somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাহলে মাদরাসায় আসলে কী শেখানো হয়

১৪ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“আমাদের বাংলাদেশের মাদরাসা ও স্কুলে যে ইসলামি তথ্যগুলো আছে, বই-পুস্তকে যে তথ্য দেয়া আছে, সেগুলো মানোত্তীর্ণ নয়। এগুলো হচ্ছে প্রাচীন, অত্যন্ত সেকেলে এবং যুগের চাহিদা মেটাবার জন্যে কিছুতেই যথেষ্ট বা পর্যাপ্ত নয়।

একটি উদাহরণ দিই— পানির বিভাজন নিয়ে। আমরা যদি ফিকাহ শাস্ত্রের কোনো গ্রন্থ পড়ি, প্রথমেই পাবো কিতাবুত তাহারাহ, অর্থাৎ পবিত্রতা অধ্যায়। সেখানে পানির সংজ্ঞা আছে, পানির বিভাজন আছে। পানির সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সেখানে বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞাটি নেই, তবে সেটা খুব একটা সমস্য না।

কিন্তু পানির বিভাজনের ক্ষেত্রে সেখানে আপনি পাবেন, মিয়াহুল আনহার, মিয়াহুল আমতার; অর্থাৎ নদীর পানি, আকাশের পানি, কূপের পানি ইত্যাদি। কিন্তু সেখানে আপনি গভীর নলকূপের (টিউবওয়েল) পানির কোনো বিবরণ পাবেন না। চৌবাচ্চা থেকে আসে যে পানি, তার কোনো আলোচনা সেখানে পাবেন না। আমাদের বাংলাদেশের ওয়াসার পানি, যার সাথে ময়লা আসে, তার কোনো হুকুম আপনি পাবেন না।

একইভাবে আমরা মনে করি যে, পানি দিয়েই কেবল পবিত্রতা অর্জন সম্ভব। ধরুন, এক বছরের শিশু পেশাব করে দিলো এমন একটা কাপড়ে, যেটা পানি দিয়ে ধোয়া যাবে না। কেননা, এটা তৈরিই করা হয়েছে এমনভাবে। তো সেটা ড্রাই ওয়াশ করতে হবে। প্রাচীন ফেকাহ গ্রন্থে ড্রাইওয়াশের মাসয়ালা নেই। কেননা, তখন বর্তমান বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার ছিল না। এখন যদি আমি ড্রাইওয়াশ করি, তাহলে আমার কাপড়টা পবিত্র হবে কি হবে না— এইসব মাসায়েল আমাদের বাংলাদেশে যেসব ফেকাহ গ্রন্থ পড়ানো হয়, তাতে নাই।

সুতরাং বাংলাদেশে যে ইসলামি পড়াশোনা করানো হয়, সেটা অত্যন্ত প্রাচীন। তখনকার যুগে এর উপযুক্ততা ছিল ঠিকই, কিন্ত আধুনিক যুগে এই কিতাবগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এপ্রোপ্রিয়েট না। আরব দেশে কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন, সেখানে কোনো প্রাচীন কিতাব পড়ানো হয় না। দুয়েকটি হয়তো পড়ানো হয়। কিন্তু আমি যখন পড়েছি, তখন আমরা ফেকাহর গ্রন্থ পড়েছি ‘ফিকহুস সুন্নাহ’। মিশরের খ্যাতিমান ফকীহ সাইয়েদ সাবেক-এর লেখা। তিনি তার যুগে যতটুকু ছিল, সেখান থেকে আধুনিক সকল মাসয়ালাই এখানে এনেছেন। সেখানে ফটোর বিষয়ও তিনি বলেছেন এবং তিনি ফটোকে জায়েয বলেছেন।

এটা শুধু ফেকাহর ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে।

অর্থনীতির জন্যে আমাদের হেদায়া কিতাবে যে ‘কিতাবুল বুয়ূ’ আছে, সেটা পড়ে যদি আমি ব্যাংকে চাকরি করতে যাই, ব্যাংকের যে ট্রান্জেকশনগুলো আছে সেগুলো বুঝতে যাই, কিছুই বুঝে আসবে না।

কেননা, সেখানে লেখা আছে, বেচাকেনার জন্যে ‘ইজাব-কবুল’ লাগে, একই বৈঠকে (ইত্তেহাদুল মজলিস) হতে হয়। কিন্তু এখনকার যুগে আপনি একটা মেসেজ পাঠালেন, তিনি ১ সপ্তাহ পরে উত্তর দিলেন পণ্য পাঠাবার জন্যে। তাহলে কি একই বৈঠকে হলো? কিংবা স্টক মার্কেটে আপনি বসে আছেন, স্ক্রিনে ভাসছে এটার রেট এটা, ওটার রেট ওটা। আপনি কেবল বসে বসে বাটনে ক্লিক করলেন। আপনি বলছেন না যে, আমি ক্রয় করলাম, যেটা ইজাব। আবার সে-ও ওখানে বলছে না যে, আমি বিক্রি করছি, যেটা কবুল। সে স্ক্রিনে দিয়ে রাখছে আর আপনি ক্লিক করে দিলেন, বেচাকেনা হয়ে গেলো।

তো এমন পরিবর্তিত যুগে যদি আমি ১ হাজার বছর আগের একটা কিতাব এনে পড়াই, তাহলে যে ছেলেটা পড়ছে, সে কিছুই বুঝবে না এবং পড়ার পরে সমাজে যাবে যখন, তখন কোনো সমাধান সে দিতে পারবে না। কিংবা উল্টা সমাধান দেবে মূর্খতাবশত।”

বুঝতেই পারছেন, এই এই বক্তব্য আমার না— ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক সাহেবের.... আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের মাদরাসায় তাহলে কী শেখানো হয়...?
(তার পরিচয় যারা চান, তারা তার বক্তব্যসহ পরিচয় জানতে নীচের তথ্যসূত্র ওপেন করুন।)

তথ্যসূত্র : প্রিয়.কম
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×