somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় পুরুষ

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ঐ ঘরে তর দুই ফুপু নেংটা হয়ে হুইত্তা রইছে,যাইস না ঐ ঘরে!"
যে লোক এই কথাগুলো বললেন,তিনি জড়সড় হয়ে সোফায় বসে আছেন।বিবস্ত্র এবং রুগ্ন,ক্ষুদাক্রান্ত হাড়জিরজিরে দেহ!

বড় বড় চোখ তুলে আমার দিকে তাকালেন।আবার বললেন,"কাইল্লা, তর মাঝ রাতে ঘুম ভাঙে কেন?" আমাকে কেউ কাইল্লা বললে আমি সাধারণত খুব রেগে যাই, উনি বলায় এমন কোন অনুভূতি হয়নি।

"০,১,১,২,৩,৫,৮,১৩,২১,৩৪...."ফিবোনাক্কি ধারা ঠিকই বলতে পারলাম।একটু পানি খেলাম,গায়ে চিমটি কাটলাম।না,আমি স্বপ্ন দেখছি না,জেগেই আছি!হায়,ঈশ্বর আমার আবার তার সাথে দেখা হল।

আমি জেগেই আছি আর লোকটির কথা সত্য,প্রমাণ করার জন্য আমি বারান্দা থেকে মাঝখানের ঘরে গেলাম।মোবাইলের মৃদু আলোতে আমার ছোট-ফুপুর ফর্সা পিঠ আর মেঝো-ফুপুর বৃদ্ধ-স্তন স্পষ্ট দেখতে পেলাম।

খুব প্রস্রাবের বেগ নিয়ে জেগে ছিলাম,এখন সেই বেগ আর নেই।তবে অত ভয়ও লাগছে না।

এই লোকটির সাথে আমার এই প্রথমবার হল তা কিন্তু না।আগেও দেখা হয়েছিল ২০১৩ সালে। চেহারা দেখা হয়নি।

সেবার ইদ-উল-ফিতরের আগের ইদু-উল ফিতরে আমরা বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হয়েছি।হুট করে মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙল,আমার সচরাচর রাতে ঘুম ভাঙে না।দেখলাম ঠিক আমার মুখ সোজা সোফায় লোকটি বসে আছেন।বললেন,"বাইত গিয়া লাভ নাই।কাইজ্জা-ঝগড়া অইব,তর ক্ষতি অইব!যাইস না বাড়িত।"

আমি কিন্তু একটুও ভড়কাইনি।ভেবেছি স্বপ্ন দেখলাম।হরর মুভি আমার প্রিয়,সব সময় ভাবি অমন ঘটনা আমার সাথে হয় না কেন?

তবে ঠিকিই ইদে বাড়িতে অনেক ঝগড়া হল।ফুপাত ভাই আমার শখের ট্যাব ভেঙে ফেললো।আমার পিসি নেই,ওটা দিয়েই এসাইনমেন্ট করতাম।ট্যাব নেই,তাই ঠিক সময় এসাইনমেন্ট জমা দিতে না পারায় আমার CGPA কমে গেল।আমার স্কলারশিপ বাদ গেল।আমি মারাত্মক বিপদে পরলাম!আমি "তাকে" বিশ্বাস করলাম।

দ্বিতীয়বার দেখা হল গত ইদ-উল-আযহা'য়।ইদের আগের রাতে,খুব ভোরে জেগে উঠলাম। তিনি ঘরের এক কোণায় জড়ো হয়ে বসে আছেন।গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,"আইজ তুই হুন্ডার নিয়া বাইর হইস না,তর বিপদ আছে।"
মোটেই পাত্তা দিলাম না।আমি প্রায়ই স্বপ্ন দেখি আমি বাইক দিয়ে এক্সিডেন্ট করেছি,অনেক উপর থেকে নিচে পরছি।আমাকে সাপ দৌড়াচ্ছে। আরও কত ভয়ংকর স্বপ্ন।

