somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র

৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র



আমরা ছোট বেলায় পড়েছি,
মিথ্যা বলা মহাপাপ, তা করলে কঠিন শাস্তি পেতে হয় ।

আর এখন জেনেছি , মিথ্যা বলা একটি অন্যতম কৌশল
যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায় এবং হিরো হওয়া কোন ব্যাপারই না ।
তাহলে আমরা দেখি , বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে আমাদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে !

এইতো কিছুদিন পূর্বে দাভোসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ট্রাম্প যে ভাষণ দিয়েছেন,
তাতে
১) ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনা গ্রিনল্যান্ডে ছিল, তারপর অ্যামেরিকা
আবার গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ককে ফিরিয়ে দেয়। ট্রাম্পের দাবি: ''আমরা ডেনমার্কের জন্য লড়েছি,আমরা তাদের বাঁচাবার জন্য লড়েছি ;
যুক্তরাষ্ট্র যা চাইছে তা হলো গ্রিনল্যান্ড নামে একটা জায়গা, কিন্তু যা আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, ইটালি ও জাপানকে
হারাবার পর সবিনয়ে ডেনমার্কের কাছে ফেরত দিই।
ওটা আমাদের ছিল, আমরা আবার তা ওদের দিয়েছি।''
** ফ্যাক্ট চেক বলছে : তার একাধিক দাবি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর,
অ্যামেরিকা কখনো ডেনমার্ককে বাঁচাবার জন্য কোনো সামরিক অভিযান করেনি।
১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাৎসি জার্মানি ডেনমার্ক অধিকার করে, তখন ডেনমার্কের সরকারের
সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সংযোগ ছিন্ন হয়। জার্মানি যাতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও তার খনিজ ব্যবহার না করতে পারে,
সেজন্য অ্যামেরিকা হস্তক্ষেপ করে এবং ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন নিয়ে তারা এই হস্তক্ষেপ করে।
অ্যামেরিকা সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে, এয়ারফিল্ড বানায়, আবহাওয়া কেন্দ্র গড়ে তোলে।
ঐসময় গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নেতৃত্বাধীন আইল্যান্ড পেট্রোলের সঙ্গে নাৎসি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল।
তবে নাৎসিরা কখনোই ডেনমার্ককে পুরোপুরি অধিকার করতে পারেনি।
অ্যামেরিকা এয়ার বেইস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করেছিল,
কিন্তু তারা কখনোই এই এলাকা অধিকার করেনি। দ্বিতায় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রিনল্যান্ড আবার ডেনমার্কের অংশ হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ডেনমার্কে মার্কিন কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। তারা সামরিক চুক্তি করে সেখানে একটি স্পেস বেস বানায়। কোনো সময়ই গ্রিনল্যান্ড নাৎসি জার্মানি পুরোপুরি অধিকার করতে পারেনি এবং যুক্তরাষ্ট্র তা পূণ:উদ্ধার করে ডেনমার্কের কাছে হস্তান্তর করেনি।

২) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবী : নিয়ন্ত্রণ না পেলে অ্যামেরিকা গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না?
"আমরা গ্রিনল্যান্ড চাইছি. যার মধ্যে আছে আইনগত মালিকানা ও অধিকার। আমরা ওদের রক্ষা করতে চাই,
তাই এটা দরকার। লিজের ভিত্তিতে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই আইনি সন্পূর্ণ অধিকার দরকার।

**ফ্যাক্ট চেক বলছে : বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও সত্য এটা নয়
ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আছে। তার ফলে ডেনমার্কের সম্মতিতে মার্কিন সেনা গ্রিনল্যান্ডে অপারেট করতে পারে। সামরিক সহযোগিতা থাকলে কোনো দেশকে রক্ষা করার জন্য মালিকানা বা অধিকারের দরকার হয়না।
ডেনমার্ক ও অ্যামেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষাচুক্তি আছে, তাছাড়া তাদের কাছে ন্যাটোর দায়বদ্ধতা আছে।
গ্রিনল্যান্ড হলো ডেনমার্কের অংশ। ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ন্যাটোর সদস্য কোনো একটা দেশ
আক্রান্ত হলে সেটাকে ন্যাটোর সব সদস্য দেশের উপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।

৩) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন : অ্যামেরিকা ন্যাটোর প্রায় সব খরচ দেয়।''আমি আসার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর
কার্যত পুরো খরচ দিতো। আমার মত হলো, আমরা ন্যাটোর একশ শতাংশ খরচ দিই।''

**ফ্যাক্ট চেক বলছে : বক্তব্য মিথ্যা ,বিভ্রান্তিকর ও সত্য এটা নয়
ন্যাটোর হিসাব হলো, ২০১৬ সালে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খরচের ৭০ শতাংশ
আমেরিকা বহন করেছে । নিঃসন্দেহে এটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা মোটেও একশ শতাংশ নয়।
ন্যাটোর সদরদপ্তর, প্রশাসনিক খরচের ২২ শতাংশ আমেরিকা বহন করে । বাকিটা অন্য সদস্য দেশগুলি দেয়।

৪) ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্প আরো দাবি করেছেন, তার মধ্যে হলো :
"যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ন্যাটো থেকে কিছু পায়নি, তারা শুধু খরচই করে গেছে"


