২০১৪ সালে একজন হতাশ,উপেক্ষিত যুবক আমি যখন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম তখন পরিবারের আমার প্রতি আর কোন চাওয়া ছিল না।
ভর্তি হবার পর আরো কমে গেল,আমি মন খারাপ করে থাকতাম!সবার ধারণা হল,এই ছেলেকে দিয়ে কিছু হবে না;এই শেষ।
সবাইকে খুশি করার জন্য ক্লাসে যাওয়া শুরু করলাম।বিশ্ববিদ্যালয়কে কেজি স্কুল মনে হয়েছিল।
মনে আছে তৃতীয় দিন ক্লাসে হালকা_পাতলা একজন স্যার এলেন।খুব কথা বললেন ক্লাসে,রাস্তায় কি হয়েছে,কেন প্রথম ক্লাস নিতে পারেননি,এত্তগুলা confused করা প্রশ্ন করলেন!আরে ক্লাসে এত্তকথা বলে কেন?খুব বিরক্ত হলাম!
এই স্যারটাই পরে ভার্সিটি পড়ার মজা নিতে শেখালেন। প্রথম এক্সামের পর রুমে ডাকলেন!খুব ভয় পেলাম।পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল,,আমি গ্রামের ছেলে,যাকে খ্যাত বলে।
বললেন,"মেহরাব তুমি খুব ভালো লিখেছ।আমি প্রথম সেমিস্টারের কোন ছাত্রের কাছে এত ভালো লিখা আশা করি নি।""ক্লাসে এত মন খারাপ করে বসে থাক কেন?"
আমি বললাম,"স্যার,আমার কোথাও চান্স হয়নি,বন্ধুদের সবাই এমনকি শেষের দিকের বন্ধুরাও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।"
"তাতে কি হয়েছে,!তুমি এখান থেকেও তাদের চেয়ে ভালো করবে,আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি!তুমি খালি সেরাটা দিয়ে যাও,আর পরিশ্রম কর।কোথায় পড়ছ তাতে কি আসে যায়?!"
স্যারের এই কথা যে সেদিন কতটা সাহস দিয়েছিল!HSC রেজাল্ট হবার পর কেউ এমনভাবে সাহস দেয়নি!
আমার কাকা সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন,তখন তিনিও আমাকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগেছেন।
স্যার আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন,হয়ত তাই এখনো টিকে আছি, নয়ত কবে হারিয়ে যেতাম।
এখন বাবা-কাকা গর্ব করে বলতে পারেন,"ছেলেটা এখন ভালো করছে।"
সেটা স্যারের জন্যই!
ধন্যবাদ স্যার!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




