somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের দিন, খুব আনন্দের দিন, তোমাকে ছাড়া প্রথম ঈদ

০৯ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছো? আজকে তোমাকে ছাড়া প্রথম ঈদ। গত ঈদের ঠিক আগে আগে তুমি আমার উপর রাগ করে কি করেছিলে, মনে পড়ে? আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলতে দাওনি, যদি আমাবে ঘর থেকে বের হতে হয় ওর কথায়,যদি ও তোমাকে বলে বসে,আর আমাকে তোমার যেতে দিতেই হয় ..... ! ঈদের কয়েকটা দিন আগে থেকেই আমি ওর ফোন ধরলামনা, আমার বান্ধবী কথা শুনালো, আমার আর তোর তো একসাথে এখানে থাকাই হয়না, দুইজন দেশের দুই প্রান্তে আর এই ঈদ-পুজোটাই যা একসাথে ছুটি হয়, তাও দেখা হলোনা! মন আমার খারাপ হলো,হাজার হোক, প্রাইমারি স্কুলের বান্ধবী।

একদিন তুমি রাগ করে আমার চুল কেটে দিতে চাইলে! আমার খুব খারাপ লাগলো, সারাটা রাত খুব খারাপ কাটলো, পরদিন সব চুল কেটে ফেললাম। কাটার পর নিজের কাছেই নিজেকে মুরগি লাগছিলো! কিন্তু সেই তোমার কথা ভেবেই কাটলাম। পরে তোমার বন্ধু বলেছিলো, তুমি তার কাছে দুঃখ করেছিলে, আমার এই চুলকাটা নিয়ে, তোমার রাগের কথা নাকি ধরে রেখেছিলাম। তারপর আর চুল কাটিনি, একদিন তুমি বলে বসলে, আমি তো লম্বা চুলের অভ্যস্ত নই,তোমার চুল ছোট করো । পরে আবার অনেকদিন পর কাটলাম। আমি প্রায় একবছর পর চুল কাটবো বলে ঠিক করেছি, তুমি ক্ষমা করো,আমি চাইনা আর। তুমি খুব চাইতে আমি চুল লম্বা করি,পারিনি, এখন পারলাম। আর এখন তুমি নেই। কেন? সেই যে গেলে, একবার খোঁজ নেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করলেনা? আমি আর ওই অর্জুনতলায় যাইনা, আমলকী গাছটার নিচে একা যাইনি, তোমার সাথেই গিয়েছিলাম, আর যাওয়া হলোনা। তোমার এত কিসের অভাবে রেখেছিলাম আমি?
তোমার এক একটা দিন,আমি গুনে দিতে পারি, মনে আছে সব আমার। আজ ও আমার ছোট্ট নোটবুকের প্রথম পাতায় তোমার লেখা, "তুমি কি আমাকে আগের মতোই ভালোবাসো?"
মাঝের পাতায়, "অনেক মানুষের ভীড়ে আমরা একা"।
শেষের পাতায়, "তুমি মায়ের মতোই ভালো"।

ওই নোটবুকটা খুব ছোট,আর আমি তা সবসময় আমার ব্যাগে রাখি, লিখিও না খুব একটা, কেবল ওই প্রথম পাতায়, আমার কয়েকটা ডেট দেওয়া লেখা, "হুম,খুব ভালোবাসি, আজকেও।" সেটা ১৩ই ডিসেম্বর, আরেকটা , "ইয়েস, আই ডু। স্টিল আই অ্যাম ইওর মেঘ।" এটা ২৫শে জানুয়ারি। আরেকটা ৮ই মার্চ, সেটায় ও তোমাকে লেখা।
২৭শে আগস্ট ২০১২ এ তুমি আমার গলা শুনে চমকে উঠেছিলে, অনেকদিন পর শুনেছিলে, তোমার চমকে ওঠাটুকু আমি খুব মনে রেখেছিলাম, তারপর থেকে তোমাকে আমি চমকে দিতে পারলে খুব মজা পেতাম। সেইদিনের পর থেকে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তুমি আমাকে ভালোবাসো। এখন বাসো? আমি আজও তোমাকে ভালোবাসি। আজও।

