somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

চেতনার জাগরণ নতুন দিনের বিষ্ফোরণ। আমরা গড়ব নতুন ভূবন, নতুন আশা মনে। এই কথাটির প্রতিধ্বনী বাজুক জনে জনে।

হাজার বছর আগে

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজার বছর আগে
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

( ইসলামের ইতিহাসে শক্তিশালি তথ্যপ্রমানসহ ঘটনাই বেশী, আছে দূর্বল অসমর্থিত অনেক কিছু, তেমনি আছে বানোয়াট অনেক গল্প। এই ঘটনাটি দূর্বল সূত্র দ্বারা প্রচলিত। তাই এটা মিথ্যেও হতে পারে, হতেপারে সত্য আবার হতে পারে আংশিক সত্য। আমরা এই ঘটনাটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে পাঠ করতে পারি, পড়তে পারি একটি ¯্রফে গল্প হিসেবেও কারণ এই প্রিয়নবী (স) এর আগমনের ১০০০ বছর পূর্বের এই ঘটনা বিশ্বাস অবিশ্বাস এর সাথে ঈমান ও আকীদার কোনোরুপ সম্পর্ক নেই)

মহানবী (স.) জন্মের হাজার বছর পূর্বের কথা। তখন ইঞ্জিল বর্তমান বাইবেল কিতাবের উপর মানুষের বিশ^াস ছিল। তারা জানত যে কোন এক সময় পৃথিবীতে সাইয়েদুল মুরসালিন রাহমাতোল্লিল আলামীন খাতামান নাবীয়্যীন মহা নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আগমন ঘটবে। এবং তা আরব মরুতে। অনেকে অধীর আগ্রহে বিশ^ নবীর আগমনের প্রহর গুনছিলেন।
তখন ইয়ামেনের বাদশাহ ছিলেন তবয়া আউয়াল হামিরী একদা তিনি বত্রিশ লক্ষ্য সৈন্য আর বার হাজার আলেম বুজুর্গ জ্ঞানি গুনি নিয়ে ভ্রমনে বের হলেন। চলতে চলতে তিনি মক্কা নগরীতে এসে উপস্থিত। বিভিন্ন স্থানে মানুষ, জীবনযাত্রা, দর্শনীয় স্থান ইত্যাদি তিনি অবলোকন করছেন। তদ্রুপ মক্কায় এসেও তিনি এখানকার সবকিছু প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি বিশাল বাহিনী নিয়ে যেখানেই গিয়েছেন সেখানকার লোকজন দলে দলে তার বিশাল আয়োজন দেখেছে। বাহবা দিয়েছে এমন কি সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তিনি দেশ ভ্রমনে এসেও মহা আনন্দেই ছিলেন।

কিন্তু মক্কায় পদার্পন করে তার আনন্দ সাগরে ভাটা পড়েগেল। এখানে ঘটল সম্পূর্ণ তার বিপরীত। মক্কার লোকেরা সবাই নিজ নিজ কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকল। বাদশাহর সম্মুখে আসার প্রয়োজনও কেউ অনুভব করেনি। সবাই নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করছে। কেউ তাকে এতটুকু মর্যাদাবান হিসেবে দেখেনি বরং খুবি সাধারণ ভাবে নিয়েছে। ইয়ামমেনপতি এদৃশ্য দেখেতো রেগে কলাপাতার মত কাঁপতে লাগলেন, লক্ষ লক্ষ সেনা আর বার হাজার বিদ্যান লোকের এতবড় কাফেলা মক্কার লোকদের কাছ কি কিছুইনা? তিনি ক্রদ্ধ হয়ে তার প্রধানমšী¿র কাছে এর কারণ জানতে চাইলেন। মন্ত্রী মহোদ্ভয় সবিনয়ে পেশ করলেন ‘‘হে বাদশাহ নামদার- এখানে বায়তুল্লাহ নামে একটি ঘর আছে। এটা এখানকার লোকদের জন্য পবিত্র ও সম্মানিত। এরা এটাকে অধিক মর্যাদাবান মনে করে। এবং এর সাথে জড়িতদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে তাদের কাছে এই বায়তুল্লাহ ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন কিছুই তাদের নিকট শ্রদ্ধার বস্তু নহে। তাই আপনার এই বিশাল আয়োজন আর আগমন তাদের নিকট খুবই তুচ্ছ।’’
বাদশাহ এই বক্তব্য শুনে আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে না পেরে বললেন। ‘‘আমি এখুনি সেই বায়তুল্লাহ ভেংগে ফেলবো এবং এর অনুসারীদের ও কেটে টুকরা টুকরা করবো। এত বড় স্পর্ধা! আমার বার হাজার আলেমের চেয়েও তারা তাদের বায়তুল্লাহকে অধিক শ্রদ্ধ করে। এই কথা বলার সংগে সংগে বাদশাহর নাক, মুখ, চোখ, কান দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করলো এবং নাক দিয়ে এমন তরল পদার্থ আর দুর্গন্ধ বের হতে লাগল, যার গন্ধে তার কাছে থাকাই দুরুহ হয়ে পড়ল। কেউ এর কোন কিছুই বুঝতে না পেরে কবিরাজ বৈদ্য লাগিয়ে দিলেন। কিন্তু বাদশাহর অবস্থার কোন পরিবর্তন হলনা। আলেমদের মধ্যে সন্ধা বেলায় যে কজন বাদশাহকে সঙ্গ দিতে আসলেন তাদের মেধ্যে প্রধান বুজুর্গ বললেন বেয়াদবি মাফ করবেন জাহাপনা নিশ্চয়ই আপনি কোন বদ নিয়ত করেছেন তার ফল এই। এই মুহুর্তে আপনি যদি খালেশ নিয়তে তওবা করেন তাহলে হয়তো আপনি মুক্তি পেতে পারেন।

বাদশাহ হামিরী আবার জ্ঞানীর সমাদর জানতেন। তাদের মানতেন এবং বিশ^াস করতেন। তাই তিনি তাদের সংগে নিয়েই ভ্রমনে বেরিয়েছেন। আলেমের কথামত তিনি বায়তুল্লাহ ভাঙ্গা ও এর অনুসারীদের কতল করার যে নিয়ত করেছেন, তা তিনি খালেস নিয়তে তওবা করেন। সাথে সাথে বাদশাহ সুস্থতা লাভ করেন। তখন বাদশাহর অন্তর্চক্ষ খুলে যায়। তিনি সবাইকে নিয়ে বায়তুল্লাহ কাবাঘর তওয়াফ করেন। ইয়ামেনের বাদশাহ এ ব্যাপারে কৌতুহলি হয়ে পড়লেন সেখান থেকে সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে গমন করলেন মদীনা। এরই মধ্যে বিজ্ঞ আলেম পরিষধ বিভিন্ন তথ্যের সমৃদ্ধিতে গবেষনা করে আবিষ্কার করলেন আখেরী নবী (স.) আগমনের আলামত।

(তথ্যসূত্র: আমার নিজের স্কুল জীবনের লেখা এটা, বোধকরি ১৯৯৭ সালের দিকে হবে: কোনো একটি বইতে পড়েছিলাম ঘটনাটি, এখন আর মনে নেই।)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×