
“মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার প্রধান একজন নারীও হতে পারে। এমনকি অন্য যে-কোনো ধর্মের নারী হলেও কোনো সমস্যা নেই”— এটা কি তার ‘বিশ্বাস’ ছিল না স্রেফ ‘ধারণা’, আমার জানা নেই ।
তবে তার যুক্তি ছিল—পুরুষ ও নারী উভয়ই আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে সমান এবং ট্রাডিশনাল মুসলিম সমাজে নারীদের পুরুষতান্ত্রিক যে নিগ্রহের কথা শোনা যায়, তাকে কিছুতেই ইসলামি নীতি সমর্থন করে না ।
লিঙ্গ সমতার বহু দৃষ্টান্ত তিনি ‘আল মারআতু ফিত তা’লীম’ (১৯৭৩) গ্রন্থে দেখিয়েছেন—“এমনকি ইসলামের প্রথমযুগের বিশ্বাসী সমাজে নারীদের অবদানকে তুলনা করলে আধুনিক সময়ে নারীদের অবদানকে খাটো করা যায় না ।”
তবে তার ‘ইসলামি আন্দোলনে পাওয়ার শেয়ারিং থিউরি’ নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে । যদিও এখানে নারী মুখ্য নয়, কিন্তু নারী যখন রাজনৈতিক নেতা হবে, তখন তার সাথে পাওয়ার শেয়ারিংকে অনেক সাধারণ মুসলমানও সমর্থন করতে চান না । মজার ব্যাপার হলো, আমাদের দেশে কিন্তু সেই ‘অসমর্থিত’ বিষয়টিই বাস্তব হয়ে আছে দুই যুগ ধরে ।
সন্দেহ নেই— তার এইসব বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণার আদ্যস্থল হলো ‘তাজদীদ’ বা চিন্তার আধুনিকায়ন । যেমন ‘তাজদীদুল ফিকরিল ইসলামী’ গ্রন্থে তিনি লেখেন— “মানব সমাজে ইতিহাসের পরিবর্তন অতিক্রম করা যায় না । তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষকে কালিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তাদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা কর চলতে হবে, এবং এভাবেই সে সত্যিকারের ‘মুমিন’ হতে পারবে ।”
তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল— কুরআনের টেক্সটকে নাজিলের সময়ের সাথে আটকে রাখা যায় না, তাহলে কালের অসঙ্গতির কারণে কুরআন থেকে ‘ভুল মেসেজ’ নেবে এবং কুরআনকে ‘কালোত্তীর্ণ’ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে না ।
অবশ্য তিনি ‘তাজদীদ’-এর সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ১৯৮০ সালে একটি কনফারেন্সে— ইসলামের মূলরীতিকে অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করা । কারণ, কেবল এই পদ্ধতিতেই ইসলামের মূলসূত্র চিরকাল ‘জীবন্ত ও কার্যকর’ ব্যাখ্যা করা সম্ভব ।
১৯৩২ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি তার জন্ম হয় পূর্বসুদানের কাস্সালায় । তারপর পৃথিবীতে থেকেছেন দীর্ঘ ৮৪ বছর আর দিয়েছেন ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন এবং অগুণতি মৌলিক রচনা, মুগ্ধকর ভাষণ আর ভঙ্গুর সুদানের জন্য পপুলার কংগ্রেসের মতো একটি কল্যাণকামী দল ।
২০১৬ সালের এই দিনে (৫ মার্চ) পাখিডাকা সকালে তিনি রয়েল হাসপাতালের কাফনমুড়ি দেন এবং মারা যান ।
তিনি আমাদের একালের সুলতান ।
তিনি হাসসান আব্দুল্লাহ তুরাবি—অ্যা গ্রেট পলিটিক্যাল মুসলিম লিডার ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৮ দুপুর ২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




