somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানালার ওপাশে জোছনা..................১

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানীং আসিফ প্রায়ই বলে "দূর হয়ে যা, দূর হ তুই, তুই গেলেই আমি বাঁচি, যাসনে কেন, পড়ে থাকিস কেন এখানে, লজ্জা নেই তোর? মরার আর জায়গা পেলিনা? এখানে এসে মরলি? " লীনা অবাক হয়ে শুনে। এত অপমান?!!!! "কি কোরবো আমি? আমি লীনা আহসান। ভীষন অসহায় এখন। যে লীনা একসময় অন্যের বুকের বল ছিল, সেই আজ সবথেকে অবলা। নিজের কাছেই সবথেকে অসহায়!!!!!" ভাবতে থাকে লীনা।

আসিফ, লীনার স্বামী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে। ওদের বিয়ে হয়েছিল ২ বছর আগে। এর মাঝেই অনেক বার লীনা কে শুনতে হয়েছে "তোর মত নিকৃষ্ট মেয়ে আমি আর দেখিনি, তোর জন্মে সমস্যা আছে, তুই জঘন্য মানসিকতার মেয়ে," আরও অনেক কিছু। আসিফের চোখে আসিফের ভাবীর চেয়ে ভাল মেয়ে আর একটিও হয়না। লীনা উদাস চোখে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে "আমি তো কখনও সজ্ঞানে কারও কোন ক্ষতি করিনি, তবে আমার জীবন টা কেন এমন হল?!!!"


তারপরও "দূর হয়ে" যাওয়া হয়না লীনার। আসিফকে যে ভীষন ভালবাসে ও। ভালবাসার জন্য যথেষ্ট কারন আছে কিনা তাও জানেনা লীনা, তবুও ভালবাসে। ভালবাসা বোধ হয় কোন সমীকরনের সূত্র মানেনা!! কতবার লীনার বাবা সাইফ আহসান, বলেছেন "চলে আয় মা, একটি মাত্র মেয়ে তুই আমার, তোকে আমি কষ্টে দেখতে চাইনা"। যায়নি লীনা। যেতে পারেনি। কতবার মনটাকে শক্ত করেছে। তবুও পারেনি। সত্যিই মনটা যার অন্যের হয়ে যায়, শরীরটাও তখন আর তার নিজের দখলে থাকেনা।

অনেক বদলে গেছে লীনা। বিয়ের আগে এমনটি ছিলনা সে। কখনও কারও সাথে মনমালিণ্য হয়নি যে মেয়ের সেই মেয়েটার সাথেই সারাদিন ঠোকাঠুকি চলতেই থাকে আসিফের। হয়ত এভাবে কাউকে ভালবাসেনি লীনা, এভাবে মন_প্রাণ সপে কাউকে চায়নি কোনদিন তাই দ্বন্দ্বও হয়নি। আসিফকে এতটা মগ্ন হয়ে ভালবেসেছে বলেই ওর এতটুকু অবহেলা কিংবা ঊদাসীনতা লীনার সহ্য হয়না!! লীনা চায় নিখাঁদ ভালবাসা। একদম নিখাঁদ!!

আসিফ ভালবাসা টাসার ধার ধারেনা। রাতে চাই একটা প্রস্তুত শরীর, নিজের একটা উত্তরাধীকারি, লোকের সামনে "ভাল ছেলে" সুনাম টা ধরে রাখার সতর্ক চেষ্টা। নিজের বউকে সে নিজের সম্পত্তি তো ভাবেই, সাথে তার মা, বোন, দূলাভাই, বড়ভাই সবার সম্পত্তিও বানিয়ে রাখতে চায়। হয়ত ভাল ছেলে হওয়ার পূর্বশর্তই হল মা বোন দূলাভায়ের কাছে বউয়ের বদনাম করা, মিথ্যে দোষারোপ করা এমনকি বউয়ের বাপ মা ভাইকে বাড়িতে ডেকে অপমান করা!!! বিয়ের পর লীনার অনেক খারাপ অভ্যাস জানলো সবাই!!! তার বদনামে দেশ ছেয়ে গেল। লীনার এত এত মন্দ স্বভাবের খোঁজ লীনা নিজেও জানতো না!!! লীনা আজীবন বিশ্বাস করে এসেছে দুই হাতে তালি বাজালে শব্দ হয় মাত্র, কিন্তু হাতের মাঝে তৃতীয় কোন কাঁটা ঢুকলে দুই হাতই ক্ষত বিক্ষত হয়, দুই হাতই ব্যাথা পায়!!!! তাই তাদের দাম্পত্যে লীনার নিজের বাবা মা কেও ঢুকতে দেয়নি। কিন্তু আসিফ...........

তবুও লীনা ছেড়ে যায়না আসিফকে। পোড়া ভালবাসা লীনাকে ঘুন পোঁকার মত ভেতর থেকে ফাঁকা করে ফেলছে। ঘুম আসেনা লীনার। "শেষ হবার আর কিই বা বাকী আছে আমার?!!!!" একা একা ভাবে সে। বারান্দার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে আকাশের দিকে তাকিয়ে। মনে পড়ে কবিরের কথা.........................


কবিরকে সর্বশেষ যেদিন অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল লীনা, সেদিন কবির অপলক চেয়ে ছিল লীনার চোখের দিকে। একদম স্থির চোখে। বলেছিল "চোখ সরিয়ে নিলে পাছে তোমায় ঘৃনা করে ফেলি!!!" কবিরকে লীনার বাবা মেনে নিতনা কখনই। বাবার মনে কষ্ট দিয়ে কবিরকে গ্রহনও করা হতনা লীনার। তাই বৃথা স্বপ্ন দেখায়নি সে কবিরকে! লিনার বিয়ের খবর শুনে কবির নাকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। সেই থেকে কবির নাকি প্রায়ই ভীষণ অসূস্থ হয়ে যায়। কিই বা করার ছিল লীনার। বাবার মনে আঘাত করা তো অসম্ভব ছিল ওর জন্য। চোখ বুঁজে লীনা মনে মনে বলে "ক্ষমা করে দিও কবির, আমি নিরুপায় ছিলাম, আর দীর্ঘশ্বাস ফেলনা। তোমার দীর্ঘশ্বাসের ঝড়ে আমার সুখগুলো সব উড়ে গেছে, এবার ক্ষমা কর!!!"

এমন সময় লীনার বুক ভেঙ্গে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল........................



(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৭
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×