কেমন আছো? আজকে তোমাকে ছাড়া প্রথম ঈদ। গত ঈদের ঠিক আগে আগে তুমি আমার উপর রাগ করে কি করেছিলে, মনে পড়ে? আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলতে দাওনি, যদি আমাবে ঘর থেকে বের হতে হয় ওর কথায়,যদি ও তোমাকে বলে বসে,আর আমাকে তোমার যেতে দিতেই হয় ..... ! ঈদের কয়েকটা দিন আগে থেকেই আমি ওর ফোন ধরলামনা, আমার বান্ধবী কথা শুনালো, আমার আর তোর তো একসাথে এখানে থাকাই হয়না, দুইজন দেশের দুই প্রান্তে আর এই ঈদ-পুজোটাই যা একসাথে ছুটি হয়, তাও দেখা হলোনা! মন আমার খারাপ হলো,হাজার হোক, প্রাইমারি স্কুলের বান্ধবী।
একদিন তুমি রাগ করে আমার চুল কেটে দিতে চাইলে! আমার খুব খারাপ লাগলো, সারাটা রাত খুব খারাপ কাটলো, পরদিন সব চুল কেটে ফেললাম। কাটার পর নিজের কাছেই নিজেকে মুরগি লাগছিলো! কিন্তু সেই তোমার কথা ভেবেই কাটলাম। পরে তোমার বন্ধু বলেছিলো, তুমি তার কাছে দুঃখ করেছিলে, আমার এই চুলকাটা নিয়ে, তোমার রাগের কথা নাকি ধরে রেখেছিলাম। তারপর আর চুল কাটিনি, একদিন তুমি বলে বসলে, আমি তো লম্বা চুলের অভ্যস্ত নই,তোমার চুল ছোট করো । পরে আবার অনেকদিন পর কাটলাম। আমি প্রায় একবছর পর চুল কাটবো বলে ঠিক করেছি, তুমি ক্ষমা করো,আমি চাইনা আর। তুমি খুব চাইতে আমি চুল লম্বা করি,পারিনি, এখন পারলাম। আর এখন তুমি নেই। কেন? সেই যে গেলে, একবার খোঁজ নেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করলেনা? আমি আর ওই অর্জুনতলায় যাইনা, আমলকী গাছটার নিচে একা যাইনি, তোমার সাথেই গিয়েছিলাম, আর যাওয়া হলোনা। তোমার এত কিসের অভাবে রেখেছিলাম আমি?
তোমার এক একটা দিন,আমি গুনে দিতে পারি, মনে আছে সব আমার। আজ ও আমার ছোট্ট নোটবুকের প্রথম পাতায় তোমার লেখা, "তুমি কি আমাকে আগের মতোই ভালোবাসো?"
মাঝের পাতায়, "অনেক মানুষের ভীড়ে আমরা একা"।
শেষের পাতায়, "তুমি মায়ের মতোই ভালো"।
ওই নোটবুকটা খুব ছোট,আর আমি তা সবসময় আমার ব্যাগে রাখি, লিখিও না খুব একটা, কেবল ওই প্রথম পাতায়, আমার কয়েকটা ডেট দেওয়া লেখা, "হুম,খুব ভালোবাসি, আজকেও।" সেটা ১৩ই ডিসেম্বর, আরেকটা , "ইয়েস, আই ডু। স্টিল আই অ্যাম ইওর মেঘ।" এটা ২৫শে জানুয়ারি। আরেকটা ৮ই মার্চ, সেটায় ও তোমাকে লেখা।
২৭শে আগস্ট ২০১২ এ তুমি আমার গলা শুনে চমকে উঠেছিলে, অনেকদিন পর শুনেছিলে, তোমার চমকে ওঠাটুকু আমি খুব মনে রেখেছিলাম, তারপর থেকে তোমাকে আমি চমকে দিতে পারলে খুব মজা পেতাম। সেইদিনের পর থেকে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তুমি আমাকে ভালোবাসো। এখন বাসো? আমি আজও তোমাকে ভালোবাসি। আজও।
বাসা থেকে বিয়ের জন্য বলে, ছেলের সাথে কথা বলতে বলে, কোনমতে ফাইনাল এক্সামটা শেষ করাতেই আমাকে যেন সবাই পেয়ে বসে, এটাও বলতে পারিনা আমার তোমাকে ভালোবাসিনা, পারিনা মেনে নিতে আর কারোর জন্য আমি রান্না করবো, পাশে বসে খাওয়াবো ভাবতে। পারিনা। আজকাল রান্না তো করিই, সবাইকে খাওয়াতেও হয়, ভাবি বড় হয়ে গেলাম, হুম,ছোট একটা চাকরি পেলাম, সেটায় আবার ঈদের বোনাস ও দেয়। আমি এতেই খুশি। চাওয়াটা খুব বেশি না। বলেছিলাম তোমাকে আমার প্রথম বেতনে একটা টাইটান ঘড়ি কিনে দেবো, ঘড়ি কিনে এখন কাকে দেবো বলো? তবু আমি কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছি, আল হামরায় একটা দোকানে দেখেছি, ৪৮০০টাকা বলেছে,ওটাই পছন্দ হয়েছে, ৩০০০টাকা রাখতে পেরেছি,তুমি ফিরে এলেই আমি তোমাকে বাকিটা যোগ করে কিনে দেবো। আসবে? আমি তো কোন অন্যায় করিনি, তবে কেন যাবে? জানো, আমার ঘরটায় এখন আমার ছোটবোনটা থাকে, আমি ওখানে গিয়ে বসতে পারিনা, কেন জানি খুব খালি খালি লাগে। কাল তুমি খুব ব্যস্ত থাকবে,তাইনা? তোমার বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে,তাইনা? লং ড্রাইভে যাবে,তাইনা? তোমার মৃত প্রিয় বন্ধুকে মনে করে তোমাদের মুড অফ হবে, তোমার চোখ দিয়ে জল গড়াবে, তোমার নাক বন্ধ হয়ে আসবে, তুমি পকেট থেকে ড্রপ বের করে নাকে দিবে। তারপর বলবে, ও তো আশেপাশেই আছে, আমাদের সাথেই আছে।
ও তোমাদের মাঝে একটু সমঝদার ছিলো, বুঝতো। তোমার মতোন মাথা গরম ছিলোনা। সে এখন ও হয়তো বুঝে, অনেক, দেখে সব। কে জানে!
অনেক রাত হলো,ঘুমুতে যাওয়া উচিত। পড়তে পারবোনা আর। মনটা খুব খারাপ। এতো বৃষ্টি,আমার বৃষ্টি এতো ভালো লাগে,তবুও আমার ভালো লাগেনা, তোমার কথা মনে হয়,তোমার সাথে আমার বৃষ্টি দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো।
ভালো থাকো, কালকের ঈদটা খুব সুন্দর কাটুক তোমার, আমাকে আর তোমার মৃত বন্ধুকে মনে করোনা, রাতে মনে করো তাকে, আমাকে কেন বললাম?আমাকে তো তোমার মনে করার কোন দরকার নেই।কোন দরকার নেই।
যাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