ঠিক আগের বারের মত পাত্তা দিলাম না।ঠিকই বিকালে এক্সিডেন্ট করে হাত-পা ছিলে গেল,৭ দিন বিছানায় পরে থাকলাম।

আমার স্ত্রী,সেতারার খুব কষ্ট হলো। সে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছিল।আমার জন্য তার চাকরি চলে গেল।সেবার আমরা গ্রামে অনেকদিন থেকে গেলাম।৫ দিনের জায়গায় ২০ দিন।খুব খারাপ লেগেছিল তা নয়, কিন্তু সেতারা খুব বিরক্ত আর রাগান্বিত হয়েছিল। প্রতিটা প্রেমের বিয়েতে যা হয় তাই,আমার পরিবার সেতারাকে মেনে নিতে পারেনি। সেতারা তাদের কিভাবে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিবে?
মাঝে মাঝে মনে হয় সেতার চাইলেই সব ঠিক হয়ে যেত,সে চেষ্টাই করেনি বা করছে না।

তৃতীয়বার "তার" দেখা হবার কথা শুরুতে বলেছি।

ফুপুদের দেখে এসে আমার রুমে ঢুকতেই দেখি, "তিনি" বিছানায় বসে আছেন।ভাগ্যিস সেতারা এবার আসেনি।ভয়ে কি কান্ড করতো, আল্লাহু জানেন!

আমি কিছু না বলে ব্যাগ গোছানো শুরু করলাম।আজ চলে যাবো। তিনি আয়েশ করে বিছানায় শুয়ে পরলেন, বললেন, "কাইল্লা, তুই আইজকা যাইস না।বৌটারে কয়দিন আরাম করতে দে।"

আমি বললাম,"আমার বৌ আমি বাসায় থাকলেই সুখে থাকে।"তিনি বললেন,"যাইস না।আইজকা গেলেই সমস্যা।তর কাইল যাইবার কতা কাইল যা।"
আমি জোরালোভাবে বললাম,"আমি আজকেই যাবো।"

তিনি হুট করে উঠে আমার গালে ঠাস করে চড় কষালেন।আমার কানে পিনপিন শব্দ শুরু হল।
"কাইল্লা হারামজাদা, আমার কতা না শুনলে কি অয়, আগে দেহস নাই?হেরপরেই হুনবি না?" তিনি হনহন করে বেরিয়ে গেলেন।

আমি সেদিনই ঢাকায় ফিরে এলাম।তালা খুলে ঘরে ঢুকলাম।সেতারা ঘুমাচ্ছিল।

আমি কাপড় পাল্টিয়ে ড্রয়িংরুমে টিভি ছেড়ে বসলাম।সোফার কোণায় ম্যানফোর্স'র ছেড়া প্যাকেট। ময়লার ঝুরিতে কনডম পরে আছে,ভিতরে থকথকে তরল।

আমি সবসময়ই প্যানথার কিনি।আর সোফায়-ময়লার ঝুরিতে প্যাকেট-কনডম ফেলে রাখে অসম্ভব! সেতারা এগুলো দেখলে খুব রেগে যায়।
গত কয়েকদিন ধরে আমরা বিবাদে জড়িয়ে পরছি।আমি সন্তান চাই,সেতারা আরেকটু সময় চায়।তাই আমি বাসায় কমডম কিনে আনি না।সেতারা সেদিন কিনেছিল।সেই মনে হয় ম্যানফোর্স কনেছিল।সেদিন আমি তাকে সোফাতেই আদর করেছিলাম,কিন্তু পাঁচ দিন আগে।কি জানি? মনে নেই প্যাকেট-কনডম কোথায় ফেলেছিলাম!

