somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ: সফরের মজার স্মৃতি ১

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পায়ে হেঁটে দেশ ভ্রমণ: সফরের মজার স্মৃতি ১
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পায়ে হেঁটে ভ্রমণকালে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে লিখছি। যদিও ধারাবাহিক লিখনি চাচ্চেন অনেকে। কিন্তু ধারাবাহিক লিখনির জন্য লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাবে। অনলাইনে বড়ো লেখা পড়ার অভ্যাস পাঠকের নেই। না থাকাই স্বাভাবিক। এসব দিক বিবেচনা করে সফরের স্মৃতিগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপনার প্রয়াসই হলো আজকের এই লেখা। কেউ যদি ভ্রমনের পুরো বৃত্তান্ত জানতে চান তাহলে তাকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বইমেলা পর্যন্ত।

জেলা পঞ্চগড়
লাউ শাকের ভাবি
তেঁতুলিয়া থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে। রাস্তার একেবারে পাশেই একটা বাড়ি। তাতে সুন্দর ঘানি। গরুর দ্বারা তাতে সরিষা ভাঙা হচ্ছে। আমিও তাতে যোগ দিয়ে সরিষা ভাঙলাম। এক গৃহবধু তার ছোট দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে এই কাজ করছে। তখন পড়ন্ত বিকেল, কর্তা হয়তো মাঠে নয়তো হাটে। কথায় কথায় ভাবি ভাত খাওয়ার জন্য জোরাজুরি শুরু করলেন বললাম না ভাবি ভাত খেয়েছি। তবুও ভাবি বল্লেন আজ আমাদের বাসায় থাকেন নইলে চারটা খেয়ে যান লাউ শাক দিয়ে আলু দিয়ে রান্না করেছি। বল্লাম ইশ কেন বল্লেন লাউ শাকের কথা এবারতো সত্যি সত্যি খেতে মন চাইছে। ভাবি সত্যি ভাত নিয়ে এলেন, বল্লাম মজা করলাম। কিন্তু কে শোনে কার কথা শেষে এতটুকুন লাউশাক আর আলু শুধু শুধু খেয়ে ভাবির রান্নার প্রশংসা করে তবেই রক্ষা।

খেলার ছলে ছোট বন্ধুদের সাথে
মিজান ভাইদের ঘরের সামনেই প্রাইমারী স্কুল। সেদিন আবার স্কুলের খেলাধুলা। আবার মাঠের পাশ দিয়েই আমাদের চলার পথ। আমাকে দেখেই সব শিশুরা হাজির। মিজানভাইর ছোটবোন জবামনিও এই স্কুলে পড়ে। প্রথম ছেলের দলের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিলাম। আমি ফেল। যে প্রথম হলো তাকে দিনরাত্রি ডট কম এর পক্ষ থেকে একটি ক্যাপ পুরষ্কার দিলাম। তারপর মেয়ের দলের সাথে আমার দড়িলাফ। যথারীতি আমি ফেল, যে পাস করলো তাকে দিলাম খাবার স্যালাইন। মিজানভাইর ছোটবোন জবামনি তার দড়ি নেই বলে সে অংশ নিতে পারেনি। আমার একটা লাফদড়ি ছিলো ব্যায়াম করার জন্য সে দড়িটা তাকে উপহার দিলাম তারপর শিক্ষকদের সাথে মত বিনিময় করে পথে উঠে গেলাম। পথে মানে মহাসড়কে তখন বেলা দশটা বাজে। একটু দেরীই হয়ে গেলো।

তারাগঞ্জে ফুটবল ম্যাচ
২০ ফ্রেব্রুয়ারী সৈয়দপুর থেকে রংপুর যেতে তারাগঞ্জে প্রবেশ পথেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজকের দিনটি ছিলো বেশ গরম, খুব রৌদ্রতপ্ত আর ভীষণ উমতেলা। উমতেলা শব্দটা আমাদের আঞ্চলিক শব্দ। ভ্যাপসা গরম এর একটা প্রতিশব্দ হতে পারে। যাই হোক তবুও তারাগঞ্জে ঢুকে দেখি ফুটবল খেলছে দূরন্ত ছেলের দল তাদের সাথে নেমে গেলাম। চারজন খেলোয়াড় দেয়া হলো আমাকে বাকী সব বিপক্ষ দলে, প্রতিপক্ষযে কতজন তার কোনো হিসেবে নেই। ১৫/ ১৬ জনতো হবে। তিন চার গোলো ম্যাচ জিতলাম, খুব ভয়ে ভয়ে খেলতে হলো যাতে আমার জুতায় কারো খালি পা’র কোনো সমস্যা না হয়। তারাও হয়তো কিছুটা ভীত ছিলো এজন্য জিতলাম। ম্যাচের ছবি তুলতে দিয়েছিলাম একজনকে সে তুলতে পারেনি। ম্যাচ শেষে একটা সেলফিই শুধু স্বাক্ষী।

