কখনো ভিক্ষা দিতে গিয়ে, কখনো রাস্তায় ফুটপাতে উপরের দিকে তাকিয়ে গান গাইতে গাইতে যাবার সময়, কখনো অবাক হয়ে তাদের হেঁটে যাওয়াটার দিকে, আবার কখনো আমরা চেষ্টা করি খুঁজে বের করতে আসলেই অন্ধ কিনা, কখনো বা জিজ্ঞেসও করে ফেলি, 'কিরে? অভিনয় করিসনাতো??' হায়রে আমাদের চেতনা!

লোকটার রাখা হাতটা আমি ধরে দেখেছি, আলতো করে উপর থেকে ছুঁয়ে দেখতে, কেমন সে রক্ত-মাংশের শরীরটা তা জানতে, গরম রক্ত যে সে শরীরেও প্রবাহিত হয় তার অস্তিত্বটা একটু বুঝতে। নাহ পারিনি, ধরেছি ঠিকই, কিন্তু কই কিছুই বুঝতে পারলাম না, সেখানে কোন ভিন্নতার ছাপ নেই, নেই কোন ব্যাথার চিহ্ন। কথাটা আবারও প্রমানিত হল, 'ব্যাথা যার সেই বুঝে আমরা শুধু বুঝার ভানটাই করতে পারি।'

আমি বুঝিনি লোকটা যে একজন ভিক্ষুক ছিলেন, আমার হাতের স্পর্শ করতে না করতেই সে সাথে সাথেই তার হাতটা বাড়িয়ে দিল সেই ভিক্ষার ভঙ্গিতে। তাকালাম তার দিকে, পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে না করতেই দেখি সামনের দিকে চলে গেলেন তিনি বাস থেকে নামার জন্যে। আমিও সামনে গিয়ে কিছু টাকা দিলাম তার হাতটা ধরে, এইবার বুঝতে পারলাম যে তার দেহের প্রানটাও আমাদেরই, আমাদের মতই তার হৃদকম্পন। আরে আমরাইতো, আমিইতো। ফারাক শুধু দুটো চোখের। আর এরই জন্য ভিন্ন তার নাম, ভিন্ন তার জগৎ, অন্ধকার তার আজীবনের স্বপ্নলোক, হায়রে আমরা কি এমন করে ফেললাম আল্লাহ? শুকরিয়া জানিয়ে শেষ করা যাবে না আল্লাহর কাছে।

অন্ধত্ব কেউ কি সাধে নেয়, বরণ করে নেয় কেউ? নেয় নেয়, এই যে আমরা অন্ধ, আমরাতো ইচ্ছে করেই অন্ধ সেজে সমাজে চলছি। বইয়ে পড়েছি, যখন বস্তুর উপর আলোর প্রতিফলিত রশ্মি আমাদের চোখে পড়ে বলেই আমরা দেখতে পাই আশেপাশের সবকিছু। তাহলে সমাজের ভাগ্যাহত মানুষগুলোর জীবনের কষ্টের দৃশ্যমান প্রতিফলন যে মানুষের চোখে পড়েনা সে মানুষটাও কি অন্ধ না? অবশ্য সমাজ সৃষ্টি হয়ে শুধু ভালোকে আরো ভালবাসতে শিখিয়েছে, এখানে দূর্বলদের জায়গা নেই, তাদের জন্যে রাখি হয় ঘৃণা, নয় ভিক্ষা, আর নয়তো আজীবন দাসত্ব; তারা ভালবাসার জন্যে না, আমাদের থেকে করুনা পাবার জন্যে জন্মেছে।

হায়রে মানুষ, আমরা হয়ে আছি নিয়তির দাস! যে যেভাবে জন্মালাম সেখান থেকেই শুধু পৃথিবীকে দেখলাম, আর তার মধ্যেকার মানুষগুলোর সাথে শিখিয়ে দেয়া আচরন করে গেলাম, জন্মসূত্রে পাওয়া ক্ষমতার চর্চাতেই ব্যস্ত রইলাম! মানুষ হওয়া দূরে থাক প্রানী হবার ম্ূল্যটাও যদি দিতে পারতাম!
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×