
ছবির লোকটির নাম মনির হোসেন । পেশায় একজন রিকশাচালক । তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যে ব্যাপারটি সেটি হচ্ছে সে আসলে অন্ধ । এই অন্ধত্বকে জীবনের বোঝা হতে না দিয়ে সে এই অবস্থাতেই পরিবারের হাল নিজে কাঁধে তুলে নিয়েছে । এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে মোট পাঁচজনের সংসার মনির হোসেনের ।
তার যখন ২ বছর বয়স তখন থেকেই সে অন্ধ । এরপরও জীবন যুদ্ধে সে কখনই হার মানেনি । সে রিকশা চালাচ্ছে আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর ধরে । অবশ্য সে এই রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে নিজের আপন জনের সাহায্য নেয় । এখন যেমন তাকে সাহায্য করে তার সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে আফরোজা ফারিয়া । প্রাইমারী স্কুলে পড়ুয়া মেয়েটি বাবার অতি আদরের । তাই তো বাবাকে রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিদিন সাহায্য করে । মনির হোসেন অবশ্য ভাড়া করা রিকশা দিনে ৩ ঘণ্টার মত চালান । কখনই সে মাগরিবের নামাজের পর অর্থাৎ সন্ধ্যার পর রিকশা চালান না ।
ফারিয়াই রিকশা চালানোর দিক বলে দেওয়া থেকে ভাড়া নেওয়া ইত্যাদি সব করে থাকে বাবার হয়ে । ফারিয়ার আগে মনির হোসেনকে সাহায্য করতো তারই সবচেয়ে বড় ছেলে শরীফ, বর্তমানে শরীফ এখন অটোরিকশা চালায় । মনির হোসেন অবশ্য একটি রিয়ালিটি শো থেকে এক লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে । কিন্তু নিজের চোখের চিকিৎসা করা তার জন্য অনেক ব্যয়সাধ্য বলেই সে এই টাকা পরিবারের সদস্যদের কাজেই লাগিয়েছে ।
নিঃসন্দেহে মনির হোসেনের মত হার না মানা লোকগুলোর জন্যই আজও আমাদের এই বাংলাদেশ এখনও ভালোভাবেই টিকে আছে । কারণ দুর্নীতি, বিভিন্ন রকম দুর্দশা ইত্যাদি মিলিয়ে আমাদের এই বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পরার কথাই ছিল । মনির হোসেন একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হতে পারে আমাদের জন্য । কারণ বাংলাদেশেই প্রায় ৩০ শতাংশ লোক বেকার অবস্থায় আছে । এদের বেকারত্বের কারণ এদের উচ্চভিলাষীতা । অথচ কোন কাজকেই ছোট না ভেবে নিজের সামর্থ অনুযায়ী কাজ না পেলেও কোনরকমে একটি কাজ করার চেষ্ঠা থাকলেই হয়তো আজকে আমাদের এই বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যা বলে কোন সমস্যাই থাকতো না ।
খবর সূত্রঃ ১১ই নভেম্বর,২০১৫ এর Daily Star পত্রিকা ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



