somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টয়লেট কিংবা বাথরুম ব্যবহার রুচির বহিঃপ্রকাশও নির্দেশ করে । এমন কিছু কি করা উচিৎ যা নিজের সাথে সাথে নিজের পরিবারের মান-সম্মানকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে ?? X( X((

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা ভাষায় সম্বোধনের ধরন তিনটি । "আপনি", "তুমি" এবং "তুই" । আমাদের দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজির ক্ষেত্রে অবশ্য সম্বোধন একটিই "YOU" । ইংরেজিতে যেমন YOU লিখলেই তুমি, তুই, আপনি সবই বুঝায় কিন্তু এর কারণে কনফিউশনে তৈরিও হয় ভীষণ । বাংলা ভাষায় এই কনফিউশন তৈরি হয়না । আমরা বাঙালিরা অবশ্য এসব কনফিউশনের ধার ধারি না । আমাদের কাছে সম্বোধনগুলো শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র ।

হঠাৎ করে কোন ছেলের যদি কোন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়, হোক সে সমবয়সী কিংবা বয়সে বড়, সরাসরি আপনি সম্বোধনটা চলেই আসে । অবশ্য বয়সে ছোট হলে তুমি বলতেও সময় লাগে না । এরপর সময়ের পরাক্রমে এই আপনিগুলো সব তুমি হয়ে যায় । তবে তুই সম্বোধনটা কখনই আসে না এইক্ষেত্রে । মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই । আসলে আমার এতগুলো কথা বলার অর্থ সম্বোধন নিয়ে কাহিনী লেখা নয় বরং একটা উপদেশমূলক কথা বলার জন্য ।

যারা বাড়ির বাইরে বিভিন্ন প্রয়োজনে হোস্টেলগুলোতে কিংবা মেসগুলোতে থাকে, পড়াশুনার কাজে ভার্সিটির হলগুলোতে থাকে তারা ভালোকরেই জানে টয়লেট কি ধরনের বিড়ম্বনার ব্যাপার । এমনকি এই টয়লেটের সাথে যুক্ত হয় বাথরুমের ব্যাপারটাও । এই বিষয়টা অবশ্য ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই সত্য । অনেকে মিলে একসাথে এক জায়গায় থাকার কারণে এবং বিভিন্ন জায়গার মানুষের মানুসিকতা বিভিন্নরকম হওয়ার কারণে এই টয়লেট ও বাথরুম দিয়েও মানুষের রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে । বাথরুম ব্যবহার করে অযথা নোংরা করা, টয়লেটে ঠিকমত পানি না দেওয়া কিংবা পানি দিতে কৃপণতা করা ইত্যাদি আরও গভীরের কথা নাইবা বলি । এই বিষয়টা অবশ্য রাস্তাঘাটে পাবলিক টয়লেটগুলোতেও দেখা যায় । সেখানে টাকা দিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হয় বলে নানান কিসিমের মানুষ নানানভাবে সেই টয়লেটের ব্যবহার-সদ্ব্যবহার করে । কেউ কেউ আবার ইচ্ছা করেই টয়লেট নোংরা করে চলে আসে, যেন টাকা দিয়ে সে পুরোপুরি টয়লেটের মালিকই হয়ে গেছে । এই কথাগুলো আমরা সবাই কমবেশি জানি ।

কিন্তু সমস্যা আরও আছে । আমাদের মধ্যে অনেক শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষ সেই ব্যাপারের বিরোধিতা করার চেষ্ঠা করে । এদেরকে সাধারণ সচেতন নাগরিকের ক্যাটাগরিতে ফেলানো যায় । তবে এই সচেতন নাগরিকগুলোই আবার সেই কাজের বিরোধিতা করতে গিয়ে নানানভাবে সেই বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে । টয়লেটের গায়ে গালাগালি, তুই-তোকারি করে তিরস্কার, মা-বাবাকে নিয়ে অতি অশ্লীলকথা বলা, এমনকি বোন-বউ-কন্যা নিয়েও বাজে কথা বলতে ছাড়ে না এই সচেতন নাগরিকের ক্যাটাগরির লোকজন । কতটা আজব এই ঘটনা !!! আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, আমি হয়তো পাবলিক টয়লেটের কথা বলছি । জী না, আমি হোস্টেল কিংবা মেস কিংবা হলের টয়লেটেও এমন অনেক লেখা নিজের স্বচক্ষে দেখেছি । আমি নিজেও অবাক হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এত উঁচু একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হয়েও কিভাবে লিখতে পারে এই অশ্লীল কথাগুলো এরা !!! আমি মানছি যে যারা বাথরুম কিংবা টয়লেট নোংরা করে, এরা খারাপ । তাহলে এই সচেতন নাগরিক ক্যাটাগরির মানুষগুলো কি মশাই ? এরা তো শুধু খারাপ না জঘন্য ।

