somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরের রাতযৌনকর্মীদের দখলে

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাদকসেবী এবং যৌনকর্মীদের
অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে পুরান
ঢাকার কোর্ট-কাচারি এলাকা।
সন্ধ্যার পর থেকে জজকোর্ট
এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের
আশপাশ এলাকায় তাদের উৎপাত
বাড়তে থাকে।প্রতিদিন সন্ধ্যার
পর পরই ওই এলাকায়
বসে যৌনকর্মী এবং মাদকসেবীদের
আড্ডা। রাস্তার
দু‘পাশে যৌনকর্মীদের
ভিড়ে সাধারণ পথচারীদের
প্রতিনিয়ত পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
অপরদিকে মাদকসেবীদের
খপ্পরে পরে সর্বস্ব
খোয়াতে হচ্ছে অনেকের।
দীর্ঘদিন ধরে এই
অবস্থা চলে আসলেও তা দেখেও
না দেখার ভান করছে পুলিশ
প্রশাসন। অভিযোগ আছে পুলিশ
মাদকসেবী এবং যৌনকর্মীদের
কাছ থেকে মাসেহারার
বিনিময়ে নির্বিকার।রাজধানীর
পুরান ঢাকার জনসন
রোডে অবস্থিত জর্জকোট
এবং ঢাকা পুলিশ সুপারের
কার্যলয়। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ
কার্যালয় ছাড়াও এর পাশেই
রয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ,
পাসপোর্ট অফিস, বাংলাদেশ
ব্যাংক, ন্যাশনাল মেডিকেল
কলেজ এবং জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের
অন্যতম প্রবেশদ্বা ওই রাস্তাটি।
এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ওই
এলাকায় প্রতিদিন সহস্রাধিক
মানুষের চলাচল রয়েছে।
তাছাড়া ওই এলাকায় সেন্ট
গ্রেগরি, সেন্ট ফ্রান্সিস,
কলেজিয়েট স্কুলসহ বেশ
কয়েকটি নামিদামি স্কুল থাকায়
ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন
কোমলমতি শিশু এবং তাদের
অভিভাবকদের চলাচল করতে হয়।
রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ
এবং ব্যবস্ততম এলাকাটিতে গভীর
রাত পর্যন্ত রয়েছে পথচারীদের
চলাচল। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরই
পুরো এলাকাটি চলে যায়
মাদকসেবী এবং যৌনকর্মীদের
দখলে। তখন ওই
এলাকা দিয়ে চলাচল
করতে গিয়ে শুধু বিড়ম্বনা নয়;
অনেকেই হয়রানীর শিকার হয়।
মাদকসেবীদের
খপ্পরে পরে মোবাইল,
মানিব্যাগসহ সবকিছু
খোয়াতে হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে,
সন্ধ্যা ৭টার পর
থেকে যৌনকর্মীরা রায়সাহেবের
বাজারের মোড়, পুলিশ ক্লাব
(১৯/এ, জনসন রোড), জুডিসিয়াল
ম্যাজিস্টেটের কার্যালয়, জর্জ
কোর্ট, পুলিশ সুপারের কার্যালয়
হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত
এবং মদিনা হোটেল,
পূবালী ব্যাংক, আজাদ ম্যানশন
(সিনেমা হল), জেলা পরিষদ
হয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ
পর্যন্ত রাস্তার
দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
তবে যৌনকর্মীদের
সবচেয়ে বেশি দেখা মিলবে আজাদ
ম্যানশন (সিনেমা হল) এবং পুলিশ
সুপারের কার্যালয়ের সামনে।
সন্ধ্যার পর থেকে রাত
১টা-২টা পর্যন্ত এসব এলাকায়
যৌনকর্মী ও তাদের দালালদের
অবাধ বিচরণ থাকে ওই এলাকায়।
তখন ওই রাস্তার পাশ দিয়ে কেউ
হেঁটে গেলে তাকে নানা রকম
হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেক
যৌনকর্মী পথচারীদের
রাস্তা আগলে দাঁড়ায়। পথচারীদের
কাছ থেকে ইচ্ছেমত টাকা আদায়
করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব
যৌনকর্মীরা ভাসমান। দিনের
বেলায় এদের অস্থিত্বও
খুঁজে পাওয়া যায় না। সন্ধ্যার
আগে সস্তা প্রসাধনে সজ্জিত
হয়ে ওই এলাকায়
তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নেয়।
এসময় যৌনকর্মীদের
ঘিরে সক্রিয় হয়ে পড়ে দালাল
চক্রও। দালাল চক্রের
মধ্যে নারী পুরুষ উভয়ই রয়েছে।
মূলত এরাই যৌনকর্মীদের জন্য
খদ্দর সংগ্রহ করে।
অনুসন্ধানে আরও যানা যায়,
ভাসমান যৌনকর্মীদের
সঙ্গে কেউ
অভিসারে যেতে চাইলে যৌনকর্মীকে ১০০
থেকে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত
দিতে হয়। তবে কেউ যদি দালালের
মাধ্যমে যৌনকর্মীর
সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় তবে এরজন্য
দালালকেও আলাদা টাকা দিতে হয়।
এরপর খদ্দের তার পছন্দ
অনুযায়ী বাসা কিংবা হোটেলে নিয়ে যায়
এদের।যৌনকর্মীদের
ঘিরে আরেকটি মাদকাসক্ত চক্র
সক্রিয় রয়েছে। আবার অধিকাংশ
যৌনকর্মী ফেনসিডিল,
হিরোইন ও ইয়াবা থেকে শুরু
করে বিভিন্ন ধরনের
মাদকে আসক্ত। ফলে শুধু খদ্দের
নয়, তাদের হাতে প্রতিনিয়ত
সাধারণ মানুষকেও হয়রানির
শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগ আছে এসব
যৌনকর্মীদের আয়ের
একটি নির্দিষ্ট অংশ চলে যায়
কোতোয়ালি থানা ও সূত্রাপুর
থানা পুলিশের কাছে।
ফলে এলাকাবাসী বহুবার
অভিযোগ করলেও তাদের
বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে ঢাকা জজ কোর্টের
আইনজীবী অ্যাডভোকেট
আসাদুজ্জামান আসাদ জানান,
মদিনা হোটেলের তিন তলায় তার
চেম্বার। আইনি পরামর্শের জন্য
রাতে অনেকেই তার কাছে আসেন।
কিন্ত ওই এলাকাটিয় তখন
যৌনকর্মী এবং মাদকাসক্তদের
অবাধ বিচরণ থাকায় অনেকেই
হয়ারানির শিকার হন।এসব
অভিযোগ অস্বীকার
করে সূত্রাপুর থানার অফিসার
ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম
প্রাইমখবর ডটকমকে বলেন,
‘পুলিশ নিয়মিত ওই এলাকায়
অভিযান পরিচালনা করছে।
ইতিমধ্যে অনেক
অপরাধীকে আটকও করেছে।
সাধারণ মানুষ যাতে ওই এলাকায়
নির্বিঘ্নে চলাচল
করতে পারে সেজন্য অভিযান
অব্যাহত থাকবে। প্রায় একই
ধরনের বক্তব্য
কোতোয়ালি থানার অফিসার
ইনচার্জ শাহ আলমের।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×