
২০ টাকার ভাড়া ১০ টাকা দিয়ে বাকি ১০ টাকায় কি আপনি এমবি কার্ড কেনেন—যা দিয়ে ধরেন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ জাতীয় বস্তু কাজে লাগানো যায় ? নাকি বেনসন বিড়ি আর চা খান ?
যেখানে শিক্ষাসামগ্রীর দামেও হাফছাড় নেই, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলেও ডাক্তার মশাই ছাত্র বলে ৬০০ টাকার ভিজিটে দু’টাকা কম নেন না, এমনকি আপনি যে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে বিকেলে আরামবাগের মাঠে খেলতে যান, তাতেও কি অর্ধেক দাম দেওয়া যায় ? তাহলে কেনো শুধু ফুটানকি করার জন্য বাসে হাফপাস ?
প্রতিদিন এইটা নিয়া ক্যাচাল ।
কিলোমিটার প্রতি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ-তিনগুণ নিচ্ছে প্রতিটা বাস-সিএনজি । সঠিক ভাড়া বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে পারতেন যদি, কিছু হলে হতেও পারতো । সিটিং নিয়া কী চিটিংটা চলছে, দেখছেন নিশ্চয় । যদি সঠিক ভাড়া থাকতো, তাহলে আপনাদের হাফপাসের সমান ভাড়াই হতো । স্টুডেন্ট কার্ড বাসায় রেখে এসে বাসের মধ্যে বসে ফাল মারতে হতো না ।

দেখুন— বিশ্বে ১৫ কোটিরও বেশি শিশু শ্রমিক । ৪ কোটি আধুনিক দাসত্বের শিকার । বাংলাদেশে শিশুশ্রমিক আছে অন্তত ৭৫ লাখ, যাদের বয়স ১৪ বছরের নীচে । এদের একটি অংশ বাসের বা লেগুনার হেলপার । রিক্সাও চালায় বড় একটি অংশ । ইজিবাইকও চালায় এখন অনেকে ।
আজ অল্পবয়সী একটা ছেলের রিক্সায় উঠে জিজ্ঞেস করলাম— স্কুলে যাও না কেনো ? বাবা-মা নেই ? বললো— আছে, বাবাও রিক্সা চালায় । একার আয়ে সংসারে কুলায় না ।
আপনি কি সংসারে কুলায় না বলে হাফভাড়া দেন ? নাকি সরকারি সুযোগের সদ্ব্যবহারের বড় ইচ্ছা আপনার ?
বাসের-লেগুনার হেলপার ছেলেটারও কিন্তু একই দশা । সংসারে কুলায় না । সস্তায় শ্রম বিকাতে বাধ্য হয় । সকাল ৬ টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত ঝুলে ঝুলে রোজগার করে ২২০ টাকা । হেলপার ছেলেদের সাথে যাত্রীদের আচরণের কথা তো আপনি জানেনই । আবার অল্পবয়সী ছেলেদের রিক্সায়-ইজিবাইকে অনেকেই চড়তে চান না ।

আপনি যদি হাফপাসের পরে বেঁচে যাওয়া টাকাটা সঞ্চয় করেন, তাহলে প্রতিদিন ১০ টাকা করে ধরলেও একবছরের ৩০০ দিনে অন্তত তিন হাজার এবং ভার্সিটি লাইফের ৬ বছরে ১৮ হাজার টাকা ।
বলছি, টাকাটা দিয়ে আপনি তো বিড়িই খান, তাই না ? নইলে এমবি কার্ড কিনে.... নইলে.... আমি বলছি না যে, এই টাকাটা আপনি শিশু শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করবেন । এবং এটা বলছি না যে, যেদিন আপনি বাসে ওঠেন না, ফলত: হাফভাড়া দেন না, সেদিন আপনার এমবি কার্ড বা বিড়ি খাওয়া বন্ধ থাকে । বা আপনি দিনে মাত্র একটাই বেনসন খান, একবারই মাত্র চা এবং একবারই...
না, না, ভয় পাবেন না, কোনো ফান্ড খুলে চাঁদা দেওয়ার আবদার করছি না । এটা কোনো দাতব্য সংস্থার খোলার ভূমিকাও না ।
এমনি বলছি । প্রতিদিন ক্যাচাল দেখি তো, তাই জানতে চাইছি আর কি যে, আসলে বাকি টাকাটা আপনি কী করেন ?..

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


