somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভৌতিক কিছু রহস্য আজীবন রহস্যই থেকে যায়........... :|| :||

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বারান্দার দরজাটা যখন ক্যাচ ক্যাচ করে খোলে কিংবা বন্ধ হয়, তখন আধাভৌতিক একটা ব্যাপারের উদ্ভব হয় এই বাসাটাতে । কল্লোল তার পরিবার নিয়ে এই নতুন বাসাটা ভাড়া নিয়েছে গত মাসে । পরিবার বলতে তার বাবা-মা আর ছোট একটি বোন । কল্লোলের বাবা রিটায়ার্ড সরকারী কর্মকর্তা আর মা গৃহিণী । ছোট বোনটা পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ে । কল্লোল একটি বেসরকারী ব্যাংকে ঢুকেছে আজ প্রায় তিন বছর । ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইকোনমিক্সে পাশ করার পর চাকরীটা পেতে তাকে খুব বেশি বেগ পোহাতে হয়নি ।

নতুন বাসাটাতে উঠার সময়ই তারা শুনেছিল এই বাসাটা নাকি বেশ কয়েক মাস ভাড়াই হয়নি । কি জানি, অনেক কথাই শুনেছে । কিন্তু বোনের সুবিধা আবার তার সুবিধা মিলে কল্লোল এই বাসাটা ভাড়া না নিয়ে আর পারেনি । প্রথম দশ-পনেরো দিন সব ঠিকই ছিল কিন্তু হঠাৎ এই কয়েকটা দিনেই বেশ ঝামেলা হচ্ছে । রাতের বেলা ছাদ থেকে নিয়মিত বিরতিতে ঠুকঠাক শব্দ, হঠাৎ হঠাৎ বাতাস ছাড়াই ছাদের কাপড় শুকানোর বাঁশগুলোর একটা আরেকটার সাথে ধাক্কা লেগে শব্দ হওয়া, দরজার অস্বাভাবিক ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ ইত্যাদি অনেক রকমের সন্দেহজনক কাণ্ড ঘটছে বাড়িটিতে । এই তো দুই দিন আগেও কল্লোলের ছোট বোন আফিফা বললো, রাত জেগে পড়ার সময় ওর মনে হইছে অনেক দূর থেকে কেউ জানি ওকে ডাকছে । কল্লোলের বাবা-মা মুরব্বী মানুষ । তাদের আমলে এই জিনিসগুলো হলে হয়তো মানাও যেতো কিন্তু এখনকার আধুনিক যুগে এই কথাগুলো কেউ বিশ্বাসই করবে না । কল্লোল এই কথাগুলো জানে ।

আজ কল্লোলকে অনেক রাত জাগতে হবে । সেই রাতের পর আফিফা রাত জেগে আর পড়াশুনা করে না । বরং সে ভোরে উঠেই পড়াশুনা করে । ব্যাংকে কালকে আর্জেন্ট একটি এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে । এই এসাইনমেন্টের উপর নির্ভর করছে বড় একটি প্রজেক্টে ব্যাংকের টাকা ইনভেস্ট করার পসিবিলিটি । সে জুনিয়র হলেও শাখা ম্যানেজারের বেশ বিশ্বস্ত, তাই এই এসাইনমেন্ট করার দায়িত্বটুকু সে-ই পেয়েছে । তাই কল্লোল একেবারে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কাজ করতে বসলো দশটার পরপরই । রাত বারোটার দিকে কল্লোল একটি বিশ্রাম নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো অথচ কাজ অর্ধেকও হয়নি তার । এই বাড়িতে আসার পর সবাই রাতজাগা ছেড়ে দিয়েছে, তাই এগারোটা বাজতেই সবাই ঘুমের ঘোরে তলিয়ে পড়েছে । কল্লোলের এখন এক কাপ চা খুবই প্রয়োজন । কিন্তু সে তো চা বানাতে পারে না । তাহল উপায় ? সে যখন চা কিভাবে বানানো যায় সেটা নিয়ে ভাবছিল তখনই হঠাৎ কাপে করে চা নিয়ে হাজির হলো আফিফা ।
- এই নে, ভাইয়া, তোর চা ।
- তুই কিভাবে জানলি ?
- কি জানলাম ?
- এই যে আমার চা পান করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ।
- আমি তো বুঝিনি । আমারও চা পান করতে ইচ্ছে হচ্ছিল । একা একা পান করার চেয়ে দুইজন মিলে করাই তো ভালো হবে, সেটা ভেবেই চা নিয়ে আসলাম তোর জন্য ।
- (চায়ে এক চুমুক দিয়ে) বাহ, চা টা তো বেশ ভালো হয়েছে । তুই আবার চাও বানাতে পারিস নাকি ?
- হ্যাঁ, পারি পারি, আরও কত কি পারি, তুই জানিস না শুধু ।
- তা তুই এত রাত জেগে ? পড়াশুনা আছে নাকি ?
- না ।
- তাহলে ?
- আমার খুব ভয় করছে ।
- ভয় করছে মানে ?
- আমার রুমে হঠাৎ করে বজ্রপাতের শব্দ পেলাম । সারা ঘর যখন আলোকিত হয়ে গেলো, তখন রুমের কোনায় কে যেন বসে কাঁদছিল, তাই দেখলাম ।
- কি বলিস উল্টাপাল্টা ? কে আসবে আবার বাড়িতে ? তুই নির্ঘাত ভুল দেখেছিস । যা ঘুমাতে যা । নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন দেখেছিস ।
- না, ভাইয়া, আমি নিশ্চিত ঐটা দুঃস্বপ্ন না । তুমি একবার গিয়ে ঘুরে এসো গিয়ে, আমি এখানেই আছি ।
- আচ্ছা, দাড়া, তাহলে আমি দেখেই আসি ।

কল্লোলের বুক টিপ টিপ করে কাঁপছে । তবুও সে কোনরকমে সাহস করে আফিফার রুমে গিয়ে ঢুকলো । রুমের বাতি জ্বালানো মাত্রই জোরে চিৎকার দিয়ে কল্লোল বেহুশ হয়ে গেলো । তার চিৎকার শুনে আফিফা ও তাদের বাবা-মা সবাই কল্লোলের কাছে দৌড়ে আসলো । অনেক বার মুখে পানি ছিটানোর পর কল্লোলের জ্ঞান ফিরলো ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ বাসাটা ওরা ছেড়ে দিয়েছে । কারণ কল্লোল রুমের বাতি জ্বালানো মাত্রই দেখেছিল আফিফা শুয়ে আছে । অথচ ও একেবারেই নিশ্চিত আফিফাকে চা পান করা অবস্থায় রেখেই ও এই রুমে ঢুকেছিল । এমনকি কল্লোল নিজের চায়ের কাপের অর্ধেক চা সহ-ই পেয়েছে । সে সবাইকে এই কথা বললে তখনই সিদ্ধান্ত হয় ঐ বাসাটা ছাড়ার । তবে সেদিন আসলে কি হয়েছিল, এই ব্যাপারটা হয়তো আজীবন রহস্যই থেকে যাবে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৪৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু কিছু স্মৃতি ভুলার মত না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৯

আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি ২০১১ সালে। ঐ পরীক্ষার এক মাসের কথা এখনো মনে পড়ে। ১ম পরীক্ষার সময় খাতা পাওয়া, রোল নাম্বার লেখা, প্রশ্ন হাতে পাওয়া এগুলো এখনো মনে পড়ে। মাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×