somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ২০২

২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড় লাখ মানুষ মারা যায়। এই মৃত মানুষেরা আমাদের আশেপাশেই থাকেন। খালি চোখে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু কেউ তীব্র ভাবে চাইলে তাদের দেখা সম্ভব। কেউ যদি তীব্র ভাবে ভূত দেখতে চায়, তাহলে সে ভূতও দেখতে পাবে। এক কিশোরী মেয়ে দিনের পর দিন চিন্তা করে তার ঘরে খাটের নিচে একটা ভূত আছে। একদিন সে ঠিকই তার ঘরে খাটের নিচে ভূত দেখতে পায়। অথচ ভূত বলতে দুনিয়াতে কিছু নাই। আব্বা মরে গেছে অনেকদিন হয়ে গেছে। অথচ ইদানিং আব্বাকে খুব বেশি মনে পড়ছে। সেদিন শরীরটা খারাপ লাগছিলো। হয়তো প্রেসার লো হয়ে গিয়েছিলো। কেমন তন্দ্রা ভাব এসেছিলো। বিছানায় শুয়ে থাকলাম। কিন্তু ঘুম আসে না। ঘুম এবং জাগরণের মাঝামাঝি অবস্থা। সন্ধ্যায় বিছানা থেকে নেমে সুরভিকে বললাম, চা দাও। সুরভি বলল- দুপুরে না খেয়ে ঘুমাচ্ছো। এখন ভর সন্ধ্যা বেলা চা খাবে! সুরভি চা দিলো। পাশের ঘরে ফারাজাকে পড়াচ্ছে সুরভি। আমি চায়ের মগ হাতে নিয়ে বসে আছি। চায়ে চুমুক দিতে ইচ্ছা করছে না। হঠাত মনে হলো- এই ঘরে আব্বা আছে। আমার পাশেই চুপ করে বসে আছে।

রাতে ঘুম আসার আগে সময়টুকু আমি আব্বার কথা ভাবি।
ছোটবেলার একটা ঘটনা। তখন আমি ছোট। স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। আমি সব বিষয়ে ফেল করেছি। স্কুলে আমাকে নিয়ে হায় হায় পড়ে গেছে। এবং সে বছর স্কুলে সব ছাত্রছাত্রীর মধ্যে শুধু আমি একাই ফেল করেছি। প্রিন্সিপাল স্যার আমাকে ডেকে তার রুমে নিয়ে গেছেন। উনি রাগে ফুঁসছেন। তার চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে! আসলে আমি এমন ভাবে ফেল করেছি, স্কুলের ইতিহাসে এরকম ফেল আর কোনো ছাত্রছাত্রী করেনি। প্রিন্সিপালের রুমে অন্যান্য স্যার ম্যাডামও ছুটে এসেছেন। একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। আমার ক্লাশ শিক্ষক বললেন, আমি নাকি পুরো স্কুলের বদনাম করে ফেলেছি। মান সম্মান সব শেষ করে দিয়েছি। যাইহোক আব্বাকে ফোন করা হলো। আমাদের সময় রাগী পিতা'রা ছেলে ফেল করলে- মারতো। দরজা বন্ধ করে মারতো। কঠিন মাইর। ফেল করলে কেউ বাড়ি ফিরতে চাইতো না। বাড়িতে গেলেই বাপ মারবে। কেউ বাঁচাতে পারবে না।

কিছুক্ষনের মধ্যে স্কুলে আব্বা চলে এলো।
এসেই আমাকে কোলে নিলো। শিক্ষকরা কিছু বলার আগেই আব্বা বলল, আমার ছেলেকে আমি এই স্কুলে রাখবো না। নো নেভার। একটা বাচ্চা ছেলের সাথে আপনার এরকম আচরণ করছেন!! ফেল করেছে তো কি হয়েছে! মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? আব্বা আমাকে কোলে করে বাসায় নিয়ে এলেন। বাসায় আনার আগে এক রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলেন। তেহারি আর কোক খাওয়ালেন। রিকশা করে বাসায় ফিরলাম। আব্বা শুধু বলল, ফেল কেন করবি? পাশ করা কোনো কঠিন কিছু না। একটু চেষ্টা করলেই সম্ভব। সামান্য পড়াশোনা করলেও পাশ করা সম্ভব। এরপর আমি বাকি জীবনে আর কোনো দিন ফেল করিনি। অতি সামান্য পড়াশোনা করেও পাশ করে গেছি। পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখি মজা আছে। যত পড়ি তত মজা লাগে। পাটি গনিত, বীজ গনিত, ত্রিকোনোমিতি, পরিমিতি এমনকি জ্যামিতি- কিছুই কঠিন মনে হয় না। বরং আনন্দ পাই। ইংরেজিতে আনন্দ পাই। আসলে নতুন কিছু জানার মধ্যে অনেক আনন্দ আছে। এ জার্নি বাই ট্রেন মূখস্ত করে ফেললাম। এ জার্নি বাই ট্রেন মূখস্ত করার কারণে, এ জার্নি বাই বোট আর পড়ার প্রয়োজন হলো না।