চিরন্তন সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের এক চিরন্তন রুপ ধরা পড়লো এখানে। সড়কে পাশে দিগন্ত বিস্তৃত ধানের ক্ষেত, খাল আর নদীর উপর কিছুক্ষণ পর পর লোহার সেতু, রাস্তার ধারে শিমুল ফুলের বাহার পুরনো কড়ই গাছের সারি আর কৌতুহলি মানুষের দল। সিরাজগঞ্জের সবচে বেশী মানুষ প্রশ্ন করেছিলো এবং জানতে চেয়েছিলো। বিকেল বেলায় এক দোকানে বসে নাস্তা করছিলাম স্থানীয় এক যুবক বলেলন ‘‘সব পাগল সিরাজগঞ্জে’’ বল্লাম কেন? পথে পথে আপনাকে সব আজগুবি প্রশ্ন করবে। তখনো একজন আসলে আজগুবি প্রশ্ন করছিলো। আসলে তার কাছে আজগুবি প্রশ্ন হলেও আমার কাছে এটাই স্বাভাবিক ছিলো। সাধারণ মানুষের নানারকম জিজ্ঞাসা ও কৌতুহল থাকে তারা প্রশ্ন করতেই পারে আমিতো উত্তর দেয়ার জন্য প্রস্তুত। বরং সিরাজগঞ্জে আমার এই সফরকে নেতিবাচক ভাবে নিয়েছে এমন একজন মানুষও পাইনি।

রিয়েল টাইম ট্র্যাকার
ভ্রমনের সময় দিনরাত্রি ডট কম এর সৌজন্যে আমাকে ট্র্যাকিং সার্ভিস দেয়া হয়েছে। http://www.dinratri.com/shovon লিংক থেকে আমাকে ট্রাক করা যেত। এতে করে দেখা যেত যে আমি কোথায় অবস্থান করছি। এমনকি দূরত্ব ও সময় হিসেব করে আমার গতি নির্ণয় করাও খুব সহজ ছিলো। এক উৎসাহি ব্যক্তি সেদিন আমাকে ট্রাক করছিলো। সন্ধ্যায় উনি আমাকে ট্রাক করতে করতে একেবারে দিনাজপুর চারুবাবুর মোড়ে যে হোটেল সেখানে চলে আসেন। আরো মজার ব্যাপার হলো এই লোকটার সাথে দুইদিন পরে রংপুর ভিন্নজগতে দেখা হয়েছে আমার। তিনি সেখানে পিকনিকে গিয়েছিলেন।

কত রঙ্গ জানো রে মানু
সাঁওতাল পাড়ার চিত্র যেমন গল্পের আকা পটচিত্র। নকশিকরা মাটির ঘর, সামনে বেঁধে রাখা শুকর এক ভিন্নতর জীবনের চিহ্ন বয়ে রাখছে বটে। এখানে পরিচয় হয়েছে হাজি রাজেদুর রহমানের সাথে। একমিনিটের পরিচয় তিনি ভাই বন্ধু বানিয়ে তার সাথে দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে থেকে গিয়ে ব্যবসায় বানিজ্য করার জন্য অনুরোধ করলেন। হায়রে মানুষের সরলতা। আহা ভালোবাসা।


পিকনিক
গাইবান্দার পলাশবাড়িতে সকালবেলায় ছাত্র-ছাত্রীরা এসে জড়ো হয়ে বাসে উঠছে। বাসের সাথে ব্যানার লাগানো,লাগানো আছে মাইকও তারা শিক্ষাসফরে যাচ্ছে। একে একে এসে গাড়ীতে উঠছেন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং স্কুলের পিয়ন দারোয়ান। তো আমি সেখানে গিয়ে মাইক হাতে নিয়ে মজা করছিলাম। এক পর্যায়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা গান গাওয়ার অনুরোধ করলে নিচের গানটা শুনিয়ে দেই। আর গানের কথাগুলো এরকম
বাসি কি না বাসি বন্ধু টেরাই করো আমারে, কতো ভালোবাসি তোমারে
ওরে কাউয়া যেমন ভালোবাসে পঁচা বাসি খানারে
তেমনি আমি ভালোবাসি পরান বন্ধু তোমারে।
শকুন যেমন ভালোবাসে মরা গরুর হাড্ডিরে
তেমনি আমি ভালোবাসি পরান বন্ধু তোমারে।
বাসি কি না বাসি বন্ধু টেরাই করো আমারে , কতো ভালো বাসি তোমারে

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×