somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসন্ন অন্ধকার যুগের প্রতীক্ষায় : প্রসঙ্গ ‘কৌটা’ পদ্ধতি

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাবার অপরাধে যদি সন্তান দায়ী না হয়—তাহলে বাবার কৃতিত্বের কারণে সন্তান পুরস্কৃত হবে কেনো? বোকার মতো ‘উত্তরাধিকারী’ প্রশ্ন সামনে আনবেন না । আপনার বাবা একবছর দৌড়ে জিতেছে বলে, পরের বছর থেকে প্রতিবছর আপনাকে প্রথম স্থান দেওয়া হবে—এটা কি কোনো সভ্য সিস্টেম হতে পারে?

সেবার কৃষিব্যাংকে নির্দিষ্ট কোটায় লোকবল নিয়োগ হবে ১২০০ জন । রিটেন পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেলো টিকেছেই ৮০০ । সুতরাং ভাইভা দিতে গিয়ে তাদের একজনেরও যে বুক কাঁপার ভয় নেই—চাকরি নিশ্চিত—তা না বললেও চলে ।

তখন কমলাপুর মেসে থাকতাম । এই কোটার সুবিধাভোগী সদ্য ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করা ছোটকাকার সহপাঠী এলেন নিয়োগ-পরবর্তী ডেটা-ফর্ম পূরণ করতে । ব্যস্ততার কারণে কাকা আমার কাছে রেফার করলেন । বিস্মিত হলাম দেখে যে, লোকটা ‘মাদার’ বানানটাও ঠিকভাবে জানে না ।

ওদিকে কাকা আমার জগন্নাথ থেকে ফার্স্টক্লাস পেয়ে গ্রাজুয়েশন কম্প্লিট করে একটা চাকরির জন্যে হন্যে হয়ে ছুটছেন । এমনকি শতাধিককার রিটেনে টেকার পরও একটা সরকারি চাকরি বাগাতে পারেন নি । এদিকে তার বয়সসীমাও শেষ । ঘুষ দাবির কথা না-হয় তোলাই থাকল ।

সুতরাং এই ধরনের কোটাপদ্ধতি যে শুধু অমানবিক, তা-ই না; বরং দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর জন্যেও ভয়ংকর বিপজ্জনক । এই ব্যবস্থা চলতে থাকলে দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরির কোনো পথই কি বাকি থাকবে?

শহিদ পরিবার, যুদ্ধাহত পরিবার এবং যুদ্ধক্লান্ত পরিবারের দেখাশোনা করা সামাজিক-মানবিক-রাষ্ট্রীয়-জাতীয় দায়িত্বই বটে—সন্দেহ নেই । দেশের সকল মানুষই কি জাতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসম নয়? কোনো মুক্তিযোদ্ধাও কি তারই দুটি সন্তানের মধ্যে যোগ্যজনকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে বলে অযোগ্য সন্তানকে চাকরি জোটানোর সুপারিশ করতে পারেন?

রাষ্ট্র যেহেতু তাদের প্রতি সংবেদনশীল, সুতরাং তাদের পরিবারের জন্য এককালীন মোটাঅংকের অর্থ দিতে পারে । তাতে করে যদি তাদের অশিক্ষিত সন্তানও থাকে, সে-ও ব্যবসাপাতি করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে । অন্যদিকে কোটা ছেড়ে কেবল যোগ্য লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয়ভাবে যে উন্নয়ন হবে, তার ভাগও তারা পাবে নিশ্চিত । তাদের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাও সার্থক হবে । কিন্তু যদি এর উল্টা হয়, তাহলে ফলও উল্টা হবে । সুযোগই একসময় তাদের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধবে ।

অবাক লাগে, এই দেশে যেখানে বিরাট একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মেজরিটি পার্সেন্ট সদস্য মাত্র এইট পাশের সার্টিফিকেট দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা বেতন গিলছে (উপরি আয়ের কথা বাদই দিলাম), সেখানে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই প্রতি ১০ জনের ১ জন বেকারত্বে অভিশাপে জ্বলবে—এটা ভাবা যায়?

এই আধুনিক যুগেও মানুষ চাকরির বয়সসীমা আর কোটার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে—সেটাই যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্নফাঁস নিয়ে এতো হৈচৈ কেনো? ছেড়ে দেনে না ! যোগ্যতার তো মূল্যায়ন নেই—দেশটাকেও কোটার মতো কেটেকুটে ভাগ করে যার যেটুকু বীরত্ব সেটুকু তাকে দিয়ে দেন—যার যেমন ইচ্ছা লুটেপুটে খাক, বিবাদ মিটে যাক । বাধা দিচ্ছেন কোন মায়াকান্নায়?

পিতার কৃতিত্ব, আঞ্চলিক পরিচয়, মহাজনের সুপারিশ, উপজাতীয়তা, নারীত্ব কিংবা প্রতিবন্ধিত্ব—এসব যেমনি কোনো যোগ্যতার মাপকাঠি নয়, তেমনি এসবের কারণে কেউ অযোগ্যও বিবেচিত হতে পারে না । ব্যক্তির কর্ম, শিক্ষা, গুণাবলি ও দক্ষতাই হয় কর্মী হবার মাপকাঠি ।

থাক, বাদ দেন—আসুন, সকলে মিলে আসন্ন একটি অন্ধকার যুগের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণি...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:০৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×