somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুক্রবারের পরিবর্তে সাপ্তাহিক ছুটি অন্যদিন করলেই কেবল ইসলাম সম্মত হবে পারে ।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জেনারেল এরশাদ শুক্রবারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করে । মুসলীমদের জন্য পবিত্র দিন , কারণ, এই দিনকে নিয়ে কুরআনে সুরা জুম্মা নাজিল হয়েছে । এবং এই দিনে সমবেত হয়ে পার্থনার হুকুম দেয়া হয়েছে । এরশাদের সময়ের আগে বাংলাদেশে ও পাকিস্তানের সময়ে ছুটি রবিবার ছিল । এখনও রবিবার দিন সাপ্তাহিক ছুটি বহাল আছে পাকিস্তানে ।
আমাদের দেশে রবিবার পরিবর্তন করে শুক্রবার করা হয়েছে এটা কি জায়েজ হয়েছে নাকি নাজায়েজ ?.. হয়ত একবাক্যে সবাই বলবেন সম্পূর্ণ জায়েজ হয়েছে । .. শরীয়তের পরিবাভাষা কি জানিনা , তবে বহু মসলীম দেশে শুক্রবার ছুটি নেই । তাদের কারণ অনুসন্ধান করেছি । আর, আমার মনে আরও একটি প্রশ্ন ছিল , সেটার উত্তরও জানার চেষ্টা করেছি । . প্রশ্ন ছিল , এক আল্লাহ দুটা দিবসকে দুই ধর্মে কেন পবিত্র করে দিলেন !!??
কুর'আনে আল্লাহ বলেছেন 'ইহুদিদের জন্য সাবাত দিবসে মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়েছিল , কিন্তু তারা তা অমান্য করে মাছ ধরার কারনে তাদের বানরে রূপান্ত করেছিনেন ।' সুরা নাহল পড়লেই স্পষ্ট হবে । ... ইহুদি ধর্ম আল্লাহর কাছে মননীত ছিল আর তারা বিভিন্ন অন্যায় করার কারণে আল্লাহ তা'লা ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিলেন । ইহুদি ধর্মের নবীদের যিনি মাবুদ , তিনিই মুসলীমের মাবুদ । তাহলে শুক্র ও শনি দুদিন কেন পবিত্র ??
কুর'আনে আল্লাহ জুম্মাহ দিবসকে পবিত্র করলেন । সুরাহ জুম্মা দ্রষ্টব্য ।
........ এর জবাব পেলাম বিভিন্ন মিডিয়া ও ওয়েব পেজ ঘেঁটে । তার উত্তর হল : ইহুদীদের মহত্ব আর আমাদের দিনের মহত্বই আলাদা । ....... ইহুদিদের জন্য শনিবার সাবাত ডে , কারণ ঐদিন আল্লাহ তা'লা সমস্থ সৃষ্টি রচনা করে বিরতী দিলেন । সেই দিনকে স্বরণ রেখে ছুটির দিন বা কর্ম দিবস বিরতীর দিন ঘোষণা করা হয়েছে । আর মুসলীমদের কোন সাবাত ডে নেই , যদি থাকত তবে অবশ্যই শনিবার হত । মুসলীমদের জন্য কর্ম বিরতীর জন্য কোন দিন নেই , শুক্রবার হল জুম্মাবার , জুম্মা মানে হল 'জমায়েত' । আর জুম্মাবারে কর্ম থেকে বিরতী থাকতে নিষেধ করেছেন আল্লাহ তা'লা । ... বলা হয়েছে তোমরা জমীনে বিছিয়ে পড় । রিজিক অনুসন্ধান কর । আর জুম্মার নামাজের সময় একত্রিত হয়ে পার্থনা কর । ...'And when the Prayer is finished, then may you disperse through the land, and seek of the Bounty of God: and celebrate the Praises of God often (and without stint): that ye may prosper.'(Al-Jumu`ah 62: 9-11) .... এর মাধ্যমে আল্লাহ ঘোষণা করছে নামাজ শেষ হলেই জমিনে ছড়িয়ে পড় । তার মানে হল ইহুদিদের মত শুক্রবারকে বিশেষ দিন হিসেবে কর্ম বিরতী করতে নিষেধ করেছেন । আর তা করা হলে ইহুদীদের অনুসরণ করা হবে । অর্থাৎ জুম্মা পালন করার সাথে সাথে সাবাত পালন করা হবে । আর সাবাত পালন ইসলামে নিষেধ । ইহুদি অনুকরণ মোটেও জায়েজ নেই । মুসলীম হিসেবে আমাদের উচিত হবে , শুক্রবার প্রার্থনার সময়ে অফিস ব্যবসা বিরতী রেখে নামাজ শেষে আবার অফিস চালু করা । এতে ইহুদীদের মত সাবাত পালন হবেনা অথচ জুম্মার নামাজও আদায় হয়ে যাবে । ... এরশাদ যে কাজ করেছেন তা হল , রবিবারকে পরিবর্তন করে শুক্রবার নামাজের দিবসের দিন বিবেচনা করে সাবাত ডে পালন করেছে । আমরা মুসলীম হিসেবে শুক্রবার কোনভাবেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারিনা । কারণ আল্লাহ তা'লা নামাজ শেষেই রিজিকের অনুসন্ধানে ছড়িয়ে পরতে বলেছেন , সাবাত পালন করতে বলেননি । যদি বলতেন তবে সাবাতকে ফরজ করে শনিবার দিন মুসলীমদের জন্য কর্ম বিরতী দিতেন ।
তাই কোর'আনের সঠিক ব্যাখ্যা বিবেচনা করে শুক্রবার পরিবর্তন করে (শনিবার নয়, কারণ ঐ দিন ইহুদিদের সাবাত) অন্য দিনকে সাপ্তাহিক ছুটি করা হোক , এতে মুসলীমরা ছাবাত পালন থেকে রক্ষা পাবে , আর আল্লাহ নির্দেশ রক্ষা হবে । শুক্রবার দিন যদি অফিস আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে নামাজের সময়টুকু (কোরানের যা হুকুম) বিরতী দেয়া হয় তবে কোন সমস্যা হবার কথা না ।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×