somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের দুর্গে-ই নারীর সুরক্ষা

১৬ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি খাছ মজলিসে প্রসঙ্গক্রমে আদীব হুযূর (হযরত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম) বলেন, নারী-অধিকার ও নারী মুক্তির কথা বেশ জোরে শোরে বলা হয়। বিষয়টি গুরুতর, কোন সন্দেহ নেই। পাশ্চাত্য সভ্যতার চমক ধাঁধায় বিভ্রান্ত লোকেরা মনে করে, নারী- নির্যাতনের কারণ হলো নারীর অর্থনৈতিক পরনির্ভরতা এবং ক্ষমতার অভাব। তাই নারীকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন করতে হবে। পাশ্চাত্য সমাজ ও সভ্যতা এ পথে নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, তাতে এমন হাজারো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যে, সমাজ বিজ্ঞানী ও চিন্তা নায়কগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই সেদিন, মাস খানেকও হবে না, লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশে পোপ নিজে আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমাদের খৃস্টান- বিশ্বের পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

স্বাবলম্বিতা যে নারী-মুক্তির কোন উপায় নয়, এটা পানির মত সহজ বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা হয়ে দাঁড়ায় নারীকে শোষণ করার আরেকটি ফাঁদ। সিংহভাগ ক্ষেত্রে এই উপার্জনই নারীর জন্য নতুন সমস্যা ডেকে আনে। নারী উপার্জন করে, প্রায় সিংহভাগ ভোগ করে পুরুষ। আর নারীর ক্ষমতায়ন? এটা অবাস্তব কথা। দুর্বল কখনো ক্ষমতাবান হয় না। প্রকৃতিগত ভাবে আল্লাহ যাকে দুর্বল করে বানিয়েছেন, কীভাবে সে ক্ষমতাবান হবে? তার হাতে যত ক্ষমতাই আসুক কীভাবে সে তা প্রয়োগ করবে? আল্লাহ যাকে প্রকৃতিগত ভাবে শক্তিশালী করে বানিয়েছেন সেকি এই ক্ষমতা প্রয়োগ মেনে নেবে? না বিরোধ ও সঙ্ঘাত দেখা দেবে? ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা দরকার, নারীর প্রতি, পরিবারের প্রতি, সন্তানসন্তুতির প্রতি, সমাজ-সংসারের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বিষয়টি বোঝা দরকার। এখানে আবেগ তাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ নারী দুর্বল এবং সুন্দর, পুরুষ শক্তিশালী এবং রুক্ষ-অসুন্দর। এমন কোন ব্যবস্থা থাকতে হবে যা নারীর দুর্বলতা ও সৌন্দর্যকে সুরক্ষা দান করতে পারে, পক্ষান্তরে পুরুষের শক্তি ও রুক্ষতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটা সম্ভব শুধু এবং শুধু ইসলামের সামগ্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে।

একথা গুলো মনে পড়লো আজকের পত্রিকা পড়ার সময়। কী লোমহর্ষক, কী নিষ্ঠুর, কী পাশবিক ঘটনা! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, পাড়া গাঁয়ের অশিক্ষিতা-অবলা কোন নারী নয়! রীতিমত ক্ষমতাবতী একজন নারী! দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সমাজ জানতে পেরেছে চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা ঘটে যাওয়ার পর। একটি পুরুষের হিংস্রতার মুখে তার অসহায়ত্ব দেখো! মাকে, বাবাকে পর্যন্ত কিছু বলেনি। কেন বলেনি? একটা মাত্র হুমকি দিয়েছিলো বিবাহবিচ্ছেদের। পরিণাম?! না হয় বিবাহবিচ্ছেদ। সমাধান তো আসবে না! শান্তি ও স্বস্তির সমাধান! নিশ্চিন্ততা ও নিরাপত্তার সমাধান!