আমি নিজের ভালোবাসাকে সন্দেহ করছি?নিজেকে ধিক্কার দিয়ে সেতারাকে ডেকে তুললাম।সেতারা আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়ে বললো,"আবির, তুমি এত তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছ?"
আমি চমকে গেলাম!কারণ আমার নাম আবিদ।বললাম,"সেতারা,আমি আবিদ।"সেতারা চোখ খুলে আমাকে আরেকবার চুমু দিয়ে বললো,"আমি কি অন্য কেউ বলেছি?কেমন আছো?বিশ্রাম নাও,আমি খাবার দিচ্ছি।"

কলিংবেল বাজলো। আমি দরজা খুললাম।একজন লোক দাঁড়িয়ে আছেন।আমাকে দেখে একটু চমকে গেলেন। "স্যার,আমি দারাজ থেকে এসেছি।আপনাদের বাজার;গরুর মাংস,ইলিশ।" আমি জিজ্ঞেস করলাম,"আপনার নাম?" "আবির,আমি আবির হাসান।"

আমি রান্না ঘরে এলাম।"সেতারা,ঘরে বাজার আছে?"আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল,"হ্যা, আছেতো।সবই আছে।" "তুমি অনলাইনে বাজার অর্ডার করেছিলে?" "নাতো, কেন করবো?সব বাজার আছে।"
আমি দোটানায় পরে গেলাম।কি হচ্ছে আমার সাথে?

সেদিন রাতে সেতারা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম,"সেতারা,আবির কে?" সে আহ্লাদ করে বললো,"তুমিই আমার আবির,জীবনের রঙ।"আমি আর কথা না বাড়িয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
ঘুম থেকে জেগে শুনলাম বারান্দায় সেতারা খুব হাসছে।

আমি সামনে গিয়ে দাড়াতেই খুব চমকে গেল।হাতের মোবাইলটা নিচে পরে গেল।সাত তলা থেকে নিচে পরলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম,"আবিরের সাথে কথা বলছো?" সেতারা মাথা নিচু করে ফেললো।

বারান্দা থেকে নিচে তাকাতেই দেখলাম "তিনি" দাঁড়িয়ে আছেন।বরাবরের মত মুখ দেখা যাচ্ছে না।তবে স্পষ্ট শুনতে পেলাম তিনি বলছেন,"বৌরে নিচে পাডায়ে দে।মোবাইলডা লইয়া যাক।"

আমি "তার" কোন কথা রাখিনি। এই কথা রাখলাম।সেতারাকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে বললাম,"যাও মোবাইলটা নিয়ে এসো।"

আমি "তার" কথা রেখেছি, পাছে যদি আবার বিপদ হয়।


পরিশিষ্টঃ পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছিল,"আমরা দুঃখিত,মিঃ আবিদ।আপনার স্ত্রীর অন্য একজনের সাথে সম্পর্ক ছিল।ঐ সম্পর্ক কিছুদিন ধরে ভাল চলছিল না।" আমার শ্বশুর-শাশুড়ি খুব দুঃখিত হলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরম শ্রদ্ধায় ও স্মরণে ড. সলিম আলি !

লিখেছেন নেক্সাস, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

ছোটবেলা থেকে আমি পাখি প্রেমিক। তখন অবুঝ মনের এই পাখি প্রেম ছিল অনেকটাই পাখির প্রতি অমানবিক এবং ক্ষতিকর। কারণ তখন আমরা গ্রামের দস্যি ছেলেরা মিলে পাখির বাসা খুঁজতাম, পাখির বাচ্চা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মাদ্রাসা জীবন-০৪

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬



আমার মাদ্রাসা জীবন-০৩

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলাম। ক্লাসের মধ্যে প্রথম হওয়া কেউ ঠেকাতে পারলো না। শুধু নিজের ক্লাশ নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মেধা তালিকাতেও প্রথম হওয়ার সুবাদে সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার চাদগাজী ,আপনি ভাল আছেন নিশ্চই ?

লিখেছেন নতুন বাঙ্গাল, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮



আমি চাদগাজী সাহেবকে চিনি বিগত ৭ বছরের বেশি সময় ধরে। পরিচয়টা 'আমার ব্লগে' যেখানে উনি 'ফারমার' নিকে লিখতেন। আমি উনার লিখা নিয়মিত পরতাম কারন উনার চিন্তাধারায় একটা ভিন্নতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×