somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অধ্যক্ষের ছত্রছায়ায় হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের পাহারাদার ছাইফুল মালেক ওরফে কালামের কুকীর্তি X((

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের এমএলএসএস (পাহারাদার) ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিজের পদোন্নতি অর্জন করে দীর্ঘদিন যাবৎ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন, ফরম ফিলাপ, সার্টিফিকেট সরবরাহ সহ দাপ্তরিক কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে। এছাড়া কলেজের ছাত্রীদেরকে উত্যক্ত করা সহ এলাকায় একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার উত্তর বেজুগালিয়া গ্রামের জনৈকা নারীকে গত ২৩/০৮/২০১৫ইং তারিখ গভীর রাত্রে বসত ঘরে সংগোপনে ঢুকে যৌন নির্যাতন করে এই ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম। পরদিন ঐ মহিলা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৯ (৪) (ঘ)/৩০ ধারায় মামলা করে (মামলা নং-১৩, তাং-২৪/০৮/১৫ইং)। মামলা দায়েরের পর থেকে লম্পট ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম কলেজের দায়িত্ব-কর্তব্যে ফাঁকি দিয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এদিকে দ্বীপ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত দাস গুপ্ত এই ছাইফুল মালেকের সকল কুকর্মের সক্রিয় প্রশ্রয়দাতা বলে জানা যায়। গত ১২/০৯/২০১৫ইং তারিখ সরেজমিনে কলেজে গিয়ে কর্মচারী হাজিরা খাতা দেখে জানা যায়, গত ২২/০৮/১৫ইং তারিখ থেকে ১২/০৯/১৫ইং তারিখ পর্যন্ত টানা ১৯ কর্মদিবস হাজিরা খাতায় ছাইফুল মালেকের কোন স্বাক্ষর নাই। এরমধ্যে ২২, ২৩, ২৪ আগস্ট অনুপস্থিত থাকলেও উক্ত দিনগুলোতে কোন ছুটি না দেখিয়ে পরবর্তী ৩ দিন ছুটি দেখানো হয়। পরে জানা যায়, ২২/০৯/২০১৫ইং তারিখে ছাইফুল মালেক গোপনভাবে এলাকায় আসার পর কলেজ অধ্যক্ষ কলেজের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ছাইফুল মালেকের বাড়ীতে হাজিরা খাতা নিয়ে তার অনুপস্থিত দিনগুলো সহ আগাম এক দিনের স্বাক্ষর গ্রহণ করে। এদিকে ছাইফুল মালেক ওরফে কালাম হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহে অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করে অহরহ ঘুষ বাণিজ্য করে আসছে। এছাড়াও অকৃতকার্য ও কম নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদেরকে কৃতকার্য বা বেশী নাম্বার পাইয়ে দিবে বলে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এই ছাইফুল মালেক। কলেজের কর্মচারী পদে নিয়োগ পাইয়ে দিবে বলে একাধিক লোক থেকে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ আছে। তার এসব অবৈধ কর্মকান্ডে কলেজের অধ্যক্ষ সরাসরি জড়িত থেকে তাকে সহযোগিতা করছেন এবং ঘুষের ভাগ আদায় করছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে উক্ত ছাইফুল মালেকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। কলেজের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজে অধ্যক্ষের পছন্দনীয় ব্যক্তি হিসেবে ছাইফুল মালেককে উর্ধ্বতন কার্যালয়ে এবং বোর্ডে পাঠানো হয়। এই সুযোগে তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়া ছাত্রী ও তাদের আত্মীয় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ এর কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা না দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তার দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ অসংখ্য শিক্ষার্থী কলেজের ভর্তি ক্যানসেল করে পার্শ্ববর্তী মহিলা কলেজ ও সুবর্ণচরের সৈকত কলেজে ভর্তি হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪/১০/৯৪ইং তারিখে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক এমএলএসএস (পাহারাদার) পদে ছাইফুল মালেক কলেজ স্মারক নং-৪/নিয়োগ (হাদ্বীক)৯৪/৫০৪, তাং-১০/১২/৯৪ এর সূত্র উল্লেখ করে ১২/১২/৯৪ইং তারিখে লিখিত যোগদান পত্র মারফত অত্র কলেজে এম.এল.এস.এস (পাহারাদার) পদে যোগদান করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক এমএলএসএস (পাহারাদার) পদে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণীর অতিরিক্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও চাকুরীবিধি অনুযায়ী এমএলএসএস (পাহারাদার) পদটি পদোন্নতি যোগ্য নয়। কিন্তু এই ছাইফুল মালেক পরবর্তীতে সুকৌশলে তার নিয়োগপত্রে উল্লেখিত ‘পাহারাদার’ শব্দটিকে মুছিয়ে শুধুমাত্র এমএলএসএস পদ দেখিয়ে এবং ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংযুক্ত করে অধিদপ্তর থেকে অবৈধ ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বেআইনীভাবে পদোন্নতি লাভ করে।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×