somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মেশকাত মাহমুদ
স্বপ্নহারা স্বপ্নবাজ আমি

অণুগল্প- তানিয়া এবং আমার শৈশব

১৯ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তানিয়া আমার শৈশব জীবনের প্রথম বান্ধবী। তানিয়ার আব্বা ছিল আমার দুলাভাইয়ের দুলাভাই। এজন্য আমরা তাকে মজা করে ডাবল দুলাভাই বলে ডাকতাম। ডাবল দুলাভাই খুব মজার মানুষ ছিলেন। আপাও খুব ভাল ছিলেন। এখন আসা যাক তানিয়ার প্রসঙ্গে। তানিয়া ছিল দুই ভাই এর একমাত্র ছোট বোন। আপা দুলাভাই দুইজনই খুব আদর করত। গ্রামের ভাষায় যাকে বলে আদরে আদরে আদ নাও পানি। যার অর্থ হচ্ছে আদর করতে করতে যে কখন অতিরিক্ত দুষ্ট হয়ে গেছে তা ভাবতেও পারেনি।
আমার স্বর্ণালী শৈশবে তানিয়াদের আমাদের বাড়িতে খুব যাওয়া আসা ছিল। সেই হিসেবে তানিয়ার সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব হয়ে যায়। কিছুদিন তানিয়ারা না আসলে আমার মনের মধ্যে কাল মেঘের আনাগুনা দেখা দিত। তানিয়ারও তাই। তাই তানিয়া জোর করে ওর মা-বাবাকে নিয়ে শুধু আমার জন্য আমাদের বাড়িতে চলে আসত। তানিয়া আসলেই আমার মন আনন্দে উদ্বেলিত হত।
মাঝে মাঝে তানিয়াকে ছাড়া ওর বাবা-মা চলে আসত। তখন আমার মনে কষ্টরা বাসা বাঁধত। তানিয়া আর আমি একই ক্লাসে পড়তাম। দুজন নানা রকম খেলা খেলতাম। ও কিছু নতুন ধরণের খেলা নিয়ে আসত। ওগুলো খেলতাম। ও খুব সুন্দর সুন্দর খেলনা নিয়ে আসত একসাথে খেলার জন্য। দুজন একসাথে গাছে উঠতাম। গাছের ডালে বসে থাকতাম। দুলনা বানিয়ে দুলতাম।
মাঝে মাঝে তানিয়ার সাথে সারাক্ষণ খেলাধুলা করার জন্য আম্মার বকা খেতে হত। একবার ঝড়ে কাঠাল গাছ ভেঙ্গে যাওয়ায় গাছের ডালে বসে সারাদিন দুলনি খেলাম আর গল্প করলাম। একসাথে অনেক লাফালাফি ঝাপাঝাপি করতাম। খড়ের মধ্যে একসাথে ঝাপিয়ে পড়তাম। আরও অনেক স্মৃতি ছিল তানিয়াকে নিয়ে যার বেশিরভাগই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে।
এর পর শুরু হল গল্পের নতুন এপিসোড। তানিয়ারা আস্তে আস্তে আমাদের বাড়িতে আসা কমিয়ে দিল। ক্লাশ সিক্সে উঠার পর হঠাত করে তানিয়া শারীরিক গড়নের দিক থেকে বড় হয়ে যায়। ওর মানসিকতাতেও পরিবর্তন ঘটে। পিউবার্টিতে যেসব পরিবর্তন সাধারণত ঘটে থাকে ওর মধ্যে তাই ঘটল। যেহেতু ছেলেদের পিউবার্টি একটু দেরিতে আসে তাই আমি প্রাকৃতিক নিয়মেই ছোট রয়ে গেলাম। তখন থেকেই শুরু হল মুল দূরত্ব। এর পর থেকে তানিয়া আর আমাদের বাড়িতে আর খুব একটা আসতনা। আমিও তানিয়ার সাথে কথা বলতে সঙ্কোচ বোধ করতাম। আমি চরম হীনমন্যতায় ভুগতাম। তানিয়ার সাথে বন্ধুত্বের এই ছিল সমাপ্তি।
তারপর অনেক বছর কেটে যায়। আমিও সাইজে অনেক বড় হয়ে যায়। কিন্তু একেবারে শুকনা থেকে যায়। ইন্টারমিডিয়েটে একবার আপার সাথে দেখা করার জন্য তানিয়াদের বাসায় যায়। কিন্তু তানিয়ার সাথে কথা বলতে পারলাম না আমার হীনমন্যতা আর অন্তর্ম্মূখীতার কারণে। জানিনা তানিয়া শৈশবের সেই স্মৃতিময় দিনগুলো তানিয়া ভূলে গেছে না মনে রেখেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো আমার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। ইন্টারের শেষ দিকে তানিয়া প্রেম করে বিয়ে করে। আমাদের সাথে আর কখনো দেখা হয়নি। আমি এখনো তানিয়ার খোঁজ খবর কিছুটা রাখার চেষ্টা করি। কোনদিন যদি দেখা হয় তাহলে সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতিচারণ করব। আমি জানি সবাই জানে সেই শৈশবে আর ফেরা যায়না।

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×