somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাজী মেহরাজ
কাজী মোঃ কাইসার হামিদ (মেহরাজ)

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ডাদেশ মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

২০ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ডাদেশ মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায়ে ২০০৩ সালে আদালত বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। আরও দুটি হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে আটক আছেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় পলাতক থেকে বিপ্লব গত ৪ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁর বাবা আবু তাহের ছেলে বিপ্লবের প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বিপ্লবের সাজা মওকুফ করেন। গত ১৪ জুলাই এই সাজা মওকুফের আদেশ কার্যকর হয়।বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের বাসা থেকে নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এটি তখন দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। তখন সেখানকার পৌর চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরও সন্ত্রাসের ‘গডফাদার’ হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।২০০৩ সালে এই মামলার রায়ে বিপ্লবসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত।বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফসংক্রান্ত একটি চিঠি গতকাল মঙ্গলবার নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচারিক আদালত চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়। চিঠিটি পাঠিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরশেদ আহমেদ ভুইয়া। চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ‘কারা শাখা-২-এর পি-২০/২০১১(অংশ)/২৭০, তারিখ ১১/০৭/২০১১’ এবং কারা অধিদপ্তরের স্মারক নং ‘পিডি/পরি/৭/২০১১/১৬৭৫(৩), তারিখ ১৭/০৭/২০০১’-এর বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘উপরোক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকের আলোকে মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিষয়োক্ত বন্দিকে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম-৪৮/২০০৩ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির পিতা কর্তৃক ছেলের প্রাণভিক্ষার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি “মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হলো” লিখে স্বাক্ষর করেছেন। তাই সংশ্লিষ্ট বন্দি গত ১৪/০৭/২০১১ তারিখে মৃত্যুদণ্ড হতে খালাস পেয়ে অন্য মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে বর্তমানে অত্র কারাগারে আটক আছে।’গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরশেদ আহমেদ ভুইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি মামলায় বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করেছেন। সেই আদেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, আরও দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় বিপ্লব কারাগারে বন্দী আছেন।কী বিচার পেলাম: বিপ্লবের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের খবর জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা ইসলাম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাহলে আমরা কী বিচার পেলাম? আমার বাচ্চারা কী বিচার পেল? একটা স্বাধীন দেশে যদি খুনি ক্ষমা পেয়ে যায়, তাহলে আর কী বলব! শুধু কষ্ট হয়। এই খুনির ক্ষমা হয় কীভাবে?’
রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘এখন তো আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, সে তো একজন খুনি। সে শুধু একটা খুন করেনি, আরও অনেক খুন করেছে। এখন আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?’হত্যা, মামলা ও বিচার: স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আবু তাহের ও তাঁর ছেলেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীর নানা অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে লক্ষ্মীপুর ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ওই সময় সেখানকার বেশির ভাগ বিএনপির নেতা-কর্মী হামলা ও মামলার মুখে এলাকাছাড়া ছিলেন। নুরুল ইসলাম ছিলেন তখন বিএনপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আইনজীবী হিসেবে এলাকায় অবস্থান করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলা পরিচালনা করতেন। আর তাঁর স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় থাকতেন।২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকার মজুপুরের বাসা থেকে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। এরপর আর তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরদিন থেকে এটা দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ‘গডফাদার’ আবু তাহের ‘সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন।মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, তাহেরের তিন ছেলে বিপ্লব, লাবু ও টিপুর নেতৃত্বে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাহেরের বাসায় তাঁর স্ত্রী নাজমা তাহেরের উপস্থিতিতে নুরুল ইসলামকে জবাই করা হয়। এরপর লাশ টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পরদিন লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি এইচ এম তারেক উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ ছিল না।এ ঘটনার ১০ দিন পর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির সাংসদদের একটি দল লক্ষ্মীপুরে যায় এবং ৩৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে মামলার একটি এজাহার জমা দেয়। কিন্তু পুলিশ বিএনপির মামলা নেয়নি। আগের এজাহার বহাল রাখে।২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মামলার তদন্তের নতুন মোড় নেয়। ২০০২ সালের ৩০ জুলাই আবু তাহের, তাঁর স্ত্রী নাজমা, তিন ছেলেসহ ৩১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।মামলাটি তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলার নথি আসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।
আদালত তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহবুবুল আলম, পুলিশ সুপার ইরফান আলীসহ ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। তাতে তাহেরের তিন ছেলেসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তাহের ও তাঁর স্ত্রী নাজমাসহ তিনজন খালাস পান। বিপ্লব এই মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে বিপ্লব লক্ষ্মীপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর গত ১৯ মে সকালে লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে পুলিশ পাহারায় বিপ্লবকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।এ ছাড়া বিএনপির কর্মী কামাল হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিপ্লবের অপর দুই ভাই এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু ও আবদুর জব্বার লাবলু ওরফে লাবুর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। কামাল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় আবু তাহের, তাঁর বড় ছেলে বিপ্লব ও দলীয় কর্মী খালেক, বাবর এবং মারজুর। পরে বিপ্লব ও খালেক ছাড়া বাকি চারজন হাইকোর্ট থেকে খালাস পান।বিএনপির কর্মী কামালকে ২০০০ সালে হত্যা করা হয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×