আমার নিজের সাথে হয়েছে এমন একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করি তাহলে । আমি একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলের চারতলায় থাকি । এই চারতলা অন্যান্য তলাগুলোর চেয়ে নতুন আর বেশ ছিমছাম । প্রথম যখন হলে উঠি তখন এক-দুই বছর কোন ঝামেলা নেই । ২ বছর শেষ হতে না হতেই এক ব্যাচের কয়েকজন নেমে যেয়ে যখন নতুন ব্যাচের কয়েকজন উঠলো, তখনই খেয়াল করলাম টয়লেট বেশ নোংরা হচ্ছে । মোটামুটি কে এটা নিয়মিত করছে, এটা বুঝা না গেলেও আমরা চারতলার করিডরের সবাই একদিন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একে অন্যকে এই কাজটি করতে মানা করে দিলাম । ফলস্বরূপ বেশ কয়েকদিন টয়লেট আর নোংরা হলো না । কিন্তু আবার কয়েকদিন পরে যা তাই । একজন অভিনব এক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করলো । সে করলো কি কাগজে খুব জ্ঞানী জ্ঞানী ভাষায় "তুই কি বলদ ? তুই কি শিক্ষিত না ? তুই কি ভার্সিটির স্টুডেন্ট না ? যদি শিক্ষিত হয়ে থাকিস তাহলে পানি দিয়ে যা ভালোভাবে" ইত্যাদি লিখে তিনটি টয়লেটের দরজায় লাগিয়ে দিলো । একবার ভাবুন তো, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের টয়লেটের দরজায় এমন কাগজও লাগানোর প্রয়োজন হলো !!! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় তো সিনিয়র-জুনিয়রের আখড়া । এখানে তো যাকে তাকে তুই-তোকারি করা যায় না ইচ্ছা হলেও । ফলস্বরূপ দেখা গেলো, পরেরদিনই কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নিয়ে সেই কাগজ ছিঁড়ে ফেলা হলো । এরপর ধীরে ধীরে টয়লেটগুলোও অপরিস্কার হওয়া কমে গেলো নিয়মিত হলের টয়লেট পরিস্কার করা মামাদের কল্যাণে ।

সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষিত যে ব্যক্তি অপরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কাজটি করলো, তার কি নিজের তুই-তোকারি করাটা ঠিক হয়েছিল ? সে যদি ভদ্রভাবে কথাগুলো উপস্থাপন করতো, খুব কি ক্ষতি হতো ? এভাবেই আমরা অপরকে শিক্ষিত করে তুলতে গিয়ে নিজেরা অশিক্ষিত হয়ে যায়, যা খুবই দুঃখজনক । পরবর্তীতে আমি অন্য আরেকটি ক্ষেত্রে এই "আপনি" সম্বোধন করে পরীক্ষা করেছিলাম যে ফল আসে কি না । আশ্চর্যরকম ফল পেয়েছি আমি হাতেনাতে । সে গল্প না হয় আজ থাক ।

টয়লেট কিংবা বাথরুম ব্যবহার রুচির বহিঃপ্রকাশের একটি অংশ । আপনার পরিবারেরও পরিচয় মেলে এই ক্ষেত্রে । কি দরকার শুধু শুধু নিজের সাথে সাথে পরিবারকেও বদনাম করা ?? একবার ভেবে দেখুন তো ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×