somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘপঞ্জিকা - সিনেমাকথন ৩৩

২৮ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিছু কিছু সিনেমা থাকে যেগুলো আমার সমস্ত চিন্তাভাবনাকে এলোমেলো করে দিয়ে যায়, ভাবনার কোন এক বদ্ধ দুয়ার অবমুক্ত করে দিয়ে যায়। ভাবনার পাখি সেই দুয়ার দিয়ে বেরিয়ে পরে কোন একটা সদুত্তর খোজার আশায়। মনের আকাশে বাতাসে ডানা মেলে বেড়াতে থাকে সে, কিন্তু উত্তর নিয়ে ফেরা আর তার হয় না। ভাসতে ভাসতে দূর দিগন্তে মিলিয়ে যেতে থাকে ভাবনার সেই পাখিটা। এই পারফিউম মুভিটার কিছুটা দেখে বিমুগ্ধ আমি তখনি লিখে রেখেছিলাম -

"আহ! সিনেমা! মনোমুগ্ধকর সিনেমা। সুগন্ধে মৌ মৌ করতে থাকা সিনেমা। আমার সমস্ত অনুভূতিকে নাড়িয়ে দিয়ে যাওয়া সিনেমা। প্রণতি সিনেমাকে, প্রণতি এই সৃষ্টিকে। প্রণতি এর সৃষ্টিকারককে।"

কিন্তু সিনেমার এই মৌ মৌ সৌরভটা যে কোন এক ভোমরা এসে এমন করে সুধারস পান করে নিবে সে জানতে পারলে হয়তো উপরের লাইন ক'খানা আমি লিখতামই না। সম্ভব হতোনা, মুভিটা দেখে উঠে এমন করে লিখবার। কারণটা তার লোমহর্ষক, শিউরে উঠবার মতোন পরের অংশগুলো।

ট্রেইলার খুজতে বসে দেখলাম, দুই মিনিটের ট্রেইলারে অনেক কিছুই বলে দিচ্ছে যেটি দেখলে আনন্দ অনেকাংশেই ম্রিয়মান হয়ে যাবে। তাই খুজে পেতে কম প্রকাশ করে এমন একটা ট্রেইলার নীচে দিলাম।

কাহিনীর সারসংক্ষেপ হচ্ছে - ১৮শ শতাব্দীর প্যারিসে Jean-Baptiste Grenouille নামে একজনের জন্ম হয়েছিল যার ছিল, তার নিজের জবানীতে, "পৃথিবীর সেরা ঘ্রানশক্তিসম্পূর্ণ নাক"। তার এই দাবীটা অযৌক্তিক ছিল না মোটেও। ছোটকাল থেকে সে চোখ বন্ধ করে শুধু ঘ্রাণের সাহায্যেই অনেক কিছু বলে দিতে পারতো। নতুন নতুন ঘ্রাণের জন্য তার চিত্ত সদাই ব্যাকুল থাকতো। সে কাজ করতো একটা ট্যানারিতে, যেখানে তার সেই চিত্তের ক্ষুধা অনেকাংশেই মিটতো (সেই ট্যানারিটা পুরো প্যারিসের মধ্যে নোংরাতম জায়গায় হোক না কেন), কিন্তু তার বরাবরেই মনে হতো শহরের অন্য প্রান্তে আরো কত না জানা ঘ্রাণ তার জন্য অপেক্ষা করছে।

একবার তার সুযোগ হয় তার মনিবের সাথে শহরের অভিজাত একটা এলাকায় চামড়া ডেলিভারী দিতে যাওয়ার। এই যাত্রাটায় মূলত Grenouille-র বাকী জীবনটা বদলে দেয়। যাওয়ার পথে সে অভিভূত হয়ে যায় নতুন নতুন ঘ্রাণের সন্ধান পেয়ে। তার নাক তাকে ঠেনে আনে শহরের নামকরা এক পারফিউম দোকানের সামনে। শিহরিত হয়ে সে দেখতে থাকে দোকানের ভেতর শিশিগুলোর ভেতর বন্দী নাম না জানা শতশত বিভিন্ন রকমের পারফিউম। কিন্তু এই সুগন্ধ গুলো ছাপিয়ে হঠাৎ বাইরে থেকে অন্য একটা গন্ধ তার নাকে ভেসে আসে। সেটি হচ্ছে যুবতী এক মেয়ের ঘোর লাগিয়ে দেয়া গায়ের সৌরভ। কিন্তু মেয়েটার পিছু নিতে
নিতে তাকে হারিয়ে ফেলে সে। Grenouille-র মনে হতে থাকে এই নেশা জাগানিয়া সৌরভ এভাবে হারিয়ে দিতে দেয়া যায়না। এই সুভাস যাতে সে সবসময় নিতে পারে তার পন্থাগুলো তাকে জানতে হবে। তাকে বুঝতে হবে কিভাবে সুগন্ধ বন্দী করে রাখতে হয়। একসময় তার সুযোগ হয় প্যারিসের অন্য এক প্রান্তে সংগ্রাম করতে থাকা এক পারফিউমারকে দারুণ একটা সুগন্ধী বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেওয়ার। Grenouille তাকে বলে, সে পারফিউমারকে পুরো দুনিয়ার মধ্যে সেরা পারফিউমার বানিয়ে দিবে যদি সে Grenouille-কে বলে কিভাবে গন্ধ বন্দী করে রাখতে হয়। পারফিউমার তাকে গন্ধের নানা দিক বাতলে দিয়ে এই বলে যে, একটি খাঁটি সুগন্ধীর ১২টা দিক থাকে। সে Grenouille-কে এও বলে যে একবার ইজিপ্টে এক মমির কফিন থেকে এমন একটা সৌরভ বের হয় যেটা অনুভব করে পুরো পৃথিবীর মানুষ কিছুক্ষণের জন্য নিজেদেরকে স্বর্গে রয়েছে ভাবতে থাকে। কথিত আছে সেই পারফিউমে ১২টা উপাদানের সাথে সাথে অন্য একটি ১৩তম উপাদানও ছিল। যেটি আজ পর্যন্ত কেও উদ্ধার করতে পারেনি। Grenouille সিদ্ধান্ত নেয় সে বানাবে পৃথিবীর সেরা সুগন্ধী। ১৩তম উপাদানটা সহ। পুরো পৃথিবীটাকে বুঝিয়ে দিবে তার নাকের ক্ষমতা।

ট্রেইলারঃ



অনলাইনে দেখুন এইখানে

IMDB-র রেটিং ১০ এ ৭.৫

http://www.imdb.com/title/tt0396171/

উৎস্বর্গঃ পরম সুহৃদ কাঊসার রুশো-কে


আমার দেখা ভালোলাগা কিছু মুভির তালিকা
আমার দেখা ভালোলাগা কিছু মুভির তালিকা - ২
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৩৪
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×