দৃশ্যপট-১
রুমানা ফোনে কথা বলছে নিজের ঘরে খাটে বসে । ঘরের দরজাটা আধো খোলা । রাত প্রায় অনেক হয়েছে, ঘড়িতে ১১টা বাজে । সাধারণত এই সময় রুমানার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েন আর রুমানার শুরু হয় মোবাইলে কথা বলা । আজও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি ।
- ওলে, আমার বাবুটা, আমার সোনাটা, আমার বাচ্চাটা কি করে ?
- এই ঢং বন্ধ করো তো, আজ মনটা বেশ খারাপ ।
- উরি বাবা, আমার বাচ্চাটার মন খারাপ ? কেন বাবুটা ?
- ধুর, সফিক ভাইয়ের কাছে গিয়ে ভাবলাম গিটার শিখবো কিন্তু মরার গিটার বাজাতে না বাজাতেই তার গেলো ছিঁড়ে । কি যে মেজাজটা গরম হলো না !! বলে বুঝাতে পারবো না । ভাই এত ব্যস্ত মানুষ, একটু সময় বের করলেন, আর গিটারটাও !! ধুর, নষ্ট হওয়ার আর টাইম পেলো না, হারামীটা ।
- ধুর, বাবু, এমন ভাবে বলছো যেন গিটারটা তোমার বকুনি খেয়ে ঘরের কোণায় গিয়ে জড়সড় হয়ে আছে । হা হা হা হা ।
- এই তুমি হাসছো আর আমার মেজাজটাই আরও গরম হচ্ছে !! ধুর, রাখো তো, পরে কথা বলবো নে ।
জারিফ ফোনটা রেখে দিলো, রুমানা বুঝতে পারেনি এমনভাবে আজকে কথা শর্টকার্টে শেষ হয়ে যাবে । কিন্তু ওদিকে রুমানার মা যে এতক্ষণ দরজার আড়ালে দাড়িয়ে মেয়ের কথা শুনছিল, এই ব্যাপারটি রুমানার চোখ এড়িয়ে গেলো ।
দৃশ্যপট-২
রুমানার মা মিসেস জায়েদা বেগম বেশ চিন্তিতগ্রস্থ ভাবে বেডরুমে ঢুকলেন । রুমানার বাবা আবেদ জামান চাকুরিজীবী মানুষ । বাসায় এসেই কোনরকম খেয়ে আর পত্রিকায় চোখ বুলিয়েই দেন ঘুম । মিসেস জায়েদা বেগম অনেকক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে অবশেষে আবেদ জামানকে ঘুম থেকে জাগালেন ।
- ওগো, রুমানার বাবা, সর্বনাশ হয়ে গেছে তো ।
- (ঘুমের ঘরে আবেদ জামান এই কথা শুনে পুরোপুরি ধরতে পারলেন না) এ্যা, কে মারা গেছে ?
- ধুর, মারা গেছে কে বললো?
- তুমিই তো বললা...
- কই, আমি তো বললাম, সর্বনাশ হয়ে গেছে ।
- (এবার আবেদ জামান কিঞ্চিৎ সৎবিৎ ফিরে পেলেন) সর্বনাশ হয়েছে !! কি সর্বনাশ ?
- রুমানা মনে হয় বিয়ে করে বাচ্চাও পয়দা করে ফেলেছে ।
- (আবেদ জামান হঠাৎ চমকে উঠলেন । কি শুনলেন, নিজের কানেও বিশ্বাস হচ্ছে না তার) কি বলো !!
- হ্যাঁ, আমি ঠিকি বলছি । নিজের বাচ্চা ছাড়া কেউ এভাবে দরদ দিয়ে কথা বলে ? আমি নিজের কানে শুনেছি । ও যখন মোবাইলে বলছিল, তখন দরজার পাশে দাড়িয়ে শুনেছি ।
- ঠিক আছে, দাড়াও, এখনই ওকে কিছু বলাটা ঠিক হবে না । আগে সকাল হোক । এরপর আমিই ওকে ডেকে জিজ্ঞেস করবো নে । তুমি এখন চিন্তা করা বাদ দাও তো । একটু ঘুমাতে চেষ্ঠা করো, আর আমাকেও একটু ঘুমাতে দাও ।
মিসেস জায়েয়া বেগমের তবুও দুশ্চিন্তা শেষ হয়না ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