নারীর জন্য ইসলামের যে সুরক্ষা, তা না নারী নিজে গ্রহণ করছে, না সমাজ গ্রহণ করছে, আর না দেশের শাসন ব্যবস্থা পুরুষের শক্তি, ক্ষমতা ও পশুত্বকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইসলামের দেয়া ব্যবস্থা কার্যকর করছে। এখন কী হবে? মেয়েটি অন্ধ হবে, লোকটিকে জেলে দেয়া হবে, আর ছোট্ট শিশুটি আশ্রয়হীন হবে? কিন্তু ঘটনা থামবে না। পাশ্চাত্যে থামেনি, এখানেও থামবে না। এভাবে সমাধান হবে না। পত্রিকায় তো একটিমাত্র খবর এসেছে। গরীব বস্তির কথা বাদ দাও, পারাগাঁয়ের কথা বাদ দাও। শিক্ষিত সমাজে, অর্থ ও ক্ষমতার বৃত্তে বাসকারী সমাজে কত অসংখ্য নারী এভাবে চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে। মুখ খোলারও উপায় নেই। খুব বেশী হলে ঘর ভাঙ্গবে, কিন্তু সেটা তো সমাধান নয়।

একটা জিনিস সবসময় দেখে আসছি, পর্দাহীনতা (নারীর এবং পুরুষের উভয়ের), অবাধ মেলামেশা, ভোগের স্বেচ্ছাচার কোন না কোনভাবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে এগুলোই হচ্ছে নারী নির্যাতনের মূল কারণ। নারী-পুরুষ উভয়ের জীবনকে ইসলামের কঠোর অনুশাসনের অধীনে আনা হলেই শুধু নারী নির্যাতন বন্ধ হবে, নারীর অধিকার সুরক্ষিত হবে, এছাড়া কোন উপায় নেই। অবাধ মেলামেশার জীবনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কখনো পুরুষ কখনো

নারী, কখনো উভয়ে অশান্তির আগুনে দগ্ধ হতে থাকে। মাঝে মধ্যে বিভিন্নভাবে বিস্ফোরণ দেখা দেয়। এখানেও যা পাশ্চাত্যেও তা, পার্থক্য শুধু প্রকারে ও মাত্রায়। আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ একবার অন্তত ইসলামের সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেখুক না। কত বাদ-মতবাদই তো গ্রহণ করা হয় এবং ব্যর্থ হলে পরিত্যাগ করা হয়। ইসলামকে একবার গ্রহণ করে দেখুক না! যদি জীবনে শান্তি না আসে (যার কোন সম্ভাবনাই নেই) তাহলে আবার ফিরে যাবে আগের জীবনে।

ইসলামকে একবার একটা সুযোগ দিয়ে দেখুক না! আসলে বলা দরকার, ইসলামের দেয়া শান্তিপূর্ণ জীবনের সুযোগ মানুষ একবার গ্রহণ করে দেখুক না, অন্তত পরীক্ষা মূলক ভাবে। এভাবে অশান্তির আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়ার চেয়ে তো অনেক ভালো।

দেখো, একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই। ঘটনা যাই ঘটুক, লোকটা যেসব বাজে কথা বলছে তা সত্যও যদি হয়, এ নিষ্ঠুরতা ও পাশবিকতা অমার্জনীয়, এর কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। দুর্বল নারীর উপর সবল পুরুষের হিংস্রতা ও পাশবিকতা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, এটা সমাধান নয়। আমাদেরকে আসতে হবে সমাধানের কাছে এবং তা একমাত্র ইসলাম। বলতে ইচ্ছা করে, ‘পরীক্ষা প্রার্থনীয়’।


"নবী (সাঃ) এর সহধর্মিনী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ "মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আপতিত হয় এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয় এর দ্বারাও।" -[সহিহ বুখারী : খন্ড ৭ : অধ্যায় ৭০/ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা : হাদিস ৫৪৪]

নিজের পাপ কাজ মানুষকে বলে বেড়ানো নিষেধ। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ “আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে পাপ প্রকাশকারী ব্যতীত। আর এক প্রকার প্রকাশ এই যে, কোন ব্যক্তি রাতে কোন পাপকাজ করে, যা আল্লাহ গোপন রাখেন। কিন্তু সকাল হলে সে বলে বেড়ায়, হে অমুক! আমি আজ রাতে এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত্রি অতিবাহিত করেছিল যে, আল্লাহ তার পাপ গুপ্ত রেখেছিলেন। কিন্তু সকালে উঠে তার উপর আল্লাহর আবৃত পর্দা খুলে ফেলে!”

[সহীহ বুখারী ৬০৬৯; সহীহ মুসলিম ২৯৯০]

:|:):):):):):)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×