somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গৌধুলি লগ্নে কথাগুলো সব দীর্ঘশ্বাস হয়ে যায়... :| :|

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গৌধুলির সময়টা আলতাফ সাহেবের বেশ প্রিয় । কর্মজীবনে ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চাকরী করে এসে বাড়িতে এই সময়টা ছেলে-মেয়েগুলোর সাথে বসে গল্প করে কাটাতেন । রিটায়ার্ড করেছেন ২ বছরের মত । রিটায়ার্ড করার পর এই সময়টা বিপত্নীক মানুষটা সম্পূর্ণ নিজেকে দিয়ে দিয়েছেন । একটা ছোট ক্যাসেট প্লেয়ারে কিশোর কুমার কিংবা লতা মঙ্গেশকার কিংবা আশা ভোসলে কিংবা কুমার শানুর গান বাজিয়ে হাতে পত্রিকা নিয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়ে দোলানো চেয়ারটাতে দুলুনি খেতে খেতে দেশ ও বিশ্বের আপডেট নিয়েই তিনি স্বর্গীয় সুখ পান এই গৌধুলির সময়টাতে । অবশ্য এই স্বর্গীয় সুখের সময়টুকুর ব্যপ্তি বেশি না, আধা ঘণ্টার মত । এই আধা ঘণ্টা তাকে কেউ ডিস্টার্ব করুক, এটা যেমন তিনি চান না, তেমনি বাসার সবাই জানে বলেই তাকে কেউ ডিস্টার্বও করে না । এমনকি তার প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনরাও তাকে এই একাকী থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেনি এই দুই বছরের কোনদিনই ।
কিন্তু কোনদিন যা মোটেও হয়নি সেটা আজকেই কেন জানি হলো । কেবল কুমার শানুর “যদি ফিরে আসি” গানটা শুরু হলো, তখনই দরজায় জোরে জোরে নক । তাও একবার দুইবার না অবিরত নক হতেই লাগলো, মনে হচ্ছে যেন কেউ দরজা ভেঙে ঢুকেই যেতে চাচ্ছে ভিতরে । আলতাফ সাহেবের মনোযোগ বিঘ্ন ঘটলো । তিনি প্রথমে ক্যাসেট প্লেয়ারের গান বন্ধ করলেন, এরপর পত্রিকা ও কফির মগ দুটোই পাশে রাখা টেবিলে রাখলেন । দরজার নক এখনও হচ্ছে, ধীরে ধীরে দরজায় নকের শব্দ কেন জানি কর্কশ হয়ে যাচ্ছে । আলতাফ সাহেব চেয়ার থেকে ধীরে ধীরে উঠলেন । তবে তার দরজার কাছে যাওয়ার আগেই রান্নাঘর থেকে মিমি এসে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো । মিমি আলতাফ সাহেবের একমাত্র মেয়ে । মিমি একবার আলতাফ সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেকটা চিন্তিত হয়েই জিজ্ঞেস করলো,
- কে ?
তার প্রশ্ন করার পরপর রহস্যজনকভাবে দরজার নক করা থেমে গেলো । এরপর কয়েক সেকেন্ডের নিরবতা । মিমি তাই আবারও জিজ্ঞেস করলো,
- দরজায় নক করছে কে ?