বাসা থেকে বিয়ের জন্য বলে, ছেলের সাথে কথা বলতে বলে, কোনমতে ফাইনাল এক্সামটা শেষ করাতেই আমাকে যেন সবাই পেয়ে বসে, এটাও বলতে পারিনা আমার তোমাকে ভালোবাসিনা, পারিনা মেনে নিতে আর কারোর জন্য আমি রান্না করবো, পাশে বসে খাওয়াবো ভাবতে। পারিনা। আজকাল রান্না তো করিই, সবাইকে খাওয়াতেও হয়, ভাবি বড় হয়ে গেলাম, হুম,ছোট একটা চাকরি পেলাম, সেটায় আবার ঈদের বোনাস ও দেয়। আমি এতেই খুশি। চাওয়াটা খুব বেশি না। বলেছিলাম তোমাকে আমার প্রথম বেতনে একটা টাইটান ঘড়ি কিনে দেবো, ঘড়ি কিনে এখন কাকে দেবো বলো? তবু আমি কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছি, আল হামরায় একটা দোকানে দেখেছি, ৪৮০০টাকা বলেছে,ওটাই পছন্দ হয়েছে, ৩০০০টাকা রাখতে পেরেছি,তুমি ফিরে এলেই আমি তোমাকে বাকিটা যোগ করে কিনে দেবো। আসবে? আমি তো কোন অন্যায় করিনি, তবে কেন যাবে? জানো, আমার ঘরটায় এখন আমার ছোটবোনটা থাকে, আমি ওখানে গিয়ে বসতে পারিনা, কেন জানি খুব খালি খালি লাগে। কাল তুমি খুব ব্যস্ত থাকবে,তাইনা? তোমার বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে,তাইনা? লং ড্রাইভে যাবে,তাইনা? তোমার মৃত প্রিয় বন্ধুকে মনে করে তোমাদের মুড অফ হবে, তোমার চোখ দিয়ে জল গড়াবে, তোমার নাক বন্ধ হয়ে আসবে, তুমি পকেট থেকে ড্রপ বের করে নাকে দিবে। তারপর বলবে, ও তো আশেপাশেই আছে, আমাদের সাথেই আছে।
ও তোমাদের মাঝে একটু সমঝদার ছিলো, বুঝতো। তোমার মতোন মাথা গরম ছিলোনা। সে এখন ও হয়তো বুঝে, অনেক, দেখে সব। কে জানে!

অনেক রাত হলো,ঘুমুতে যাওয়া উচিত। পড়তে পারবোনা আর। মনটা খুব খারাপ। এতো বৃষ্টি,আমার বৃষ্টি এতো ভালো লাগে,তবুও আমার ভালো লাগেনা, তোমার কথা মনে হয়,তোমার সাথে আমার বৃষ্টি দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো।

ভালো থাকো, কালকের ঈদটা খুব সুন্দর কাটুক তোমার, আমাকে আর তোমার মৃত বন্ধুকে মনে করোনা, রাতে মনে করো তাকে, আমাকে কেন বললাম?আমাকে তো তোমার মনে করার কোন দরকার নেই।কোন দরকার নেই।

যাই।










৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র



আমরা ছোট বেলায় পড়েছি,
মিথ্যা বলা মহাপাপ, তা করলে কঠিন শাস্তি পেতে হয় ।

আর এখন জেনেছি , মিথ্যা বলা একটি অন্যতম কৌশল
যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক দুই তিন, 'না'-এ ভোট দিন

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪০


১.
সকল নাগরিক
গণভোটে 'না' দিক

২.
জনগণ রাগের চোটে
'না' দেবে গণভোটে

৩.
হয় দেব না ভোট
নাহয় দেব 'না' ভোট

পুনশ্চ:
গণভোট ও নির্বাচন...
'না' না জিতলে প্রহসন ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় একজন শিক্ষক।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৫



জাফর ইকবাল স্যার:
এই দেশের মাটিতে পা দিয়ে বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।বিবর্ণ ঘাসের প্রতিটি ক্যাম্পাসে উট প্রজনন সেন্টার খোলা হয়েছে।দলে দলে মেধাবীরা সেক্সোলজি ও পর্ণোগ্রাফি চর্চা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×