জীবনের যে সব ঘটনা থেকে আমি নিজে অনুপ্রেরণা নিই -- ক্লাস ফাইভ থেকে অঙ্কে আমার ভয়াবহ অবনতি শুরু হয় । ক্লাস সিক্সে শুরু হয় ইংরেজিতে। এখনো মনে আছে আম্মু একদিন অঙ্ক করাচ্ছিল তখন কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না দেখে সামনে থাকা পেপার-ওয়েট দিয়ে মাথায় দিল এক বাড়ি। ক্লাস এইট-এর শুরুতে যে স্যারের কাছে অঙ্ক প্রাইভেট পড়তাম তার ওখানে একদিন অঙ্ক পরীক্ষা চলছিল। সবার শেষ,আমি তখনো অঙ্ক করছিলাম ।স্যার অবাক,"কিরে সামান্য উৎপাদকের অঙ্ক করতে এতক্ষণ লাগে ক্যান?" যথারীতি আমি সর্ব নিম্ন নম্বর পেলাম। আব্বু-আম্মুর বক্তব্য,"এই ছেলে ভবিষ্যতে সায়েন্স নিবে বলছে,কিন্তু অঙ্ক আর ইংরেজির বাধাই তো পার হতে পারছে না। " সেদিন রাতে ক্লাস এইটের অঙ্ক বইটা নিয়ে বসলাম।কি আছে এতে যে আমি পারি না ! নো ওয়ান ক্যান বিলিভ সেদিন থেকে শুরু হলো অঙ্ক মেলানোর যুদ্ধ-যে আমি ৬০ পেতে কষ্ট হতো সেই আমি ১০০ তে ৯৩ পেয়ে গেলাম ,পরবর্তীতেও আর কোন ঝামেলা হয় নি ।
এবার আসলো ইংরেজি। ফার্স্ট পেপার পার হতে পারলেও সেকেন্ড পেপার যেন সাক্ষাত মৃত্যুদূত।গ্রামার-ওরে বাপ রে ! ভয়েস আর ন্যারেশন পরীক্ষায় পুরো জিরো পাবার পর হুশ হলো যে এভাবে চলতে পারে না। গ্রামারের প্রতিটা রুলস নিজের হাতে লিখে সেটা প্যারাগ্রাফ,এসে কিংবা লেটার রাইটিং-এ প্রয়োগের চেষ্টা করতাম। একদিন স্যার বইয়ের বাইরে থেকে "হিস্টরি অব মে-ডে " লিখতে দিল। বাংলা বই থেকে সেটা ইংরেজি করে লিখে আনলাম আর ভয়ে ভয়ে স্যারকে দেখলাম।স্যার অবাক,একটা স্পেলিং মিসটেক বাদে আর কোন ভুল নেই। আল্লাহর রহমতে এখন মনে এতটুকু বিশ্বাস আছে যে কোথাও ইংরেজিতে কিছু বলতে বা লিখতে হলে ঠেকে যাব না।
আসলে আমরা কেউ ব্যর্থ নই। একটু ভেবে দেখলে দেখা যাবে জীবনের কোথাও না কোথাও সাফল্যের গল্প আছেই। দরকার হল তখন কিভাবে কাজটা করেছিলাম মনে করা আর সেটা আবারো করা। আর খুব মন খারাপ হলে টেবিলের ড্রয়ার থেকে ভার্সিটির আইডি কার্ড বের করি। আমাদের সময়ে ২৫ জন প্রতি সিটের জন্য লড়েছিল। ২৫ জনকে ফেলে এই কার্ডটা যখন অর্জন করতে পেরেছি,তখন এত সহজে হেরে গেলে চলবে না, না আমার,না আমার বন্ধু কিংবা আমার আশেপাশের প্রিয় মানুষগুলোর । :-) :-) :-)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