এরপর প্রায় সাথে সাথেই উত্তর এলো,
- মিমি, দরজা খোল । আমি রুবেল ।
রুবেল, পুরো নাম সাহিনুর রহমান রুবেল, আলতাফ সাহেবের একমাত্র ছেলে আর বড় সন্তান । মিমি দরজা খুলে দিলো । রুবেল কোনরকমে ভিতরে ঢুকেই আগে দরজাটা ছিটকিনি লাগালো । তার চোখ-মুখ পুরোই আতংকগ্রস্থ হয়ে আছে । আলতাফ সাহেব অথবা মিমি কিছু বলার আগেই রুবেল তাদের দিকে তাকিয়ে বললো,
- ওরা আসছে বাবা । ওরা আসছে । আমাকে ধরতে । আমাকে বাঁচাও বাবা । ওরা নির্ঘাত আমাকে মেরে ফেলবে ।
রুবেলের মুখে এই কথা শুনে রুবেলের সারা শরীর জুড়িয়ে থাকা ভয়টুকু আলতাফ সাহেব আর মিমির নিকটও গিয়ে ভর করলো । কেন জানি, ভয়টা সবসময়ই সংক্রামক ব্যাপার ।



রুবেল আর মিমিকে নিয়েই আলতাফ সাহেবের সংসার । মিমিকে জন্ম দিতেই গিয়েই মারা যান রোশনারা বেগম ওরফে মিসেস আলতাফ । সে আজ থেকে প্রায় তেইশ বছর আগের ঘটনা । রুবেল আর মিমিকে বড় করতে গিয়ে প্রায় সারাজীবন ছোটখাট দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকরী করা আলতাফ সাহেব অনেক কিছুই ত্যাগ করেছেন, অনেক সাধ-আহ্লাদ ভুলে গিয়েছেন । জীবনে দ্বিতীয় বিয়েটা পর্যন্ত করেননি । এর প্রতিদান অবশ্য তার ছেলে-মেয়েগুলো ছোটবেলা থেকেই দিয়ে এসেছে । পড়াশুনায় দুইজনেই ভালো । রুবেল অনার্স শেষ করে এখন মাস্টার্সের ছাত্র আর মিমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ।
ব্যাপারটি একটু অদ্ভুতই বটে । রুবেল প্রায় ছয় মাসের মত বাড়িতে অনুপস্থিত । কোন খোঁজখবরই ছিল না ওর এই ছয়মাসে । ওর মোবাইল বন্ধু ছিল, এমনকি কোন বন্ধু-বান্ধবও বলতে পারেনি ও কোথায় আছে । যাই হোক, বেশ অনেকক্ষণই পার হয়েছে । এখনও রুবেলের চোখে-মুখে প্রচণ্ড আতংক । আলতাফ সাহেবের মিমির দিকে তাকিয়ে এক গ্লাস পানি আনতে বললেন । মিমি দৌড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে গেলো পানি আনতে । আলতাফ সাহেব ছেলেকে ধরে সোফায় বসালেন । রুবেলের শরীর মনে হচ্ছে কাঁপছে । মিমি পানি নিয়ে আসলো আর এনে রুবেলের হাতে দিলো । রুবেল পানি নিয়েই একবারেই পুরো গ্লাসের পানি খেয়ে শেষ করলো । এতক্ষণে একটু স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে হলো আলতাফ সাহেবের কাছে । হ্যাঁ, এখন রুবেলকে জিজ্ঞাসা করাই যায় ঘটনা সম্পর্কে ।
- কি হয়েছে, একটু খুলে বল তো বাবা ?
আলতাফ সাহেব রুবেলের চোখের দিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার ঘাড়ে হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করলেন । ছেলেটার এখন সহানুভূতি জিনিসটার খুব দরকার ।
আলতাফ সাহেবের প্রশ্ন শুনে রুবেল আলতাফ সাহেবের হাতে মাথা রেখে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়লো । প্রচণ্ড কান্না । রুবেলের এই কান্না দেখে আলতাফ সাহেবের চোখেও পানি চলে এলো । ওদিকে মিমি আর সহ্য করতে না পেরে, ঘরের এক কোণায় চলে গেলো । মানুষ সহসা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করতে যায় না, কেন জানি । রুবেল কোনরকমে একটু কান্না থামিয়ে বললো,
- বাবা, আমি মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি । আমাকে মাফ করে দাও ।
- কি হয়েছে সেটা তো বল...