হুট করে যখন মনে পড়ে আব্বা বেঁচে নেই-
তখন আমি খুব অসহায় হয়ে পড়ি। দম বন্ধ হয়ে আসে। নিজেকে নিজে শান্ত করি। আমি ফিরে যাই অতীতে। যখন আব্বা বেঁচে ছিলো। সময়টা ঝলমলে ছিলো। মনে পড়ে একদিন আব্বা আমকে নিয়ে বাইরে বের হলো। রিকশা করে যাচ্ছি নিউ মার্কেট। আব্বা আমাকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিবে। কারণ কলেজে উঠেছি। আব্বা রিকশা থেকে নেমে বলল, চল আগে চা খাই। চা খেতে খেতে আব্বা বলল, ছেলেমেয়ে একসাথে পড়বি। নতুন বন্ধু তৈরি হবে। তবে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করিস না। কেউ যেন, বিশেষ করে মেয়েরা যেন তোর ব্যবহারে কষ্ট না পায়। মেয়েদের সাথে সহজ সরল সুন্দর আচরন করবি। জামা কাপড় কেনা শেষে আমি বললাম, আব্বা তুমি বাসায় যাও। আমার ফিরতে দেরি হবে। আমি এক বন্ধুর বাসায় যাবো। আব্বা বলল, চল তোর বন্ধুর বাসায় আমি তোকে এগিয়ে দিয়ে আসি। আব্বার সাথে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। আমাকে সে হাত ধরে রাস্তা পার করে দেয়। সেলুনে নিয়ে নিজের পছন্দ মতো চুল কাটায়। রাস্তায় দেখা হলে বলে, চুল এলোমেলো কেন? জামায় ময়লা কেন? জুতোও ময়লা!

বইমেলা হলেই আব্বা বলতো-
আমি তো যেতে পারিব না। ভীষন ব্যস্ত আমি। আমার সময় নেই। তুই যা। পছন্দের বই গুলো কিনে নিয়ে আয়, আমি টাকা দিচ্ছি। আমি বইমেলায় যাই। পছন্দের বই গুলো কিনি। আমার কন্যা আছে। ফারাজা। সে আমাকে সময় দেয় না। তাকে আমি পাই-ই না। মাঝে মাঝে ফোন করি। সে মোবাইলে কথা বলবে না। একদিন আমি সামান্য রেগে গিয়ে সুরভিকে বললাম- একজন বাবা তার মেয়েকে ফোণ করবে, আর মেয়ে ফোনে কথা বলবে না! এটা কেমন মেয়ে? সুরভি বলে, মেয়ের সাথে রাগ করার কি আছে? মেয়ে অনেক ছোট। বড় হোক। সেদিনই মেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠালো- বাবা, আমি যখন ব্যস্ত থাকি, তখনই তুমি আমাকে ফোণ করো। এমন সময় ফোন করবে, যখন আমি ব্যস্ত থাকবো না। কন্যার ম্যাসেজ পেয়ে মনে মনে ভাবি, মেয়ে কখন ফ্রি থাকবে? রাতে আমি দেরিতে বাসায় ফিরি। বাসায় ফিরে দেখি মেয়ে গভীর ঘুমে। সকালে আমিও ব্যস্ত, মেয়েও ব্যস্ত। আমি কাজে যাবো, মেয়ে স্কুলে যাবে। কথা বার্তা হয় না। অনেকদিন ধরে ভাবছি আমি আর কন্যা একটা মুভি দেখব। মুভির নাম- Piku। চমৎকার গল্প। চমৎকার অভিনয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×