**ফ্যাক্ট চেক বলছে : পরীক্ষা করে দেখা গেলো ঐতিহাসিক রেকর্ড ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে বক্তব্য মিথ্যা ,বিভ্রান্তিকর
ন্যাটোর ইতিহাসে প্রথমবার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অ্যামেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ন্যাটো চুক্তির
প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত পঞ্চম অনুচ্ছেদটি কার্যকর হয়। ফলে , জার্মানিসহ ন্যাটোর অন্য দেশগুলি অ্যামেরিকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনে যোগ দেয়। এর মধ্যে ছিল, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স ফোর্স, অপারেশন এনডিওরিং ফ্রিডম এবং রেসোলিউট সাপোর্ট মিশন ইন আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানে ২০ বছর জার্মান বাহিনী ছিল। জার্মান সরকারের হিসাব হলো, এর জন্য ২০২১ সালের অগাস্ট পর্যন্ত
১২ দশমিক তিন বিলিয়ন ইউরো খরচ হয়েছে। মিশনে অংশ নেয়া ৬০ জন জার্মান সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

৪) ট্রাম্পের দাবি : প্রায় সব উইন্ড টারবাইন চীন তৈরি করে। তা সত্ত্বেও চীনে আমি একটাও উইন্ড ফার্ম দেখিনি।
" ট্রাম্প আরো বলেন, চীন খুবই স্মার্ট, কারণ তারা বোকাদের কাছে উইন্ড টারবাইন বিক্রি করে, নিজেরা তা ব্যবহার করে না।

**ফ্যাক্ট চেক বলছে : ঐতিহাসিক রেকর্ড ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে বক্তব্য মিথ্যা ,বিভ্রান্তিকর

বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে চীন সবচেয়ে বেশি উইন্ড এনার্জি উৎপাদন করে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(ইআইএ) জানিয়েছে, চীন ২০২৪ সালে ৫২১ গিগাওয়াট উইন্ড পাওয়ার তৈরি করে, যা বিশ্বের উৎপাদিত উইন্ড এনার্জির ৪০ শতাংশ।
ইআইএ জানিয়েছে, চীন রেকর্ড গতিতে উইন্ড ও সোলার এনার্জির সম্প্রসারণ করছে।
তবে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও উইন্ড এনার্জির ব্যবহারের নিরিখে চীন এখনো অন্য কয়েকটি দেশের পিছনে আছে।
রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে চীনের মোট বিদ্যুতের ১২ শতাংশ এসেছে উইন্ড এনার্জি থেকে।
সবমিলিয়ে নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ২৩ শতাংশ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ৫৬ শতাংশ।
জার্মানিতে ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ এসেছে নবীকরণযোগ্য এনার্জি থেকে। যার মধ্যে উইন্ড এনার্জির পরিমাণ হলো ২৭ শতাংশ।

দেশের অবস্হা দেখুন :
............................................................
সনদে সম্মতি আছে এবার সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৫% নারী প্রতিনিধি থাকতে হবে
যাহারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে ।


১) জামাত দাবী করছে তাদের এবার ৪৩% নারী কর্মী ও ভোটার আছে . তাহলে কতজন প্রার্থী আছে ?
১% ও মনোনয়ন দেন নাই । তাহলে সনদে স্বাক্ষর মিথ্যাচার কিনা ???
২) বি এন পি তারাও সনদে স্বাক্ষর করেছেন , কতজন নারী প্রার্থী আছে ?
আমার জানা মতে ৩% হতে পারে । তাহলে তাহারাও কি অঙ্ঘীকার ভঙ্গ করে নাই ?
৩) এন সি পি বলছে : গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন অথচ নিজেরা সনদ স্বাক্ষর করেন নাই !
আবার বলছে নূতন বন্দোবস্হ চাই, অথচ জামাতের পক্ষে কি ভাবে ভোট চাইছেন ?

===============================================================
এই নির্বাচনে সবাই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ভোট চাইছেন
নানান রকমের অঙ্গীকার করে
তাহারা দেশের জন্য সুখ,শান্তি, এনে দিবেন ।
------------------------------------------------------------------------------------------
অপেক্ষায় থাকলাম কবে এই মিথ্যাচার সমাপ্ত হবে
এবং
এই দেশ সত্যি কার অর্থে ঈমানদারের শ্পর্শে বরকতময় হয়ে উঠবে !!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৩
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম হচ্ছে মানুষের তৈরি করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩০



''ওশোকে একজন মৃত্যুর ভয় নিয়ে প্রশ্ন করলো।
ওশো বলেন, তোমরা তো মৃত, এজন্য মৃত্যুকে ভয় পাও।
যে জীবিত, যে জীবনের স্বাদ পেয়েছে সে জানে মৃত্যু একটি ভ্রান্তি।
জীবন'ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝগড়াটে মেটা এআই.....বেটা এআই X#(

লিখেছেন অপ্‌সরা, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


আমি তখন প্রায় সারাদিনই শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ করে এমন অপ্রত্যাশিত থমকে যাওয়া মেনে নেওয়া তো দূরের কথা আমাকে যারা একটু আধটুও চেনে তারাও মানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অ্যামাজনে আমার বাংলা বই পাবলিশ করার রহস্য

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৮

অ্যামাজন বাংলায় বই পাবলিশ করে না বলেই জানতাম। আমি নিজে কয়েকবার চেষ্টা করে পারি নাই। অ্যামাজন রিজেক্ট করে দিয়েছিলো। কিন্তু, আমি হাল ছাড়ি নাই। শেষ পর্যন্ত, গত কয়েক দিন আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র



আমরা ছোট বেলায় পড়েছি,
মিথ্যা বলা মহাপাপ, তা করলে কঠিন শাস্তি পেতে হয় ।

আর এখন জেনেছি , মিথ্যা বলা একটি অন্যতম কৌশল
যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক দুই তিন, 'না'-এ ভোট দিন

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪০


১.
সকল নাগরিক
গণভোটে 'না' দিক

২.
জনগণ রাগের চোটে
'না' দেবে গণভোটে

৩.
হয় দেব না ভোট
নাহয় দেব 'না' ভোট

পুনশ্চ:
গণভোট ও নির্বাচন...
'না' না জিতলে প্রহসন ...বাকিটুকু পড়ুন

×