- বাবা, গত ছয়মাস আমি বাড়ি থেকে পালাইনি বাবা, বিশ্বাস করো । আমি রাঙ্গামাটি ছিলাম । ঢাকা থেকে দুই বন্ধু আর এক বড় ভাই মিলে আমরা রাঙ্গামাটি গিয়েছিলাম । সব প্ল্যান সেই বড় ভাইয়েরই ছিল । অনেক টাকার একটা এসাইনমেন্ট ছিল সেটা । আমি টাকার লোভে পড়ে গিয়েছিলাম । বিশ্বাস করো বাবা, কোন খারাপ কাজ করার উদ্দেশ্য আমার কোনকালেই ছিল না । বড় ভাইয়ের নির্দেশেই আমরা কাউকে না বলেই ঢাকা ত্যাগ করি । তবে সেখানে আমরা বড় একটা মুসিবতে পড়ে যাই । কোনভাবেই বুঝতে পারিনি, সেই এসাইনমেন্টের কারণে আমরা বড় একটি চক্রের কোন্দলে পড়ে যাবো । সেখানেই আমার এক বন্ধু মার্ডার হয়ে যায় । দোষ এসে পড়ে আমাদের তিনজনের উপর । সেই থেকে পুলিশ আমাদের খুঁজছে । আমরা বাধ্য হয়েই এই ছয়মাস পলাতক ছিলাম । ভয়তে বাড়িতেও যোগাযোগ করতে পারিনি কারণ আমরা কেউই চাইনি আমাদের কারণে আমাদের বাড়ির লোকও মুসিবতে পড়ুক । কিন্তু বাবা, গত এক সপ্তাহ আগে ওরা আমার সেই বন্ধু আর বড় ভাইকে খুঁজে পায়, আমিও ছিলাম কিন্তু ওদের আসার ব্যাপারটি আমি আগেই টের পেয়ে লুকিয়ে গিয়েছিলাম । আমার সেই বন্ধু আর বড় ভাই লুকানোর সময়টুকু পর্যন্ত পায়নি । আমার চোখের সামনেই ওদেরকে গুলি করে মারা হয়েছে । ওরা পুলিশ ছিল না বাবা, বিশ্বাস করো । ফায়ারসার্ভিসের পোশাক পড়া পাঁচজন মানুষ । এরপর আমাকে না পেয়ে ওরা চলে গিয়েছিল । বিশ্বাস করো, বাবা, এখন ওরা আমাকেও মেরে ফেলবে, আমাকে বাঁচাও বাবা, আমাকে বাঁচাও ।
এক নিঃশ্বাসেই মনে হলো কথাগুলো বলে গেলো রুবেল । ওদিকে আলতাফ সাহেব পড়ে গেছেন চিন্তায় । ফায়ারসার্ভিসের লোকদের তো মানুষ মারার কথা না । অথচ এরা পুলিশের মত কাজ করছে আবার ধরা মাত্রই অপরাধী মেরে ফেলছে, এখানে নিশ্চিত বড় কোন ষড়যন্ত্র চলছে । এই ষড়যন্ত্র থেকে যে করে হোক তার একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতেই হবে ।



হঠাৎ বাড়ির টেলিফোনের ঘণ্টা বেজে উঠলো । ক্রিং ক্রিং । আলতাফ সাহেব, মিমি আর রুবেল সবাই সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে । এই অসময়ে কারোরই ফোন করার কথা না, কারণ এখনও আলতাফ সাহেবের নিজস্ব সময়ের আধা ঘণ্টা পার হয়নি । মিমিই গিয়ে টেলিফোনটা উঠালো আর কানে নিয়ে ধরলো,
- কে বলছেন ?
ফোনের অপর প্রান্তে কে কি বললো তা বুঝা গেলো না, তবে একটু পরই মিমি নিজের কান থেকে টেলিফোন সরিয়ে আলতাফ সাহেবের দিকে ধরলো । আলতাফ সাহেব মিমির হাত থেকে টেলিফোন নিয়ে নিজের কানে লাগালেন ।
- হ্যালো, আলতাফ চৌধুরী বলছি, কে বলছেন প্লিজ ?
- আসসালামু আলাইকুম স্যার । আমি কে, কি কারণে বা কেন ফোন করেছি আর নাম্বারই বা কি করে পেলাম, এইসব ফরমালিটি বাদ দিই । In case আপনি কথার মাঝপথে ফোন রেখে দেওয়ার কথা যদি ভেবে থাকেন, তাহলে আমি suggest করবো, সেই ভাবনা দূর করুন । কারণ আমি এখন যা যা বলবো আপনাকে সবই শুনতে হবে ।
- হুম, বলুন, শুনছি ।
- এতক্ষণে নিশ্চয় আপনার ছেলে রুবেল আপনার বাড়িতে ঢুকেও গেছে । শুধু এতটুকু ওকে বলবেন, এই কাজটা সে মস্ত বড় ভুল করেছে । সে শুধু নিজের জীবন না, আপনাদের দুইজনের জীবনকেও বিপদে ফেলেছে । ওকে হয়তো মেরে ফেলা আমাদের জন্য কোন ব্যাপারই না । কিন্তু আমরা ওর খালাতো ভাই জুনায়েদের ব্যাপারে শুনেছি । এও জেনেছি, সে নাকি র‍্যাবে কর্মরত আছে । তাই incase আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করেন বা করে ফেলেছেন already, আমি আবারও suggest করবো, বাদ দিন । আপনাদের কোন ক্ষতিই হবে না, যদি আমি যা যা বলি, ঠিক তাই তাই হয় ।
- আমি ওয়াদা করছি, আপনি যা বলবেন, তা-ই হবে । শুধু আমার ছেলেটাকে মাফ করুন । ওর জীবন ভিক্ষা চাইছি আমি ।
- দেখুন, লজ্জিত করবেন না । আসল ঘটনা যদি জেনে থাকেন, তাহলে হয়তো আমার intension কে আপনি এতটা খারাপ ভাববেন না ।
- আসল ঘটনা !! কি সেই আসল ঘটনা ?
