somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘অর্ধেক চা’

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘অর্ধেক চা’

জানি এই ডায়রীর একেকটা শব্দ পড়তে পড়তে থেমে যাও, এটা ভেবে মাঝে মাঝে লিখতে ইচ্ছা হয় না। তাই কাল লিখিনি, পড়শু না, আজও ভেবেছিলাম লিখব না। কিন্তু দুপুরে হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে গেলাম। বালিশটা আজও অনেক ভিজে আছে, তখন চুলগুলো কেমন যেন জড়িয়ে ধরছিল আমাকে, মনে হচ্ছিল এই বুঝি সে পরিচিত হাতের ছোয়াটা লাগবে আমার গালে; সেই একই নিয়মে, প্রতিদিনকার মতো, একটা একটা করে চুল ধরবে, ওগুলো দেখবে, ওদেরকে নিয়ে খেলবে, ফুঁ দিবে সরাবে; তারপর আমার মুখের উপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে তোমার অঙ্গুলের ভাঁজে জড়িয়ে নিবে, এই বুঝি টেনে একটু ব্যাথা দিবে, ব্যাথা দিয়ে আমার চোখ খুলাবে, তারপর আমাকে রাগিয়ে পাজির মতো জোরে হাসবে। মনে হচ্ছিল সেই হাসিটা বাজছে আমার কানে। থাকতে পারলাম না আর, উঠে চলে এলাম তোমার সাথে কথা বলতে। মনে হচ্ছিল তুমি অপেক্ষা করছো আবার চুলগুলো জড়িয়ে নিতে। কি, ধরবে না এখন?

নেই, এই কথাটা বাকি সবার মতো করে ভাবতে পারিনা। তাই রঙহীন নতুন শাড়িটা আমি এখনো পড়ি নি, পড়বও না। বাবা বলে মানুষ মরে গেলেও আমাদেরকে শুনতে পায়, দেখতে পায়। প্রতিটি মুহূর্তে তোমার এই অদৃশ্য উপস্থিতি আমাকে আজ পর্যন্ত আগলে রেখেছে, কারন আমি জানি তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছো, শুনতে পারছো; শুধু চুপ হয়ে শুনবে, বলবে না একটু?

বাবু বড় হচ্ছে, একদমই জ্বালায় না, ওকে নিয়ে তেমন কষ্ট পেতে হয়না। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বড় আপা এসে। আপার ছোট্ট মেয়ের সাথে খেলা করে সারাদিন। তাতেও খুব কষ্ট হতো না, কিন্তু আপার মেয়ের সাথে থেকে একটা নতুন কথা শিখেছে, ‘বাবা'। কেউ কিছু বললেই বলে, ‘আমারও বাবা আছে, মা বলেছে’। জানি তুমি শুনতে পাও ওর কথা। মনে আছে সবসময় বলতে আমাদের বাবু হলে সারাদিন তুমি কোলে নিয়ে রাখবা, আমাকে একটুও নিতে দিবা না, আর আমি বলতাম, ‘তখন আমাকেই ভুলে যাবা, তাই না?’ তুমি সত্যি ভুলে গিয়ে থাকতে পারলে? আমি রাগলে বলতে, ‘দেখবা আমাদের বাবু তোমার মতো হবে।’ জানো ও আমার মতো হয়নি, একটুও না। তোমার মতো করে হাঁটে, তোমার মতো কথা বলে, তোমার মতো করে ‘উফ!’ শব্দ করে। শুধু তাকিয়ে দেখি আর ভাবি, ও কোত্থেকে শিখলো এগুলো, তুমিতো ওর সাথে দেখা দিয়ে যেতে পারো নি, কিভাবে শিখলো? তোমার মতোই ঘুমাতে যাবার আগে পা নাড়ায়, চোখ পিট পিট করে, আর তোমার মতো করেই হাঁচি দেয়! কি, এখনো বলবে আমার মতো হয়েছে?

কাল ও কি করেছে দেখেছো? তোমার সবগুলো সার্ট বের করে ফেলেছে ড্রয়ার থেকে, বের করে আমাকে দেখিয়ে ইশারা করছে, ‘এগুলো কার?’ আমি কিছু বলার আগেই মা ওকে কোলে করে নিয়ে গেছে। সার্টগুলো কতোদিন ইস্ত্রি করতে দেয়া হয় না। কি, বকা দিবে না? রোজতো আমাকে বলতে আমার ভুলোমন, ইস্ত্রি করতে দেই না, দেখো সবগুলো সার্ট কিভাবে যত্ন করে তুলে রেখেছি, কি বলবে এখন?

বাবা আজও আমাকে সান্ত্বনা দেয়, জানো? একটি দিনের জন্যেও কেউ বুঝতে দেয় নি যে আমি এ বাড়ির বউ, মেয়ে আমি তাদের। আমার সৌভাগ্য এমন একটা পরিবার তুমি আমাকে দিয়ে গিয়েছো। প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে নিয়ে ভাবে ওরা, একা হতেই দেয় না। মা সবসময় তার পাশে বসিয়ে রাখতে চায়, আমার হাত ধরে বসে থাকে। যখন তোমার কথা খুব বেশি মনে পড়ে তার, আমাকে বলে না, আমি বুঝতে পারি। খুব জোরে হাত চেপে ধরে তখন, আমি দেখে ফেলবো ভেবে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে বলতে চোখ মুছে। কে বুঝাবে ওদের, আর আমাকেই বা কে বুঝাবে?

সবাই বলে আমার বাপের বাড়ী থেকে ঘুরে আসতে, সেখানে গেলে নাকি ভালো লাগবে। এই দেড় বছরে একবারও যাই নি। আম্মু খুব কান্নাকাটি করে, কতো করে বুঝায়, কিভাবে সে বাসায় যাবো আমি? মনে আছে কি কথা ছিল আমাদের? তুমি বলেছিলে পরের বার যখন তোমার শ্বশুর বাড়ি যাবে তখন সবার সামনে আমাকে কোলে করে ঘরে ঢুকবে, ঠিক যেভাবে বিয়ের দিন কোলে তুলেছিলে সবার সামনে। কি করে আমি সে ঘরে ঢুকবো, একা? সে দরজায় কিভাবে তোমাকে ছাড়া পা ফেলবো?

মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় বারান্দায় একা দাড়িয়ে থাকতে থাকতে ভুলে যাই যে তোমার মগটিতে করে আনা চা ঠান্ডা করে ফেলেছি। মনে আছে কাউকে ধরতে দিতে না সে মগটা, তোমাকে রাগানোর জন্য যখন ইচ্ছে করে ধরতাম, তখন তুমি চেষ্ঠা করতে আমার সাথে রাগ দেখাতে, পারতে না, তারপর বাঁকা চোখে কানিয়ে কানিয়ে দেখতে কখন চায়ের অর্ধেকটা খেয়ে তোমার হাতে দিবো। কেনো এখন এসে মগটা কেড়ে নেয়ার কথা বলে মিছেমিছি একটু হাতটা ধরে যাও না? কেনো একবার এসে এই চোখগুলো একটু মুছে দিয়ে যাও না?

এই যে, অর্ধেকটা চা রেখে গেলাম।

- - - ফখরুল আমান ফয়সাল
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×