আমি তামিমের খেলার একজন ভক্ত কিন্তু ধারাবাহিকভাবে তার এইসব অশোভন আচরনে এখন খুব বিরক্ত লাগছে। তামিম যে একটা বেয়াদব এবং উগ্র খেলোয়াড় তা আবারও প্রমান করল। বিসিবিও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার ব্যাপারে সক্রিয় না।
আজকে যা ঘটেছিল....
প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলছিল ওল্ড ডিওএইচএস এবং ভিক্টোরিয়ার মধ্যে।ওল্ড ডিওএইচএসের (প্রাইম ব্যাংক) ইনিংসের দশম ওভারের পঞ্চম বলে। ক্রিজে এসে সাকিবের বলে প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হলেন ডিওএইচএসের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স। আম্পায়ার আনিসুর রহমান আঙুল তোলার পরও খানিক ক্রিজে দাঁড়িয়ে অসন্তোষ প্রকাশ ডিকেন্সের, ‘আমি তো ডান পা অনেক সামনে বাড়িয়ে খেলেছি।’
কিন্তু অনড় আম্পায়ার। ফয়সাল হোসেনের পক্ষে নন স্ট্রাইক ব্যাটসম্যান আশরাফুলও কোনো কথা বলেননি। কিন্তু প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা মনে জ্বালা ধরাল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের শীর্ষ কর্তা বাদলের। ডাগআউট ও ড্রেসিংরুমের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ডিকেন্সকে মাঠ ছাড়ার কথা বলে বসলেন বাদল। মুহূর্তে আম্পায়ার আনিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আশরাফুল। ড্রেসিংরুমের ঠিক বাইরে দাঁড়ানো বাদলকে লক্ষ্য করে মন্তব্যও ছুড়ে দিলেন। বাদল জবাবে কিছুই বলেননি। বোলার ও ভিক্টোরিয়া অধিনায়ক সাকিবও ভাবলেশহীন। চুপচাপ বল হাতে দাঁড়িয়ে পরের ডেলিভারি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু শর্ট মিড উইকেটে দাঁড়ানো তামিমের সহ্য হল না। আশরাফুলের দিকে তেড়েফুঁড়ে ছোটা। খানিক কথা কাটাকাটি। বাদানুবাদ। এক পর্যায়ে গায়ে হাত তোলার উপক্রম! বোলিং প্রান্তের আম্পায়ার আনিস আর লেগ আম্পায়ার শরফুদৌলা ইবনে শহীদ সৈকত আক্রমণাত্মক তামিম আর আশরাফুলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলেন। তামিমকে নিবৃত্ত করার চেষ্টায় সৈকত। তামিম তখন মহা উত্তেজিত। সেই সঙ্গে তুমুল হুমকি-ধামকি চলছে! যে পরিস্থিতি ছিল তাতে দুই আম্পায়ার মাঝে এসে না দাঁড়ালে অনিবার্য শারীরিক সংঘর্ষ বাধত! আম্পায়ার আনিস ওয়াকিটকিতে কথা বললেন ম্যাচ রেফারি মাসুদের সঙ্গে। কোচ খালেদ মাহমুদসহ ওল্ড ডিওএইচএস কর্তাদের এক অংশ তখন উত্তেজক ভাষায় নিজ ড্রেসিংরুম ছেড়ে ভিক্টোরিয়া ড্রেসিংরুমের পথে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাচ রেফারি জিয়াউল ইসলাম মাসুদ মাঠে নেমে আসেন। তার মধ্যস্থতায় খালেদ মাহমুদ অ্যান্ড কোং নিবৃত্ত।
মিনিট তিনেকের এ ঘটনায় উত্তপ্ত শেরেবাংলা। কলঙ্কিত ক্রিকেট মাঠ। লজ্জা ক্রিকেটার ও সংগঠকদের।
এখানে একটা কথা, আশরাফুল বাংলাদেশ দলকে যা দিয়েছে তার ধারেকাছেও নাই তামিম। আশরাফুলের মত সিনিয়র খেলোয়াড়ের সাথে বেয়াদবি করার জন্য তামিমকে আরো কিছু ম্যাচ বহিষ্কার করা উচিত ছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


