somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুজুর, আপনি কি জানেন দেশের আইনে কী আছে?

১৩ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীনীতি কিংবা হাইকোর্টের মূর্তি নিয়ে যারা হরহামেশাই চিৎকার-চেঁচামেচি করেন, তারা কি দেয়ালের ওপাশের দিকে কখনো চোখ বাড়িয়েছেন? কখনো বাংলাদেশের আইন-বিধি-সংবিধান-নীতিমালাগুলো লাইন বাই লাইন ঘেঁটে দেখেছেন? বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণে শিক্ষার্থী, যারা মাদরাসায় পড়েন এবং ইসলামি আইনে তাদের পারদর্শিতা জাহের করেন, তাদের বলছি—

বাংলাদেশের আইনগুলো তো মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় আইনই বটে। এসব আইনেরই প্রয়োগ হয় এই দেশে প্রতিদিন। এই আইনেই চোরের শাস্তি হয়, খুনীর দণ্ড হয় এবং বিদ্রোহীর দেশান্তর হয়। প্রতিটি মানুষ এই আইন মেনেই এই দেশে বসবাস করে; এমনকি আপনিও। আপনার বাবাও যদি ভিকটিম হন, কিংবা আপনার ভূমিও যদি বেহাত হয়, তবে আপনিও এ-আইনের আশ্রয় নিতেই থানায় যান, আদালতের শরণাপন্ন হন।

কেননা, আপনি যে আইন মাদরাসায় পড়েন সে-আইন এ-দেশে চলে না, অচল। না, পুরোপুরি অচল না; কিন্তু এ-দেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে ‘সিরাজি’ স্বীকৃত তা আপনি মাদরাসা পড়ুয়া হয়েও জানেন না। তবে এ-ক্ষেত্রেও ১৯৬১ সালের এডিশন নিয়ে বিতর্ক আছে। সুতরাং…

তাহলে সে-আইন আপনি কেনো পড়েন? কোনো সুদূর ভবিষ্যতে যদি ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং আপনাকে যদি তখন জাস্টিস তকি উসমানি হতে হয়— সেজন্যে? আচ্ছা, বাংলাদেশের সব আইন যে অনৈসলামিক কিংবা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক— সেটা কি হলফ করে বলা যায়?

মাহাথির মোহাম্মাদ ঢাকা ভার্সিটিতে এই বক্তব্য রেখেছিলেন— ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেখেছি, আমার দেশে ইসলামি আইন চালু করা সম্ভব নয়। কেননা, বিভিন্ন গোত্র ও দলে বিভক্ত দেশের মানুষ তাতে ইসলামদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। তাই আমি এমন আইন চালুর পরিকল্পনা করেছি, যা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
এই বক্তব্য প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশের জন্যেই এখন প্রযোজ্য।

মূলকথা হলো— বাংলাদেশের আইন-বিধি-সংবিধান-নীতিমালাগুলোর প্রতিটি ধারা-উপধারা-অনুচ্ছেদ ইসলামের নিরিখে বিচার করা হয় নি আজও, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতক হয়ে যাবার পরও। শুনেছি, পাকিস্তানে হয়েছে, মালয়েশিয়া এবং এমন আরও অনেক দেশেই কাজটি শুরুতেই সমাধা হয়েছে।

অথচ এ-দেশে কয়েক হাজার ‘ইফতা বিভাগ’ (যেখান থেকে ফতোয়া দেয়া হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পড়ানোও হয়) আছে এবং তাতে গড়ে অন্তত ২০ জনেরও অধিক ছাত্রও আছে; যাদের প্রতি বছর অন্তত ১৫০ তামরীন (আইন-অনুশীলন) করানো হয়। সে-হিসেবে বাংলাদেশের আইনগুলোর তামরীন করা সর্বোচ্চ ১০০ ছাত্রের ২ বছরের কাজ হতে পারে। তারা খুঁজে দেখবেন ইসলামি আইনের সাথে বাংলাদেশের আইনের কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব আছে কি না, থাকলে কোথায় কোথায় দ্বন্দ্ব আছে এবং তার সমন্বয় কী করে হবে কিংবা হতে পারে।

তারপর, সেই তামরীনের ফলাফল যদি মাদরাসায় পড়ানো হয় এবং বিভিন্ন আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া হয়, তাহলে আলাদা কোনো কোর্স ছাড়াই এমন আইনবিদের দেখা মিলবে এ-দেশে যারা একই সঙ্গে ইসলামি আইন ও দেশীয় আইনে পারদর্শী।

একই সাথে জঙ্গিবাদের ধোঁয়াও হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে তখন। কেননা, জঙ্গিরা সবসময়ই এই যুক্তি দেখায় যে, এ-দেশের আইন ব্রিটিশ গোলামি আইন, বেদীন রচিত আইন; যা কোরআন বিরোধী। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে যায়, এ-দেশ দারুল হরব (কাফের শত্রুর দেশ), তাই কিতাল চালু করতে হবে বেদীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ইসলামি টেক্সটের নিরিখে এ-দেশের যাবতীয় আইন-সংবিধান ও নীতিমালা বিচার-বিশ্লেষণ এবং সিজিল-মিছিল করা হলে এ-জাতীয় সকল অভিযোগের সত্যমিথ্যা নির্ণিত হয়ে যাবে এবং দেশের মানুষের সামনে পরিষ্কার থাকবে সকল জবাব। প্রয়োজনে কেবল সাধারণ মানুষের জন্যে ‘ইসলামি আইন বনাম বাংলাদেশি আইন : দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ নামে একটা সাদামাটা গ্রন্থও তৈয়ার করা যেতে পারে। যে-গ্রন্থটি দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ সাদরে স্বাগত জানাবে— নিশ্চিত করে বলা যায়।

মারকাযুদ দাওয়াহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইসলামি আইন সহায়তা কেন্দ্র বা যে-কারো দ্বারা কাজটি হতে পারে। মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কৃত ১ লক্ষ আলেমের ফতোয়ার কাজেরও বহু আগে উচিত ছিলো এ-কাজটি সামাধা করা।

যারা ইসলামি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন তারা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। এবং নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে পারেন— বাংলাদেশের আইন কি ইসলামি নাকি ইসলামবিরোধী?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৭ বিকাল ৪:৩১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×