- ওহ, তার মানে রুবেল আপনাদের কিছুই বলেনি ।
- না, আপনি কি দয়া করে আমাকে বলতে পারেন ।
- যদিও আমার বলা উচিৎ না, তবু আপনাকে জানিয়ে রাখি । মনে রাখবেন, আসল ঘটনা জানার পর incase যদি আপনি ঘটনা কোথাও ফাঁস করেন, তাহলে এক সন্তানের পরিবর্তে দুই সন্তানকেই হারাবেন । আপনার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি, মিমির দৈনিক রুটিনও আমাদের জানা ।
- (আতংকিত কণ্ঠে) না, আমি কাউকে জানাবো না । আপনি...আপনি বলতে পারেন বিশ্বাস করে...
- হা হা হা, এখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কিছুই নেই । আসল ঘটনা হচ্ছে, মায়ানমার থেকে আমাদের গ্রুপের কাছে দুই ট্রাক অস্ত্র পাচার হয়ে আসার কথা । দুই ট্রাক অস্ত্র পাচার হয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয় । এই কারণে আমরা প্রায় প্রতিটি স্তরে লোক সেট করেছি । প্রশাসনে, রাজনীতিতে, সরকারী কর্মক্ষেত্রগুলোতে ইত্যাদি । তবে আমরা ছাত্র রাজনীতির ছত্রছায়া এইক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ বলে ধরে নিয়েছিলাম । তাই বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাঙ্গন থেকে কয়েকটি ছোট ছোট গ্রুপ বানিয়ে আমরা ছড়িয়ে দেই পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোতে আর ঢাকাতে । সেই গ্রুপগুলোর কাজ শুধুমাত্র কভার দেওয়া । অবশ্যই এখানে অনেক টাকার ব্যাপার-স্যাপার ছিল । আপনার ছেলে এমনই একটা গ্রুপের সাথে রাঙ্গামাটি গিয়েছিল । কিন্তু জানেনই তো, নাক গলানো ব্যাপারটা আমাদের দেশের কোন অংশেই বেশি সহনীয় না । রুবেলের গ্রুপের গ্রুপ লিডার ছিল নয়ন । ঐ গ্রুপে রুবেল ছাড়াও আরও ছিল রুবেলের দুই বন্ধু আসাম আর সুহাস । নয়ন রাঙ্গামাটি যাবার পরপরই আমাদের এক কমান্ডারের সাথে বেয়াদবি করে আর পরবর্তীতে সে আর সুহাস মিলে অপারেশন disclose করে দেবার হুমকি দিয়ে বেশি টাকার demand করে বসে । বাধ্য হয়েই নয়ন আর সুহাসকে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে হয় আর আসাম পালানোর চেষ্ঠায় মারা পড়ে । রুবেল হয়তো নিরাপদেই পার হয়ে যেতো যদি সে ঘটনাগুলো চেপে রাখার চেষ্ঠা করতো শুধু । কিন্তু আফসোস, ওর intension এমন কিছুই ছিল না । ভাগ্যক্রমে সে রাঙ্গামাটি থেকে successfully পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আর ঢাকাতে এসে বাড়িতে এসেই আশ্রয় নেয় । এখন আপনি তো পুরো ঘটনাই শুনলেন । এটাও জেনে গেলেন, আমি এখানে একা কেউই না, আমি আমাদের গ্রুপের behalf হয়ে কথা বলছি । আশা করি, কোনোরকম হুমকি আপনার ছেলের কাছ থেকে বা আপনার পরিবার থেকে আসবে না । এখন রাখি । বিদায় ।
লোকটির কথা শেষ হতে না হতেই লোকটি ফোন রেখে দিলো । আলতাফ সাহেব অনেকটা শক্ত হয়ে গেছেন । মিমি আর রুবেল কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি সেখান থেকে উঠে গেলেন আর বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালেন । হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাইরে । ঝুম বৃষ্টি । কেউ কেউ বলে, বৃষ্টিতে দাড়িয়ে কাঁদলে নাকি চোখের পানি দেখা যায় না, বোঝাও যায় না যে কেউ কাঁদছে । কিন্তু কেউ বলে না, কিছু কথা গোপন রাখার চেষ্ঠায় সেগুলো শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে যায় । আলতাফ সাহেব দাড়িয়ে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছেন । অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়, শুনেও না শুনার ভান করতে হয় । এতেই সবার মঙ্গল, এতেই সবাই সুখী হয় । কিন্তু আলতাফ সাহেব কি আদৌ কোনদিন সুখী হতে পারবেন আগের মত ? হয়তো পারবেন, হয়তো না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×